» নিচ/হেয়/নির্বোধ ব্যক্তি= আস্তাকুঁড়ের পাতা,
» অনভিজ্ঞ= কেবলা হাকিম,
» নির্বোধ বিচারক= ঘটিরাম।
বিগত সালের প্রশ্ন ও প্রশ্ন ব্যাংক
বিসিএস, ব্যাংক, প্রাথমিক শিক্ষক ও সকল সরকারি চাকরির বিগত সালের প্রশ্ন ও অধ্যায়ভিত্তিক নির্ভুল সমাধান
- 'কেউ কেটা' বা 'কেউকেটা' বাগধারাটির অর্থ সামান্য বা নগণ্য ব্যক্তি। সাধারণত নেতিবাচক অর্থে এটি ব্যবহৃত হয়। তবে অনেক ক্ষেত্রে 'কেউকেটা' বলতে গণ্যমান্য বা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকেও ব্যঙ্গার্থে বোঝানো হয়। প্রশ্নে প্রদত্ত অপশন অনুযায়ী এর উপযুক্ত অর্থ 'সামান্য'।
• উদাহরণ: সে কি এমন কেউকেটা যে তাকে ভয় পেতে হবে!
∎ বিভিন্ন পরীক্ষা আসা গুরুত্তপুর্ণ বাগধারাঃ
- ‘কোলাব্যাঙ’ বাগধারাটির অর্থ বাকসর্বস্ব। অর্থাৎ যে ব্যক্তি কেবল বড় বড় কথা বলে বা বকবক করে কিন্তু কাজের বেলায় কিছু করে না। কোলাব্যাঙ যেমন বর্ষায় কেবল জোরে ডাকতে থাকে কিন্তু এর দ্বারা বিশেষ কোনো কাজ হয় না, সেখান থেকে এই বাগধারাটির উৎপত্তি।
• উদাহরণ: তার মতো কোলাব্যাঙ সমাজের কোনো কাজে আসবে না।
- 'কংস মামা' বাগধারাটির অর্থ নির্মম আত্মীয়।
∎ বিভিন্ন পরীক্ষা আসা গুরুত্তপুর্ণ বাগধারাঃ
» উটকো লোক – অচেনা লোক/হঠাৎ অবাঞ্ছিতভাবে এসে
» ঊনকোটি চোষট্টি – প্রায় সম্পূর্ণ।
» ঊনপাঁজুরে – অপদার্থ।
» ঊরুস্তম্ভ – ফোঁড়া জাতীয় রোগ
» ঊর্মিমালী – সমুদ্র
» এলেবেলে – নিকৃষ্ট।
» এক ছাঁচে ঢালা – সাদৃশ্য।
» একাদশ বৃহস্পতি – মহাসৌভাগ্য/ সৌভাগ্যের লক্ষণ।
» একা দোকা – নিঃসঙ্গ
- কলির সন্ধ্যা - দুঃখের সূচনা /দৌরাত্ম্যের শুরু।
- কূর্ম অবতার - অলস।
- কুনো ব্যাঙ - সীমিত জ্ঞান
- কুম্ভীরাশ্রু - লোক দেখানো কান্না।
- 'কাঁচা পয়সা' বাগধারাটির অর্থ নগদ উপার্জন বা সহজে লব্ধ আয়।
- এটি মূলত এমন আয়কে বোঝায় যা নগদে হাতে আসে।
• উদাহরণ: কাঁচা পয়সার গরমে সে কাউকে পাত্তা দেয় না।
• ভুল অপশনগুলোর ব্যাখ্যাঃ
- কালো টাকা: অবৈধ উপায়ে অর্জিত অর্থ বা সম্পদ।
- ধাতব মুদ্রা: এটি আক্ষরিক অর্থে রূপা বা তামার কয়েনকে বোঝায়।
- বিত্তের অহঙ্কার: এর অর্থ ধন-সম্পদের কারণে সৃষ্ট গর্ব বা অহমিকা।
- 'কুল কাঠের আগুন' বাগধারাটির প্রকৃত অর্থ তীব্র জ্বালা বা দীর্ঘস্থায়ী মনঃকষ্ট।
- কুল বা বরই গাছের কাঠ পোড়ালে তা অনেকক্ষণ ধরে ধিকধিক করে জ্বলে, সহজে নেভে না। এই দীর্ঘস্থায়ী দহন থেকেই মানসিক তীব্র জ্বালা বোঝাতে বাগধারাটি ব্যবহৃত হয়।
• উদাহরণ: সন্তানের বিপদের কথা শুনে মায়ের বুকে কুল কাঠের আগুন জ্বলছে।
⇒ ‘কান পাতলা’ অর্থ বিশ্বাসপ্রবণ।
⇒ এর আক্ষরিক অর্থ কানের চামড়া পাতলা হওয়া নয়, বরং এর অন্তর্নিহিত অর্থ হলো— যে ব্যক্তি অন্যের কথা সহজেই বিশ্বাস করে ফেলে।
⇒ যাচাই-বাছাই না করে অন্যের কথায় প্রভাবিত হয়ে যাওয়া বা কানকথায় বিশ্বাস করা মানুষকেই বাগধারার ভাষায় ‘কান পাতলা’ বলা হয়, যাকে এককথায় ‘বিশ্বাসপ্রবণ’ বলা যায়।
- 'কিলিয়ে কাঁঠাল পাকানো' বাগধারাটির অর্থ জোর করে কাজের উপযোগী করা বা অপরিপক্ব বস্তুকে জোরপূর্বক পরিণত করার চেষ্টা।
- প্রাকৃতিকভাবে যা সময়মতো হওয়ার কথা, তা জোর করে আগে করার ব্যর্থ বা ক্ষতিকর চেষ্টাকে এটি নির্দেশ করে।
• উদাহরণ: তাকে দিয়ে এই কঠিন দায়িত্ব পালন সম্ভব নয়, কিলিয়ে কাঁঠাল পাকানোর চেষ্টা করে লাভ নেই।
- 'কুবেরের ভান্ডার' বাগধারাটির অর্থ হলো অফুরন্ত ঐশ্বর্য।
- হিন্দু পুরাণ অনুসারে কুবের হলেন ধনের দেবতা। তাঁর ভান্ডার মানে তাঁর ধনভান্ডার, যা অসীম ও অফুরন্ত। তাই 'কুবেরের ভান্ডার' বাগধারাটি প্রচুর সম্পদ, অসীম ঐশ্বর্য বা অফুরন্ত ধনসম্পদ বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
নতুন করে আরম্ভ করা
ব্যাখ্যা:
- 'কেঁচোগণ্ডূষ' বা 'পুনর্মূষিকো ভব' বাগধারাটির অর্থ নতুন করে আরম্ভ করা বা গোড়া থেকে শুরু করা।
- যখন কোনো কাজ ভুল হওয়ার কারণে একেবারে প্রথম থেকে শুরু করতে হয়, তখন এই বাগধারাটি ব্যবহৃত হয়।
অগভীর সতর্ক নিদ্রা
ব্যাখ্যা:
- 'কাক নিদ্রা' একটি বিশিষ্টার্থক শব্দ বা বাগধারা যার শাব্দিক অর্থ কাকের মতো ঘুম।
- কাক খুব সতর্ক পাখি, ঘুমানোর সময়ও সামান্য শব্দে বা নড়াচড়ায় জেগে ওঠে।
- এই স্বভাবের সাথে তুলনা করে, যে ঘুমে মানুষ খুব সহজেই জেগে ওঠে বা সজাগ থাকে তাকে 'কাক নিদ্রা' বলা হয়।
- এই বাগধারাটির আলংকারিক অর্থ হলো অগভীর সতর্ক নিদ্রা বা পাতলা ঘুম।
'কচুবনের কালাচাঁদ ' বাগধারার অর্থ অপদার্থ ।
» আপকেওয়াস্তে / খয়ের খাঁ / যো হুকুম -চাটুকার ;
» অগাকাণ্ড / অঘাচণ্ডি / অঘারাম - নির্বোধ /বোকা ;
» বাস্তুঘুঘু -অতি ধূর্তব্যক্তি ।
- 'কৈ মাছের প্রাণ' বাগধারার অর্থ শক্তপ্রাণ/দীর্ঘজীবী।
- 'বকধার্মিক' বাগধারার অর্থ ভন্ড সাধু।
- 'ধামাধরা' বাগধারার অর্থ তোষামোদকারী। ।
- ধর্মের ষাঁড়' বাগধারাটির অকর্মণ্য
চিনির বলদ > নিষ্ফল পরিশ্রম,
জিলাপির প্যাঁচ > কুটিল বুদ্ধি,
ঠোঁট কাটা > স্পষ্টবাদী।
গুরুত্বপূর্ণ কিছু বাগধারা:
জগদ্দল পাথর - গুরুভার
চক্ষু চড়ক গাছ - বিস্ময়
'গোঁয়ার গোবিন্দ' - কাণ্ডজ্ঞানহীন
'লগন চাঁদা' - ভাগ্যবান
'ভুষণ্ডির কাক' - বিচক্ষণ ব্যক্তি
'উলুখাগড়া' - গুরুত্বহীন লোক
'কাক ভূষণ্ডি ও ভূশণ্ডির কাক দুটি শব্দেরই একই অর্থ -দীর্ঘায়ু ব্যক্তি ।
সাক্ষী গোপাল - নিষ্ক্রিয় দর্শক
পালের গোদা - দলপতি
কুমড়ো কাটা বটঠাকুর - অকর্মণ্য লোক
কাঁঠালের আমসত্ত্ব' বা 'আকাশের চাঁদ' বাগধারার অর্থ বিরল বস্তু/অসম্ভব ব্যাপার ।
- উজানের কৈ' বাগধারারটির অর্থ সহজল্ভ্য ।
শুকনো হাসি
ব্যাখ্যা:
- 'কাষ্ঠ হাসি' বাগধারাটির প্রকৃত অর্থ শুকনো হাসি বা প্রাণহীন হাসি।
- যখন কেউ আনন্দিত না হয়েও কৃত্রিমভাবে বা জোর করে হাসে, তখন তাকে কাষ্ঠ হাসি বলা হয়।
'কাছা ঢিলা ' বাগধারাটির অর্থ অসাবধান ।
কান পাতলা =সহজেই বিশ্বাসপ্রবণ
কাঠের পুতুল =নির্জীব
কেউ কেটা -সামান্য
ফাঁকি দেওয়া
ব্যাখ্যা:
- 'কলা দেখানো' একটি সুপরিচিত বাংলা বাগধারা। এর প্রকৃত অর্থ হলো ফাঁকি দেওয়া বা ধোঁকা দেওয়া।
- যখন কেউ কোনো প্রতিশ্রুতি দিয়ে শেষ পর্যন্ত তা পূরণ করে না বা বোকা বানিয়ে চলে যায়, তখন এই বাগধারাটি ব্যবহৃত হয়।
• উদাহরণ: পাওনাদারকে কলা দেখিয়ে লোকটি গ্রাম ছাড়ল।
গুরুত্তপুর্ণ কয়েকটি বাগধারা-
বিড়াল তপস্বী - ভন্ড
- একচোখা বাগধারাটির অর্থ হলো পক্ষপাতদুষ্ট বা যে ব্যক্তি এক পক্ষের প্রতি পক্ষপাতিত্ব করে।
- বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুযায়ী এর অর্থ পক্ষপাতী বা একঝোঁকা।
• ঊনপঞ্চাশ বায়ু অর্থ- পাগলামি/ বদমেজাজ।
• কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাগধারা:
'টেকে গোঁজা' - পকেট ভারী করা।
ব্যাঙ্গের আধুলি’ - অর্থের অহংকার।
'মাছি মারা কেরানি’ - বিচারবোধহীন নকলনবিশ।
'লেজে খেলানো' - বশীভূত করা।
'বাপের ঠাকুর’ - উচ্ছন্নে যাওয়া।
'হালে পানি পাওয়া - বিপদমুক্ত হওয়া।
'পঞ্চত্বপ্রাপ্তি’ - মারা যাওয়া।