আদায়-কাঁচকলায় বাগধারাটির অর্থ: তিক্ত সম্পর্ক, শত্রুতা।
বিগত সালের প্রশ্ন ও প্রশ্ন ব্যাংক
বিসিএস, ব্যাংক, প্রাথমিক শিক্ষক ও সকল সরকারি চাকরির বিগত সালের প্রশ্ন ও অধ্যায়ভিত্তিক নির্ভুল সমাধান
'আষাঢ়ে গল্প' বাগধারাটির অর্থ হলো আজগুবি কাহিনী, ভিত্তিহীন কথা বা গাঁজাখুরি গল্প।
• উদাহরণ:
তোমার এসব আষাঢ়ে গল্প শোনার সময় আমার নেই, আসল কথা বলো।
'আকাশে তোলা' বাগধারাটির অর্থ হলো অতিরিক্ত প্রশংসা করা বা অহেতুক গুণকীর্তন করে কাউকে প্রশ্রয় দেওয়া।
• উদাহরণ:
সামান্য একটা কাজ করেছে বলেই তাকে একেবারে আকাশে তোলার কোনো কারণ নেই।
'আকাশ পাতাল' বাগধারাটির অর্থ হলো প্রচুর ব্যবধান বা বিশাল পার্থক্য।
• উদাহরণ:
তাদের দুই ভাইয়ের স্বভাবের মধ্যে আকাশ পাতাল তফাত।
'আঙুল ফুলে কলাগাছ' বাগধারাটির অর্থ হলো হঠাৎ ধনী হওয়া বা অপ্রত্যাশিতভাবে বিত্তশালী হওয়া।
‘আকাশ কুসুম’ শব্দের অর্থ ‘অলীক ভাবনা’ বা ‘অসম্ভব কল্পনা’।
'আট প্রহর' বা 'অষ্টপ্রহর' বাগধারাটির অর্থ হলো সারা দিনরাত বা সর্বক্ষণ। দিনের চার প্রহর ও রাত্রির চার প্রহর মিলিয়ে একত্রে আট প্রহর বা সমস্ত দিবা ও রাত্রি বোঝানো হয়।
‘আগড়ম বাগড়ম' বাগধারাটির অর্থ হলো অর্থহীন কথা, আবোলতাবোল বকা বা অসংলগ্ন কথাবার্তা।
• ভুল অপশনগুলোর ব্যাখ্যাঃ
- বেফাঁস কথা: না ভেবে বলা কথা।
- সুন্দর কথা: এটি প্রাসঙ্গিক নয়।
- রাগের কথা: এর সাথে আগড়ম বাগড়মের কোনো সম্পর্ক নেই।
‘আঁতে ঘা' বাগধারাটির প্রকৃত অর্থ হলো মনে কষ্ট, মূলে আঘাত দেওয়া বা কারো দুর্বল স্থানে আঘাত করে মর্মান্তিক কষ্ট দেওয়া।
• ভুল অপশনগুলোর ব্যাখ্যাঃ
- বেফাঁস কথা: এর অর্থ গোপন কথা বলে ফেলা।
- বিশ্বাসঘাতকতা: এর অর্থ বোঝাতে 'ঘরের শত্রু বিভীষণ' বা 'বুকের রক্ত খাওয়া' ব্যবহৃত হয়।
- ষড়যন্ত্র: এর অর্থ বোঝাতে 'জিলিপির প্যাঁচ' ব্যবহৃত হতে পারে।
» নিচ/হেয়/নির্বোধ ব্যক্তি= আস্তাকুঁড়ের পাতা,
» অনভিজ্ঞ= কেবলা হাকিম,
» নির্বোধ বিচারক= ঘটিরাম।
- 'অবরে সবরে' বাগধারাটির সঠিক অর্থ হলো 'কালে-ভদ্রে' বা কালে ভাদ্র।
- বাগধারা বা বাগবিধি হলো এমন শব্দ বা শব্দগুচ্ছ যা আক্ষরিক অর্থের বাইরে বিশেষ বা আলংকারিক অর্থ প্রকাশ করে।
• ভুল অপশনগুলোর ব্যাখ্যাঃ
- বেফাঁস কথা: এটি 'অবরে সবরে' বাগধারার অর্থ নয়। এর জন্য 'কথার কথা' বা 'আজেবাজে কথা' ব্যবহৃত হতে পারে।
- বিশ্বাসঘাতকতা: এর সমার্থক বাগধারা হলো 'ঘরের শত্রু বিভীষণ' বা 'খন্দকার'।
- ষড়যন্ত্র: এর সমার্থক বাগধারা হলো 'ঘোঁট পাকানো' বা 'জিলাপির প্যাঁচ'।
• 'অন্ধি সন্ধি' বাগধারাটির অর্থ - গোপন তথ্য।
কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বাগধারা হলো:
• ‘আঠারো আনা’ বাগ্ধারাটির অর্থ - বাড়াবাড়ি।
- অন্ধের যষ্ঠি = একমাত্র অবলম্বন
- অষ্টরম্ভা = ফাঁকি
- হরি ঘোষের গোয়াল = বহু অপদার্থ ব্যক্তির সমাবেশ
- হ য ব র ল = বিশৃঙ্খল
- 'অকট বিকট' বাগধারাটির অর্থ হলো ছটফটানি বা অস্থিরতা।
- এটি মানসিক বা শারীরিক অস্বস্তিকর অবস্থাকে নির্দেশ করে।
• ভুল অপশনগুলোর ব্যাখ্যাঃ
- গাছের বাকল: এর সাথে বাগধারার কোনো সম্পর্ক নেই।
- তাড়াতাড়ি: এর সমার্থক বাগধারা হলো 'তড়িঘড়ি'।
- অপটু: এর সমার্থক বাগধারা 'অকাল কুষ্মাণ্ড' বা 'গোবর গণেশ' হতে পারে।
» অযথা বাড়ানো= এককে একুশ করা।
» অপ্রত্যাশিত বাধা= অকালে বাদলা,
» দুর্লভ বস্তু= আলেয়ার আলো।
- অজগর বৃত্তি বা গজেন্দ্রগমন বা গদাই লস্করি চাল বাগধারার অর্থ মৃদু মন্থর গমন বা আলসেমি।
- ভেড়ার পাল- অন্ধ অনুকরণ;
- খণ্ড প্রলয়- তুমুল কাণ্ড।
- ‘অন্ধকার দেখা’ বাগধারার অর্থ- হতবুদ্ধি ।
- অগ্নিপরীক্ষা- কঠিন পরীক্ষা;
- অথৈ জল'- ভীষণ বিপদ।
- অন্তর টিপুনী এর অর্থ- গোপন ব্যথা
আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বাগধারা:
» এক ঢিলে দুই পাখি মারা - এক প্রচেষ্টায় উভয় উদ্দেশ্য সাধন করা
» এসপার ওসপার - মীমাংসা
» এক মাঘে শীত যায় না - পুনরায় বিপদ ঘটার সম্ভাবনা
» এলেবেলে - বাজে/ নিকৃষ্ট
» এলোপাতাড়ি/এলোপাথাড়ি/এলোধাবাড়ি - এলোমেলোভাবে/বিশৃঙ্খলভাবে
» ওজন বুঝে চলা - আত্মমর্যাদা
- ‘উজানের কৈ' বাগধারার অর্থ সহজলভ্য।
- এলাহি কাণ্ড- বিরাট আয়োজন;
- উনিশ-বিশ- সামান্য পার্থক্য;
- অকাল কুষ্মাণ্ড / আমড়া কাঠের ঢেঁকি / ঊনপাঁজুরে / কচু বনের কালাচাঁদ / ঘটিরাম / ঢেঁকির কুমির / ধর্মের ষাঁড় / নালায়েক প্রভৃতি বাগধারার অর্থ- অপদার্থ।
- প্রদত্ত বাক্যে 'অকাল কুষ্মাণ্ড' শব্দগুচ্ছটি বাগধারা হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। এর বাংলা একাডেমি অভিধান অনুযায়ী অর্থ হলো অপদার্থ বা অকেজো।
- এখানে 'অকাল কুষ্মাণ্ড' বলতে আক্ষরিক অর্থে অসময় বা কুমড়ো না বুঝিয়ে একটি বিশেষ অর্থ (অপদার্থ) বোঝানো হয়েছে, যা বাগধারার মূল বৈশিষ্ট্য।
• উদাহরণ: অকাল কুষ্মাণ্ড ছেলেটিকে দিয়ে এ কাজ হবে না।
সর্বনাশ বোঝাতে 'ভরাডুবি' বাগধারাটি ব্যবহ্নত হয়। অন্যদিকে অরাজক দেশ বোঝাতে 'মগের মুল্লূক' বড় রকমের চুরি বোঝাতে 'পুকুর চুরি' এবং অস্থায়ী বস্তু বোঝাতে 'বালির বাঁধ' বাগধারাগুলো ব্যবহ্নত হয়।