আজীজন নেহার (১৮৭৪) — মীর মশাররফ হোসেনের সম্পাদনায় প্রকাশিত পত্রিকা; তাঁর প্রথম স্ত্রীর নামে পত্রিকাটির নামকরণ করা হয়। উল্লেখযোগ্য পত্রিকা ও সম্পাদক: সবুজপত্র (১৯১৪) — প্রমথ চৌধুরী সওগাত (১৯১৮) — মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন কল্লোল (১৯২৩) — দীনেশরঞ্জন দাস লাঙল (১৯২৫) — কাজী নজরুল ইসলাম দৈনিক আজাদ (১৯৩৫) — মোহাম্মদ আকরম খাঁ দৈনিক নবযুগ (১৯৪১) — কাজী নজরুল ইসলাম
কাজী নজরুল ইসলাম — ‘লাঙল’ (১৯২৫) সাপ্তাহিক পত্রিকার সম্পাদক; এটি ‘শ্রমিক প্রজা স্বরাজ সম্প্রদায়’-এর মুখপত্র। তাঁর সম্পাদিত অন্যান্য পত্রিকা ‘ধূমকেতু’ ও ‘দৈনিক নবযুগ’।
প্রগতি লেখক সংঘ — ১৯৩৯ সালে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত সাহিত্য সংগঠন। এর মুখপত্র ‘ক্রান্তি’ (১৯৪০); প্রথম সম্পাদক ছিলেন রণেশ দাশগুপ্ত। ১৯৩৫ সালে লন্ডনে সৈয়দ সাজ্জাদ জহির ও মুলক রাজ আনন্দ ‘ভারতীয় প্রগতি লেখক সংঘ’ গঠন করেন।
সংবাদ প্রভাকর (১৮৩১) — প্রথমে সাপ্তাহিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়। ১৮৩৬ সালে পুনঃপ্রকাশিত হয়ে ১৮৩৯ সালে বাংলা ভাষার প্রথম দৈনিক পত্রিকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় — ‘আরোগ্য নিকেতন’ (১৯৫৩) উপন্যাসটি ১৯৫২ সালে শারদীয় ‘আনন্দবাজারে’ ‘সঞ্জীবন ফার্মেসী’ নামে প্রথম প্রকাশিত হয়। তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস ‘গণদেবতা’ (১৯৪৩) ও ‘পঞ্চগ্রাম’ (১৯৪৪)।
প্রেমেন্দ্র মিত্র (১৯০৪) — কাশীতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি প্রথম ‘কল্লোল’ পত্রিকায় কাজ করেন; পরে ‘বাংলার কথা’, ‘বঙ্গবাণী’ ও ‘সংবাদ’ পত্রিকার সম্পাদকীয় বিভাগে কাজ করেন।
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় — ‘পদ্মা নদীর মাঝি’ (১৯৩৬) উপন্যাসটি ১৯৩৪ সাল থেকে ‘পূর্বাশা’ পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়। তাঁর প্রথম গল্প ‘অতসী মামি’, যা ‘বিচিত্রা’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
বন্দে আলী মিয়া — কবি, ঔপন্যাসিক ও শিশুসাহিত্যিক। শিশুতোষ গ্রন্থ: চোর জামাই (১৯২৭), ডাইনী বউ (১৯৫৯)। তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬২) ও প্রেসিডেন্ট পুরস্কার (১৯৭৯) লাভ করেন।
কাজী আবদুল ওদুদ — ১৯২৬ সালের বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের অন্যতম উদ্যোক্তা। তাঁর সম্পাদিত পত্রিকা ‘সংকল্প’; সমাজ ও সাহিত্যবিষয়ক প্রবন্ধগ্রন্থ: কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ, শাশ্বতবঙ্গ, নজরুল প্রতিভা।
বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন — ধর্মীয় ও সামাজিক কুসংস্কারবিরোধী প্রগতিশীল আন্দোলন। ১৯২৬ সালে আবুল হুসেনের নেতৃত্বে ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ’ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এ আন্দোলন সংগঠিত হয়। এর মুখপত্র ছিল ‘শিখা’; মূল লক্ষ্য ছিল মুসলিম সমাজের ধর্মান্ধতা, কুসংস্কার ও কুপ্রথা দূর করা।
আবুল কালাম শামসুদ্দীন — ১৯৪০–১৯৬২ সাল পর্যন্ত ২২ বছর ‘দৈনিক আজাদ’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ: কচিপাতা, অনাবাদী জমি, ত্রিস্রোতা, খরতরঙ্গ, ইলিয়ড, পলাশী থেকে পাকিস্তান, অতীত দিনের স্মৃতি।
লাঙল (১৯২৫) — কাজী নজরুল ইসলামের সম্পাদনায় প্রকাশিত সাপ্তাহিক পত্রিকা। ১৬ ডিসেম্বর ১৯২৫ কলকাতা থেকে প্রকাশিত এ পত্রিকা ‘শ্রমিক প্রজা স্বরাজ সম্প্রদায়’-এর মুখপত্র ছিল; ছাপা হতো মণিভূষণ মুখোপাধ্যায়ের নামে।