- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের নিদর্শন 'চর্যাপদ' ১৯০৭ সালে নেপালের রাজদরবার থেকে আবিষ্কৃত হয় ।
- ১৯১৬ সালে ' বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ' থেকে চর্যাপদের পুঁথিগুলো বই আকারে প্রকাশ পায় ।
- মধ্যযুগের সাহিত্যকর্ম মহাভারত, রামায়ণ ও শ্রীকৃষ্ণকীর্তন- এর রচিয়তা যথাক্রমে- কৃষ্ণদ্বৈপায়ন ব্যাসদেব, বাল্মীকি ও চণ্ডীদাস ।
- বাংলা সাহিত্যে হুমায়ূন আহমেদ কথাসাহিত্যিক হিসেবে সমধিক খ্যাত।
- আধুনিক ঔপন্যাসিকদের মধ্যে তিনি শ্রেষ্ঠ ও সর্বাধিক জনপ্রিয়।
- তাঁর সংলাপপ্রধান গল্প ও উপন্যাসে খুব অল্প বাক্যে তিনি একটি চরিত্র ফুটিয়ে তুলতে পারতেন এবং অতিবাস্তব বিষয়গুলি এমনভাবে অনায়াসে বিশ্বাসযোগ্য করে উপস্থাপন করতেন যেন মনে হয় যাদু বাস্তবতা।
- হুমায়ূন আহমেদ ১৩ নভেম্বর, ১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দে কৃষ্ণপক্ষের শনিবার রাত ১০.৩০ মিনিটে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। পৈতৃক নিবাস নেত্রকোনার কুতুবপুর।
- তাঁর ডাক নাম কাজল। পিতৃপ্রদত্ত নাম শামসুর রহমান।
- কথাসাহিত্যিক জাফর ইকবাল ও কার্টুনিস্ট আহসান হাবীব তাঁর ভাই।
- তিনি পলিমার কেমিস্ট্রি বিষয়ের উপর পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন।
- তিনি ১৯৭৩ সালে ময়মনসিংহের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভৌতরসায়নের প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে ১৯৭৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন বিভাগে যোগ দেন।
- বাংলা কল্পবিজ্ঞান সাহিত্যের পথিকৃৎ হুমায়ূন আহমেদ। 'তোমাদের জন্য ভালোবাসা' (১৯৭৩) প্রথম বাংলা কল্পবিজ্ঞান সাহিত্য।
- হুমায়ুন আহমেদ এর সৃষ্ট লজিক ও অ্যান্টি লজিক নিয়ে কাজ করা দুটি অমর চরিত্র মিসির আলী ও হিমু। মিসির আলী বাস্তববাদী, যুক্তিনির্ভর ও রহস্যময় চরিত্র।
- মিসির আলী চরিত্রের প্রথম উপন্যাস 'দেবী' (১৯৮৫)। হিমুর আসল নাম হিমালয়। পকেটবিহীন হলুদ পাঞ্জাবী তার পোশাক। নব্বইয়ের দশকে 'ময়ূরাক্ষী' (১৯৯০) উপন্যাসের মধ্য দিয়ে হিমুর আত্মপ্রকাশ।
- গাজীপুরের 'নুহাশ পল্লী' তাঁর নির্মিত বাগানবাড়ি।
- তিনি 'বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার' (১৯৮১), 'একুশে পদক' (১৯৯৪) লাভ করেন।
- তিনি ১৯ জুলাই, ২০১২ খ্রিষ্টাব্দে ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত হয়ে নিউইয়র্কে মৃত্যুবরণ করেন। নুহাশ পল্লীতে তাঁকে সমাহিত করা হয়।
- তার উপন্যাস সমূহঃ নন্দিত নরকে (১৯৭২), কে কথা কয় (২০০৬), কোথাও কেউ নেই (১৯৯২), 'দেয়াল' (২০১২): এটি রাজনৈতিক উপন্যাস ।(সর্বশেষ উপন্যাস)
'আমার আছে জল' (১৯৮৫), 'নিশিথিনী' (১৯৮৭), 'সম্রাট' (১৯৮৮), 'রজনী' (১৯৮৯), 'বহুব্রীহি' (১৯৯০), 'এইসব দিনরাত্রি' (১৯৯০), 'ময়ূরাক্ষী' (১৯৯০), 'অয়োময়' (১৯৯০), 'শ্রাবণ মেঘের দিন' (১৯৯৪), 'গৌরিপুর জংশন' (১৯৯৫), 'কবি' (১৯৯৬), 'দূরে কোথাও' (১৯৯৭), 'ইস্টিশন' (১৯৯৯), 'বৃষ্টিবিলাস' (২০০০), 'নক্ষত্রের রাত' (২০০৩), 'এপিটাফ' (২০০৪), 'লীলাবতী' (২০০৫), 'মধ্যাহ্ন' (২০০৮) ইত্যাদি।
- তাঁর আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থসমূহঃ আমার ছেলেবেলা (১৯৯১), বলপয়েন্ট (২০০৯), কাঠপেন্সিল (২০১০), রংপেন্সিল (২০১১), লীলাবতীর মৃত্যু (২০১৪)।
তার কয়েকটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসঃ
- জোছনা ও জননীর গল্প (২০০৪),
- শ্যামল ছায়া (২০০৩),
- আগুনের পরশমণি (১৯৮৬),
- নির্বাসন,
- সৌরভ,
- সূর্যের দিন।
- রশীদ করীম বাংলা সাহিত্যের এক বিশিষ্ট কথাশিল্পীর নাম।
- তিনি ১৪ আগস্ট, ১৯২৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- রশীদ করীমের 'উত্তম পুরুষ' উপন্যাস দেশভাগপূর্ব বাঙালি মুসলিম সমাজের বিশ্বস্ত দলিল।
- তাঁর রচিত 'আমার যত গ্লানি' আর 'মায়ের কাছে যাচ্ছি' উপন্যাস যেন মহান মুক্তিযুদ্ধের মহাকাব্যিক দলিল।
- তাঁর রচিত প্রথম গল্প 'আয়েশা' ১৯৪২ সালে 'সওগাত' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- ১৯৬১ সালে তিনি আদমজী পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৭২ সালে তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে একুশে পদক প্রদান করে।
- ২০১১ সালের ২৬ নভেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
উপন্যাস:
- উত্তম পুরুষ (১৯৬১)
- প্রসন্ন পাষাণ (১৯৬৩)
- আমার যত গ্লানি (১৯৭৩)
- প্রেম একটি লাল গোলাপ (১৯৭৮)
- সাধারণ লোকের কাহিনী (১৯৮১)
- একালের রূপকথা (১৯৮১)
- শ্যামা (১৯৮৪)
- বড়ই নিঃসঙ্গ (১৯৮৫)
- মায়ের কাছে যাচ্ছি (১৯৮৯)
- চিনি না (১৯৯০)
- পদতলে রক্ত (১৯৯০), এবং
- লাঞ্চ বক্স (১৯৯৩)
ছোটগল্প: প্রথম প্রেম (১৯৮৪)
প্রবন্ধগ্রন্থ:
- আর এক দৃষ্টিকোণ (১৯৮৯)
- অতীত হয় নূতন পুনরায় (১৯৯২), এবং
- মনের গহনে তোমার মুরতিখানি (১৯৯২)
আত্মজীবনী: জীবন মরণ (১৯৯৯)
∎হাসান হাফিজুর রহমান:
# হাসান হাফিজুর রহমান সাপ্তাহিক 'বেগম' পত্রিকায় ১৯৫২ সালে তিনি তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন।
- এরপর তিনি একাধারে সওগাত (১৯৫৩), ইত্তেহাদ (১৯৫৫-৫৪) ও দৈনিক পাকিস্তান (১৯৬৫) এ সহকারী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং স্বাধীনতার পর দৈনিক বাংলায় সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি নিযুক্ত হন।
- সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি ১৯৫৭-১৯৬৪ সাল পর্যন্ত জগন্নাথ কলেজে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের অধ্যাপক ছিলেন।
- এছাড়াও তিনি ১৯৭৩ সালে মস্কোস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে প্রেস কাউন্সিলর পদে দায়িত্ব পালন করেন।
# ১৯৪৬ সালে তিনি যখন স্কুলছাত্র তখন তার ছোট গল্প “অশ্রুভেজা পথ চলাতে” প্রকাশিত হয় সওগাত পত্রিকায়। এর দুবছর পর ১৯৪৮ সালে সোনার বাংলায় তার প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয়।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে তিনি সক্রিয় অবদান রাখেন।
- একুশের চেতনার ওপর ভিত্তি করে তাঁর কবিতা অমর একুশে প্রকাশিত হয় ১৯৫২ সালেই।
- এটিসহ আরোও কিছু লেখা একত্র করে ১৯৫৩ সালে তিনি তার প্রথম বই একুশে ফেব্রুয়ারী প্রকাশ করেন।
ঊনবিংশ শতাব্দীর বিখ্যাত কবি ও সাহিত্যিক মাইকেল মধুসূদন দত্ত ছিলেন বাংলা কবিতায় প্রথম আধুনিকতার প্রবর্তক ও প্রথম আধুনিক কবি। তিনি প্রথাগত ছন্দ ও অলঙ্কারের ব্যত্যয় ঘটিয়ে পাশ্চাত্য সাহিত্যের অনুকরণে বাংলা কবিতায় প্রথম সনেটের সংযোজন করেন। তাঁর রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সনেট কবিতার নাম ‘বঙ্গভাষা’ । এটি অক্ষরবৃত্ত ছন্দে অষ্টক ও ষটকে বিভক্ত। সনেটে মধুসূদনের প্রবল দেশপ্রেম প্রকাশ পেয়েছে।
তাঁর রচিত নাটক ও প্রহসন
- শর্মিষ্ঠা নাটক (১৮৫৯)
- কৃষ্ণকুমারী নাটক (১৮৬১)
- মায়া-কানন (১৮৭৪)
- একেই কি বলে সভ্যতা? (১৮৬০)
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ (১৮৬০)
- পদ্মাবতী নাটক (১৮৬০)
তাঁর রচিত কাব্য
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য (১৮৬০)
- মেঘনাদবধ কাব্য (১৮৬১)
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী (১৮৬৫)
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য (১৮৬১)
- বীরাঙ্গনা কাব্য (১৮৬২)
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ট্রাজেডি নাটক ‘কৃষ্ণকুমারী’ (১৮৬১)।
- উইলিয়াম টডের ‘রাজস্থান' নামক গ্রন্থ থেকে মধুসূদন এ নাটকের কাহিনী সংগ্রহ করেন।
- মহারাজা প্রতাপসিংহের বংশধর, উদয়পুরাধিপতি মহারাজা ভীমসিংহের দুহিতা কৃষ্ণকুমারীর বিষাদময় জীবনই নাটকের বিষয়বস্তু। চরিত্র: কৃষ্ণকুমারী, মদনিকা, ভীমসিং, বিলাসবতী।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক নাটক 'শর্মিষ্ঠা' (১৮৫৯)।
- দীনবন্ধু মিত্র রচিত প্রহসন ‘সধবার একাদশী' (১৮৬৬) এবং নাটক ‘নীলদর্পণ' (১৮৬০)।
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস 'বাঁধনহারা' (১৯২৭)।
- ১৯২১ সাল থেকে এটি ধারাবাহিকভাবে 'মোসলেম ভারত' পত্রিকায় ছাপা হয়।
- পত্রিকায় প্রকাশিত এ উপন্যাসের কিছু অংশ ১৯২৭ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশের সময় বাদ পড়ে যায়।
- পরবর্তীতে তা খুঁজে পাওয়া গেলে ১৯ মে, ২০০৬ সালে দৈনিক 'প্রথম আলো' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- এ গ্রন্থের পত্র সংখ্যা ১৮টি।
- নুরুর সাথে মাহবুবার প্রণয় এবং বিয়ের উদ্যোগ অনেক এগিয়ে গেলে হঠাৎ নুরু পালিয়ে গিয়ে সৈনিক জীবন গ্রহণ করে। অনেকের মতে, এ উপন্যাসের নুরুই নজরুল।
- চরিত্র: নুরুল হুদা, মাহবুবা, সাহসিকা, রাবেয়া।
- নজরুল রচিত অন্যান্য উপন্যাস: ‘মৃত্যুক্ষুধা' (১৯৩০), 'কুহেলিকা' (১৯৩১)।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি জাতীয় সংসদের সদস্যদের (সংসদ সদস্য বা এমপি) ভোটে নির্বাচিত হন। এটি একটি পরোক্ষ নির্বাচন পদ্ধতি, যেখানে সাধারণ জনগণ সরাসরি ভোট দিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করেন না।