ইমদাদুল হক মিলন একজন কথাসাহিত্যিক। তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস ‘নূরজাহান’, ‘রূপনগর’, ‘কালো ঘোড়া’, ‘নদী উপাখ্যান’ ও ‘দুঃখ কষ্ট’।
মাহবুব-উল আলম ছিলেন একজন বাংলাদেশি কথাসাহিত্যিক, সৈনিক ও ইতিহাসবিদ। তাঁর আত্মজীবনীমূলক উপন্যাস ‘মোমেনের জবানবন্দী’ (১৯৪৬) উর্দু ও ইংরেজিতে অনূদিত হয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও পেশোয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়। তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে ‘পল্টন জীবনের স্মৃতি’ (১৯৪০), ‘বর্মার হাঙ্গামা’ (১৯৪০), ‘পঞ্চ অন্ন’ (১৯৪৬), উপন্যাসিকা ‘মফিজন’ এবং হাস্যরসাত্মক গল্পসংকলন ‘গোঁফ সন্দেশ’ (১৯৫৩) উল্লেখযোগ্য। তিনি ৩৪টিরও বেশি গ্রন্থ রচনা করেন।
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ঐতিহাসিক ত্রয়ী উপন্যাস হলো ‘সেই সময়’ (১৯৮১), ‘পূর্ব-পশ্চিম’ (১৯৮৮) ও ‘প্রথম আলো’ (১৯৯৬)। এসব উপন্যাসে মূলত ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে বাঙালি জাতির আত্মসচেতনতা গড়ে ওঠার প্রক্রিয়া ও তৎকালীন সমাজ-ইতিহাসের পরিবর্তনকে কেন্দ্রীয়ভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
এস. ওয়াজেদ আলী ছিলেন প্রাবন্ধিক, ভ্রমণকাহিনিকার ও কথাসাহিত্যিক। তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধ- ‘জীবনের শিল্প’, ‘ভবিষ্যতের বাঙালী’, ‘আকবরের রাষ্ট্রসাধনা’, ‘প্রাচ্য ও প্রতীচ্য’, ‘মুসলিম সংস্কৃতির আদর্শ’ ও ‘ইকবালের পয়গাম’। তাঁর ভ্রমণকাহিনি ‘পশ্চিম ভারত’ (১৯৪৮) ও ‘মোটরযোগে রাঁচী সফর’ (১৯৪৯); উপন্যাস -‘গ্রানাডার শেষ বীর’ এবং গল্পগ্রন্থ -‘গুলদাস্তা’, ‘মাশুকের দরবার’, ‘বাদশাহী গল্প’ ও ‘গল্পের মজলিস’।
কাজী আবুল ওদুদ ছিলেন প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও চিন্তাবিদ এবং ‘বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন’-এর অন্যতম নেতা। তিনি ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ’ (১৯২৬)-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস ‘নদীবক্ষে’ (১৯১৮) ও ‘আজাদ’ (১৯৪৮); ‘নদীবক্ষে’-তে গ্রামীণ জীবন ও শাশ্বত ধর্মবোধের চিত্র ফুটে উঠেছে। তিনি ২৬ এপ্রিল ১৮৯৪ সালে রাজবাড়ীর পাংশার বাগমারা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯ মে ১৯৭০ সালে কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।
সৈয়দ মুজতবা আলীর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস ‘শবনম’ ও ‘অবিশ্বাস্য’। তাঁর রম্যরচনা ‘পঞ্চতন্ত্র’ ও ‘ময়ূরকণ্ঠী’ এবং ছোটগল্প ‘চাচা কাহিনী’ ও ‘টুনি মেম’।
আহমদ ছফার উল্লেখযোগ্য রচনা- ‘মরণ বিলাস, গাভী বৃত্তান্ত ও যদ্যপি আমার গুরু’। এর মধ্যে ‘যদ্যপি আমার গুরু’ (১৯৯৭) জাতীয় অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাককে নিয়ে রচিত স্মৃতিচারণামূলক গ্রন্থ। তাঁর প্রবন্ধগ্রন্থ- বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস, বাঙালি মুসলমানের মন, জাগ্রত বাংলাদেশ, বাঙালি জাতি এবং বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও সংকটের নানা চেহারা। উল্লেখযোগ্য উপন্যাস -সূর্য তুমি সাথী, ওঙ্কার, অলাতচক্র ও পুষ্প বৃক্ষ এবং বিহঙ্গ পুরাণ।
শহীদুল্লা কায়সার ছিলেন বাংলাদেশের বিশিষ্ট সাংবাদিক, লেখক ও বুদ্ধিজীবী; তাঁর প্রকৃত নাম আবু নঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লা। তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস সারেং বউ (১৯৬২) ও সংশপ্তক (১৯৬৫)। স্মৃতিকথা রাজবন্দীর রোজনামচা (১৯৬২) এবং ভ্রমণবৃত্তান্ত পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ (১৯৬৬)। তিনি ১৯৬৯ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন।
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম প্রকাশিত উপন্যাসঃ ‘চৈতালী ঘূর্ণি’। তাঁর ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা ও পঞ্চগ্রাম ত্রয়ী উপন্যাস হিসেবে পরিচিত। তাঁর সর্বশেষ ও মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘একটি কালো মেয়ের কথা’। অন্যান্য উপন্যাসঃআরোগ্য নিকেতন ও হাঁসুলী বাঁকের উপকথা; নাটক পথের ডাক, দ্বীপান্তর ও দুই পুরুষ এবং গল্প রসকলি, ডাকহরকরা ও বেদেনী।
আবু জাফর শামসুদ্দীনের উল্লেখযোগ্য উপন্যাস ‘ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান’। তাঁর অন্যান্য উপন্যাস হলো ‘পরিত্যক্ত স্বামী, পদ্মা মেঘনা যমুনা, সংকর সংকীর্তন ও দেয়াল’।
আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের ‘খোয়াবনামা’ (১৯৯৬) একটি বিখ্যাত উপন্যাস, যা মাওলা ব্রাদার্স থেকে প্রকাশিত হয়। এর উপজীব্য কাত্তলাহার বিলের চাষী-মাঝিদের জীবন এবং ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহের স্মৃতিবিজড়িত লোকগাথা। উপন্যাসের পরবর্তী অংশে ১৯৪৭ সালের দেশভাগের প্রভাব প্রবলভাবে উঠে এসেছে।
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস (১৯৪৩–১৯৯৭) বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কথাশিল্পী ও নিরীক্ষাপ্রবণ লেখক। তাঁর গল্পঃ উপন্যাসে পুরান ঢাকা এবং অনাহার, দারিদ্র্য ও শোষণের শিকার মানুষের জীবনচিত্র ফুটে উঠেছে। তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাসঃ চিলেকোঠার সেপাই (১৯৮৭) ও খোয়াবনামা (১৯৯৬)—দুটিই মহাকাব্যোচিত উপন্যাস। গল্পগ্রন্থঃ অন্য ঘরে অন্য স্বর, খোয়ারি, দুধভাতে উৎপাত ও দোজখের ওম। তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮২) ও একুশে পদক (মরণোত্তর, ১৯৯৯) লাভ করেন।