- শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'দুই সৈনিক' (১৯৭৩)।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র মখদুম মৃধা চরম পাকিস্তানপন্থী।
- তার মতে, পাকিস্তান হলো ইসলামী রাষ্ট্র; আর আওয়ামী লীগ ও হিন্দু লোকেরা একত্র হয়ে পূর্ব পাকিস্তান ধ্বংসের পায়তারা করছে।
- মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে গ্রামে পাক-বাহিনীর লোকেরা আসে।
- মখদুম মৃধা তাদের আপ্যায়ন করেন।
- রাতে যাওয়ার সময় তারা মৃধার দুই মেয়ে সাহেলী ও চামেলীকে বিয়ে করে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দেয়।
- মৃধা বাধা প্রদান করলে তারা দুই বোনকে জোর করে তুলে নিয়ে যায়। পরেরদিন দেখা যায়, মৃধার জীর্ণ শরীর কাঁঠালগাছে ঝুলছে।
- দুই সৈনিক হচ্ছেন হানাদার বাহিনীর দুই মদমত্ত অফিসার।
- ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাক-বাহিনী সারাদেশে যে হামলা চালায় তার দুই মূর্তিমন্ত প্রতীক।
- তাদের পাশবিক ক্রিয়াকলাপ উপন্যাসটির ঘটনা তরঙ্গ সৃষ্টি করে।
- এ জন্যই ঔপন্যাসিক উপন্যাসটির নাম রেখেছেন 'দুই সৈনিক'।
তাঁর রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক অন্যান্য উপন্যাস:
- 'জাহান্নম হইতে বিদায়' (১৯৭১),
- 'নেকড়ে অরণ্য' (১৯৭৩),
- 'জলাঙ্গী' (১৯৭৬)।
হারুন হাবীব (জন্মঃ ১ জানুয়ারি ১৯৪৮) একজন প্রখ্যাত সাংবাদিক ও মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাহিত্য রচয়িতা। বাংলা একাডেমি পুরস্কার প্রাপ্ত লেখক। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) এর প্রধান সম্পাদক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন । তার সম্পাদিত - মুক্তিযুদ্ধের নির্বাচিত গল্প (১৯৮৫)।
জাহানারা ইমাম রচিত মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থ- একাত্তরের দিনগুলি। এটি ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত হয়, ডায়েরি আকারে লেখা বইটির ব্যাপ্তিকাল ১৯৭১ সালের ১মার্চ থেকে ১৭ ডিসেম্বর।
সৈয়দ শামসুল হক সব্যসাচী লেখক। সব্যসাচী অর্থ যার দুই হাত সমানভাবে চলে। সাতিহ্যের সকল শাখায় সমানভাবে যে লেখকের পদচারণা রয়েছে তিনিই সব্যসাচী লেখক। অন্যান্য সব্যসাচী লেখক হলেন- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বুদ্ধদেব বসু।
তাঁর রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসঃ
- নিষিদ্ধ লোবান ও
- নীল দংশন।
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কাব্যনাট্যঃ - পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়।
• শওকত ওসমান বিংশ শতাব্দীর বাংলাদেশের একজন স্বনামখ্যাত লেখক ও কথাসাহিত্যিক। জন্মসূত্রে তাঁর নাম শেখ আজিজুর রহমান। তাঁর রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস-জাহান্নম হইতে বিদায়, দুই সৈনিক, নেকড়ে অরণ্য, জলাঙ্গী ইত্যাদি।
শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস 'জাহান্নাম হইতে বিদায়' ( ১৯৭১ ) ।
তার রচিত আরও কয়েকটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উন্যাস-
-নেকড়ে অরণ্য ( ১৯৭৩ ), দুই সৈনিক ( ১৯৭৩ , জলাংগী ( ১৯৮৬ ) । মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক 'রাইফেল রোটি আওরাত' ( ১৯৭৩ ) ও 'হাঙ্গর নদী গ্রেনেড' ( ১৯৭৬ ) উপন্যাসের রচয়িতা যথাক্রমে আনোয়ার পাশা ও সেলিনা হোসেন । 'বং থেকে বাংলা' উপন্যাসের রচয়িতা রিজিয়া রহমান । এ উপন্যাসে আদিকাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত বাংলাদেশের নৃতাত্ত্বিক পরিচয় চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ।
মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে রচিত উপন্যাস একটি কালো মেয়ের কথা। এটি তারাশঙ্কর বব্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি উপন্যাস। প্রকাশকাল- ১৯৭১ সাল। এর কেন্দ্রীয় চরিত্র নাজমা নামের এক কালো মেয়ে।
তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- কালিন্দী,
- জলসাঘর,
- গণদেবতা,
- পঞ্চগ্রাম ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
-আনােয়ার পাশা ( ১৯২৮ - ১৯৭১ ) রচিত মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত উপন্যাস রাইফেল রােটি আওরাত ।
- এ উপন্যাসটি ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয় ।
- তার রচিত আরাে কয়েকটি উপন্যাস হলাে : নীড় সন্ধানী (১৯৬৮ ) , নিমুতি রাতের গাথা ( ১৯৬৮ ) ইত্যাদি ।
কাঁদো নদী কাঁদো ১৯৬৮ সালে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত চেতনাপ্রবাহরীতির একটি উপন্যাস। আঙ্গিক প্রকরণে পাশ্চাত্যের প্রভাব থাকলেও এর সমাজজীবন, পরিবেশ ও চরিত্রাদি স্বদেশীয়। তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস- লালসালু (১৯৪৮), চাঁদের অমাবস্যা (১৯৬৪), কদর্য এশীয়, ফাল্গুন (২০০৬) ইত্যাদি।
একাত্তরের দিনগুলি বাংলাদেশী কথাসাহিত্যিক জাহানারা ইমাম রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক দিনলিপি। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ঢাকা শহরের অবস্থা ও গেরিলা তৎপরতার বাস্তব চিত্র এতে উঠে এসেছে। বইটিতে তার সন্তান শফি ইমাম রুমী অন্যতম প্রধান চরিত্র হিসেবে দেখা দেয় এবং তার মৃত্যুর জন্য জাহানারা ইমাম শহীদ জননী উপাধি পান। গ্রন্থটি ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত হয়।
'যাপিত জীবন' যাপিত জীবন একটি উপন্যাস। তার মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস- হাঙর নদী গ্রেনেড (১৯৭৬)।
বকুলপুরের স্বাধীনতা-মমতাজউদ্দীন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক।
নীল দংশন-সৈয়দ শামসুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
সৌরভ -হুমায়ুন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।