বিগত সালের প্রশ্ন ও প্রশ্ন ব্যাংক
বিসিএস, ব্যাংক, প্রাথমিক শিক্ষক ও সকল সরকারি চাকরির বিগত সালের প্রশ্ন ও অধ্যায়ভিত্তিক নির্ভুল সমাধান
আলাউদ্দিন আল আজাদের ‘কর্ণফুলী’ একটি উপন্যাস, প্রকাশিত হয় ১৯৬২ সালে। এতে আদিবাসী মানুষের জীবনচিত্র প্রধানভাবে ফুটে উঠেছে। তাঁর আরেকটি উল্লেখযোগ্য উপন্যাস ‘তেইশ নম্বর তৈলচিত্র’ (১৯৬০)।
ড. আলাউদ্দিন আল আজাদের উপন্যাস ‘তেইশ নম্বর তৈলচিত্র’, ‘কর্ণফুলী’ ও ‘ক্ষুধা ও আশা’। তেইশ নম্বর তৈলচিত্র মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণমূলক, কর্ণফুলী-তে পাহাড়-সমুদ্রঘেরা জনপদ ও উপজাতীয় জীবন এবং ক্ষুধা ও আশা-তে যুদ্ধ ও দুর্ভিক্ষপীড়িত মানুষের চিত্র ফুটে উঠেছে। তাঁর গল্পগ্রন্থ ‘ধানকন্যা’।
মোহাম্মদ নজিবর রহমানের প্রথম ও সর্বাধিক সার্থক সামাজিক উপন্যাস ‘আনোয়ারা’, যা ১৯১৪ সালের ১৫ জুলাই কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়। বাঙালি মুসলমান সমাজে ‘বিষাদ সিন্ধু’র পর এটি অন্যতম জনপ্রিয় উপন্যাস। তাঁর অন্যান্য উপন্যাস—প্রেমের সমাধি, চাঁদতারা বা হাসান গঙ্গা বাহমণি, পরিণাম, গরীবের মেয়ে, দুনিয়া আর চাইনা ও মেহেরুন্নিসা। গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ বিলাতী বর্জন রহস্য ও সাহিত্য প্রসঙ্গ (১৯০৪)।
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ আধুনিক বাংলা সাহিত্যের কথাসাহিত্যিক ও নাট্যকার। তিনি চট্টগ্রামের ষোলশহর এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর উপন্যাস লালসালু (১৯৪৮), চাঁদের অমাবস্যা ও কাঁদো নদী কাঁদো; এর মধ্যে লালসালু Tree Without Roots নামে অনূদিত। তাঁর নাটক বহিপীর, তরঙ্গভঙ্গ, উজানে মৃত্যু ও সুরঙ্গ।
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর ‘চাঁদের অমাবস্যা’ একটি মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস। এর কেন্দ্রীয় চরিত্র একজন যুবক শিক্ষক, যিনি একটি খুনের ঘটনাকে ঘিরে তীব্র মানসিক দ্বন্দ্বে ভোগেন। অন্যদিকে, ঘরে-বাইরে স্বদেশী আন্দোলন, পথের দাবী ব্রিটিশবিরোধী সশস্ত্র সংগ্রাম এবং চিলেকোঠার সেপাই ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের পটভূমিতে রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস।
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর প্রথম ও সবচেয়ে বিখ্যাত উপন্যাস ‘লালসালু’ (১৯৪৮)। এতে ধর্মব্যবসায়ী ও শোষক শ্রেণির ভণ্ডামি এবং গ্রামীণ মানুষের সরলতার সুযোগ নেওয়ার চিত্র ফুটে উঠেছে। মজিদ মহব্বত নগরে এসে এক অজ্ঞাত ব্যক্তির কবরকে ‘মোদাচ্ছের পীরের মাজার’ হিসেবে প্রচার করে। উপন্যাসটি ইংরেজিতে Tree Without Roots এবং ফরাসিতে L'Arbre sans racines নামে অনূদিত হয়েছে। তাঁর অন্যান্য উপন্যাস চাঁদের অমাবস্যা (১৯৬৪) ও কাঁদো নদী কাঁদো (১৯৬৮); নাটক বহিপীর, তরঙ্গভঙ্গ, উজানে মৃত্যু ও সুরঙ্গ।
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর অভিষেক উপন্যাস ‘লালসালু’ ১৯৪৮ সালে প্রকাশিত। গ্রামীণ সমাজের সরল মানুষের বিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে ধর্মকে ব্যবসার উপাদান হিসেবে ব্যবহারের চিত্র এতে ফুটে উঠেছে। ‘লালসালু’ Tree Without Roots নামে অনূদিত এবং এ উপন্যাসের জন্য তিনি ১৯৬১ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার পান। তাঁর উপন্যাস—লালসালু, চাঁদের অমাবস্যা, কাঁদো নদী কাঁদো; নাটক—বহিপীর, তরঙ্গভঙ্গ, উজানে মৃত্যু, সুরঙ্গ।
হুমায়ূন আহমেদের উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে শঙ্খনীল কারাগার, এইসব দিনরাত্রি, গৌরীপুর জংশন, কবি, দারুচিনি দ্বীপ ও শ্রাবণ মেঘের দিন।
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সর্বশেষ উপন্যাস ‘সীতারাম’। এটি ঐতিহাসিক চরিত্র সীতারামকে কেন্দ্র করে রচিত। তাঁর আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরাণী ও সীতারাম—এই তিনটি উপন্যাসকে ত্রয়ী উপন্যাস বলা হয়। গ্রামীণ সমাজজীবনের চিত্র রয়েছে—তারাশঙ্করের গণদেবতা, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদ্মানদীর মাঝি ও বিভূতিভূষণের পথের পাঁচালী-তে।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘চোখের বালি’ বাংলা সাহিত্যের প্রথম মনস্তাত্ত্বিক সামাজিক উপন্যাস। এতে বাঙালি সমাজ ও পরিবারের বিচিত্র বিশ্লেষণের পাশাপাশি বিধবার ত্রিভুজ প্রেম তুলে ধরা হয়েছে। প্রধান চরিত্র—মহেন্দ্র, বিনোদিনী, আশালতা ও বিহারী।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাব্যধর্মী উপন্যাস ‘শেষের কবিতা’ ১৯২৮ সালে ‘প্রবাসী’ পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়। এর প্রধান চরিত্র অমিত রায় ও লাবণ্য। অমিত বিলেতে ব্যারিস্টারি পড়তে যায় এবং শিলংয়ে লাবণ্যের সঙ্গে তার প্রেম হয়। অমিতের পূর্বপরিচিত কেতকীর কারণে শেষ পর্যন্ত অমিত-লাবণ্যের বিয়ে হয় না; লাবণ্য শোভনলালকে বিয়ে করে।