মোহাম্মদ নজিবর রহমানের প্রথম ও সর্বাধিক সার্থক সামাজিক উপন্যাস ‘আনোয়ারা’, যা ১৯১৪ সালের ১৫ জুলাই কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়। বাঙালি মুসলমান সমাজে ‘বিষাদ সিন্ধু’র পর এটি অন্যতম জনপ্রিয় উপন্যাস। তাঁর অন্যান্য উপন্যাস—প্রেমের সমাধি, চাঁদতারা বা হাসান গঙ্গা বাহমণি, পরিণাম, গরীবের মেয়ে, দুনিয়া আর চাইনা ও মেহেরুন্নিসা। গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ বিলাতী বর্জন রহস্য ও সাহিত্য প্রসঙ্গ (১৯০৪)।
বিগত সালের প্রশ্ন ও প্রশ্ন ব্যাংক
বিসিএস, ব্যাংক, প্রাথমিক শিক্ষক ও সকল সরকারি চাকরির বিগত সালের প্রশ্ন ও অধ্যায়ভিত্তিক নির্ভুল সমাধান
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ আধুনিক বাংলা সাহিত্যের কথাসাহিত্যিক ও নাট্যকার। তিনি চট্টগ্রামের ষোলশহর এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর উপন্যাস লালসালু (১৯৪৮), চাঁদের অমাবস্যা ও কাঁদো নদী কাঁদো; এর মধ্যে লালসালু Tree Without Roots নামে অনূদিত। তাঁর নাটক বহিপীর, তরঙ্গভঙ্গ, উজানে মৃত্যু ও সুরঙ্গ।
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর ‘চাঁদের অমাবস্যা’ একটি মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস। এর কেন্দ্রীয় চরিত্র একজন যুবক শিক্ষক, যিনি একটি খুনের ঘটনাকে ঘিরে তীব্র মানসিক দ্বন্দ্বে ভোগেন। অন্যদিকে, ঘরে-বাইরে স্বদেশী আন্দোলন, পথের দাবী ব্রিটিশবিরোধী সশস্ত্র সংগ্রাম এবং চিলেকোঠার সেপাই ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের পটভূমিতে রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস।
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর প্রথম ও সবচেয়ে বিখ্যাত উপন্যাস ‘লালসালু’ (১৯৪৮)। এতে ধর্মব্যবসায়ী ও শোষক শ্রেণির ভণ্ডামি এবং গ্রামীণ মানুষের সরলতার সুযোগ নেওয়ার চিত্র ফুটে উঠেছে। মজিদ মহব্বত নগরে এসে এক অজ্ঞাত ব্যক্তির কবরকে ‘মোদাচ্ছের পীরের মাজার’ হিসেবে প্রচার করে। উপন্যাসটি ইংরেজিতে Tree Without Roots এবং ফরাসিতে L'Arbre sans racines নামে অনূদিত হয়েছে। তাঁর অন্যান্য উপন্যাস চাঁদের অমাবস্যা (১৯৬৪) ও কাঁদো নদী কাঁদো (১৯৬৮); নাটক বহিপীর, তরঙ্গভঙ্গ, উজানে মৃত্যু ও সুরঙ্গ।
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর অভিষেক উপন্যাস ‘লালসালু’ ১৯৪৮ সালে প্রকাশিত। গ্রামীণ সমাজের সরল মানুষের বিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে ধর্মকে ব্যবসার উপাদান হিসেবে ব্যবহারের চিত্র এতে ফুটে উঠেছে। ‘লালসালু’ Tree Without Roots নামে অনূদিত এবং এ উপন্যাসের জন্য তিনি ১৯৬১ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার পান। তাঁর উপন্যাস—লালসালু, চাঁদের অমাবস্যা, কাঁদো নদী কাঁদো; নাটক—বহিপীর, তরঙ্গভঙ্গ, উজানে মৃত্যু, সুরঙ্গ।
হুমায়ূন আহমেদের উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে শঙ্খনীল কারাগার, এইসব দিনরাত্রি, গৌরীপুর জংশন, কবি, দারুচিনি দ্বীপ ও শ্রাবণ মেঘের দিন।
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সর্বশেষ উপন্যাস ‘সীতারাম’। এটি ঐতিহাসিক চরিত্র সীতারামকে কেন্দ্র করে রচিত। তাঁর আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরাণী ও সীতারাম—এই তিনটি উপন্যাসকে ত্রয়ী উপন্যাস বলা হয়। গ্রামীণ সমাজজীবনের চিত্র রয়েছে—তারাশঙ্করের গণদেবতা, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদ্মানদীর মাঝি ও বিভূতিভূষণের পথের পাঁচালী-তে।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘চোখের বালি’ বাংলা সাহিত্যের প্রথম মনস্তাত্ত্বিক সামাজিক উপন্যাস। এতে বাঙালি সমাজ ও পরিবারের বিচিত্র বিশ্লেষণের পাশাপাশি বিধবার ত্রিভুজ প্রেম তুলে ধরা হয়েছে। প্রধান চরিত্র—মহেন্দ্র, বিনোদিনী, আশালতা ও বিহারী।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাব্যধর্মী উপন্যাস ‘শেষের কবিতা’ ১৯২৮ সালে ‘প্রবাসী’ পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়। এর প্রধান চরিত্র অমিত রায় ও লাবণ্য। অমিত বিলেতে ব্যারিস্টারি পড়তে যায় এবং শিলংয়ে লাবণ্যের সঙ্গে তার প্রেম হয়। অমিতের পূর্বপরিচিত কেতকীর কারণে শেষ পর্যন্ত অমিত-লাবণ্যের বিয়ে হয় না; লাবণ্য শোভনলালকে বিয়ে করে।
স্বর্ণকুমারী দেবী ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বোন ও বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা ঔপন্যাসিক। তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘দীপনির্বাণ’ (১৮৭৬), যা জাতীয়তাবাদী চেতনায় রচিত। উল্লেখযোগ্য নাটক—দেবকৌতুক, কনে বদল, রাজকন্যা, নিবেদিতা, যুগান্তর, দিব্যকমল।
সুকান্ত ভট্টাচার্যের ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতাটি ‘ছাড়পত্র’ কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত এবং ১৯৪৮ সালে প্রকাশিত। কবিতায় আঠারো বছর বয়সের দুঃসাহস, আবেগ, উচ্ছ্বাস, সাহসিকতা, দুর্বার গতি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর মানসিকতা তুলে ধরা হয়েছে। কবি তারুণ্য ও যৌবনশক্তিকে জাতীয় জীবনের চালিকাশক্তি হিসেবে প্রত্যাশা করেছেন। উল্লেখ্য, অপশন ২ ব্যতীত সবগুলোই সঠিক।
বাংলা টপ্পা সঙ্গীতের প্রবর্তক রামনিধি গুপ্ত। তিনি ১৭৭৬ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির চাকরিসূত্রে বিহারের ছাপরায় গিয়ে হিন্দুস্তানি টপ্পা শেখেন। ১৭৯৪ সালে কলকাতায় ফিরে বাংলায় টপ্পা রচনা ও পরিবেশন শুরু করেন।
হুমায়ূন আহমেদের ‘দেয়াল’ ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের ট্র্যাজেডিকে কেন্দ্র করে রচিত একটি রাজনৈতিক উপন্যাস। আবু জাফর শামসুদ্দীন ছিলেন একজন সাংবাদিক ও সাহিত্যিক; ১৯১১ সালের ১২ মার্চ গাজীপুরের দক্ষিণবাগে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস—ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান, পদ্মা মেঘনা যমুনা, সংকর সংকীর্তন, দেয়াল, পরিত্যক্ত স্বামী।
ভাষাসৈনিক মাহবুব উল আলম চৌধুরী ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলনভিত্তিক প্রথম কবিতা ‘কাঁদতে আসিনি, ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি’ রচনা করেন। ২২ ফেব্রুয়ারি কবিতাটি চট্টগ্রামের লালদিঘি ময়দানে প্রথম পাঠ করেন চৌধুরী হারুন অর রশিদ। ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উল্লেখযোগ্য কবিতা—শামসুর রহমানের ‘বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা’ ও আলাউদ্দিন আল আজাদের ‘স্মৃতিস্তম্ভ’।
হাসান আজিজুল হক মূলত একজন কথাসাহিত্যিক। তাঁর উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থ—আমরা অপেক্ষা করেছি, আত্মজা ও একটি করবী গাছ, নামহীন গোত্রহীন, পাতালে হাসপাতালে, সমুদ্রের স্বপ্ন, শীতের অরণ্য, জীবন ঘষে আগুন। উপন্যাস—আগুনপাখি, সাবিত্রী উপাখ্যান, শিউলি, বৃত্তায়ন।