সেলিম আল দীন ছিলেন বাংলাদেশের প্রখ্যাত নাট্যকার ও গবেষক। তাঁর প্রকৃত নাম মইনুদ্দিন আহমেদ। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের নাট্য আন্দোলনে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বাংলা নাট্যের ঐতিহ্য ও শিকড় অনুসন্ধান করে তিনি নিজ নাটকে দেশীয় বিষয় ও আঙ্গিক প্রয়োগ করেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য নাট্যগ্রন্থ—চাকা, কীর্তনখোলা, কেরামতমঙ্গল, যৈবতী কন্যার মন, হরগজ, হাতহদাই, শকুন্তলা, নিমজ্জন, বাসন, মুনতাসীর ফ্যান্টাসি ইত্যাদি।
বিগত সালের প্রশ্ন ও প্রশ্ন ব্যাংক
বিসিএস, ব্যাংক, প্রাথমিক শিক্ষক ও সকল সরকারি চাকরির বিগত সালের প্রশ্ন ও অধ্যায়ভিত্তিক নির্ভুল সমাধান
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত বাংলা সাহিত্যের একজন বিখ্যাত কবি, অনুবাদক ও প্রাবন্ধিক। তাঁর একমাত্র উপন্যাস ‘জন্মদুঃখী’, যা ১৯১২ সালে প্রকাশিত হয়।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মোট ১১৯টি ছোটগল্প রয়েছে। প্রেমবিষয়ক গল্প: শেষকথা, মধ্যবর্তিনী, সমাপ্তি (মৃন্ময়ী), নষ্টনীড় (চারু), একরাত্রি (সুরবালা)। সমাজবিষয়ক গল্প: ছুটি (ফটিক), হৈমন্তী (হৈমন্তী, অপু, গৌরীশঙ্কর), পোস্টমাস্টার (রতন), দেনাপাওনা (প্রথম সার্থক ছোটগল্প), খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন (রাইচরণ), কাবুলিওয়ালা (রহমত, খুকি), শাস্তি (চন্দরা), দুরাশা, মাস্টারমশাই। অতিপ্রাকৃত গল্প: ক্ষুধিত পাষাণ (মেহের আলী), কঙ্কাল, নিশীথে, জীবিত ও মৃত (কাদম্বিনী)।
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উল্লেখযোগ্য নাটক— যে অরণ্যে আলো নেই (নীলিমা ইব্রাহীম), পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় (সৈয়দ শামসুল হক), বর্ণচোরা ও কী চাহ শঙ্খচিল (মমতাজউদ্দীন আহমেদ), নরকে লাল গোলাপ (আলাউদ্দিন আল আজাদ), প্রতিদিন একদিন (সাঈদ আহমদ)। প্রবন্ধ/স্মৃতিকথা— A Search for Identity (মেজর মোহাম্মদ আবদুল জলিল), The Liberation of Bangladesh (মেজর জেনারেল সুখওয়ান্ত সিং), আমি বীরাঙ্গনা বলছি (নীলিমা ইব্রাহীম), একাত্তরের ঢাকা (সেলিনা হোসেন), আমি বিজয় দেখেছি (এম. আর. আখতার মুকুল), একাত্তরের দিনগুলি (জাহানারা ইমাম), একাত্তরের ডায়েরি (সুফিয়া কামাল), একাত্তরের যীশু (শাহরিয়ার কবির)। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র— Stop Genocide (জহির রায়হান), ওরা ১১ জন ও হাঙর নদী গ্রেনেড (চাষী নজরুল ইসলাম), আবার তোরা মানুষ হ (খান আতাউর রহমান), অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী (সুভাষ দত্ত)। জনপ্রিয় মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস— রাইফেল রোটি আওরাত, নেকড়ে অরণ্য, যাত্রা, হাঙর নদী গ্রেনেড, জীবন আমার বোন, দ্বিতীয় দিনের কাহিনী, খাঁচায়, জোছনা ও জননীর গল্প, সাড়ে তিন হাত ভূমি, জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা।
পল্লীকবি জসীমউদ্দীন ১ জানুয়ারি ১৯০৩ সালে ফরিদপুরের তাম্বুলখানা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৩ মার্চ ১৯৭৬ সালে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ—রাখালী, বালুচর, ধানক্ষেত, মাটির কান্না, সুচয়নী, রূপবতী। তাঁর উল্লেখযোগ্য কবিতা—নিমন্ত্রণ, আসমানী, রাখাল ছেলে, মুসাফির, চাষার ছেলে, পল্লীজননী।
নুরুল মোমেন মূলত নাট্যকার ও রম্যসাহিত্যিক। তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটক—রূপান্তর (১৯৪১), নেমেসিস (১৯৪৮), যদি এমন হতো (১৯৬০), নয়া খান্দান (১৯৬২), আলোছায়া (১৯৬২), শতকরা আশি (১৯৬৭), আইনের অন্তরালে (১৯৬৭), যেমন ইচ্ছা তেমন (১৯৭০)। রম্যগ্রন্থ—বহুরূপ (১৩৬৫), নরসুন্দর (১৯৬১), হিংটিং ছট (১৯৭০)।
নির্মলেন্দু গুণের ‘চিরকালের বাঁশী’ কাব্যগ্রন্থটি ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত হয়। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ—প্রেমাংশুর রক্ত চাই (১৯৭০), না প্রেমিক না বিপ্লবী (১৯৭২), অমীমাংসিত রমণী (১৯৭৩), দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী (১৯৭৪), চৈত্রের ভালোবাসা (১৯৭৫), চাষাভুষার কাব্য (১৯৮১), অচল পদাবলী (১৯৮২), পৃথিবীজোড়া গান (১৯৮২), নির্বাচিতা (১৯৮৩), শান্তির ডিক্রি (১৯৮৪) ইত্যাদি।
শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মজীবনী ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ ২০১২ সালের জুনে ইউপিএল থেকে প্রকাশিত হয়। কারাগারে ১৯৬৭–১৯৬৯ সময়ে তিনি এটি লেখা শুরু করেন, তবে শেষ করতে পারেননি। চারটি খাতায় লেখা পাণ্ডুলিপি থেকে বইটি প্রকাশিত হয়। ইংরেজি অনুবাদ The Unfinished Memoirs—ফকরুল আলম, জাপানি অনুবাদ—কাজুহিরো ওয়াতানাবে, চীনা অনুবাদ—চাই ঝি।
কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য ১৯২৬ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়ায়। মাত্র ২১ বছর বয়সে ১৯৪৭ সালে যক্ষ্মায় মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ—ছাড়পত্র, ঘুম নেই, পূর্বাভাস, অভিযান, হরতাল।
আধুনিক বাংলা সাহিত্যের ত্রিশের দশকের পাঁচজন প্রধান কবিকে ‘পঞ্চপাণ্ডব’ বলা হয়—বুদ্ধদেব বসু, জীবনানন্দ দাশ, সুধীন্দ্রনাথ দত্ত, বিষ্ণু দে ও অমিয় চক্রবর্তী। কল্লোল যুগ বাংলা সাহিত্যের আধুনিকতার সূচনাপর্ব। ‘কল্লোল’ পত্রিকাকে কেন্দ্র করে ১৯৩০-এর দশকে একদল তরুণ কবি-সাহিত্যিক পাশ্চাত্য আধুনিকতার প্রভাব গ্রহণ করেন। বুদ্ধদেব বসু ছিলেন এ যুগের অন্যতম প্রধান কাণ্ডারী। এ যুগের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল রবীন্দ্র-প্রভাবের বাইরে নতুন সাহিত্যধারা সৃষ্টি।
শামসুদ্দীন আবুল কালামের ‘কাশবনের কন্যা’ (১৯৫৪) গ্রামীণ জীবনের পটভূমিতে রচিত একটি উপন্যাস। তিনি ‘মাহে নও’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস—কাঞ্চনগ্রাম, আলমনগরের উপকথা, সমুদ্রবাসর, জায়জঙ্গল, দুই মহল, নবান্ন, কাঞ্চনমালা। গল্পগ্রন্থ—দুই হৃদয়ের তীর, অনেক দিনের আশা, পথ জানা নেই।
সেলিনা হোসেনের ‘কাঠকয়লার ছবি’ উপন্যাসে চা-বাগানের শ্রমিকদের জীবনযাত্রা তুলে ধরা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য উপন্যাস—জলোচ্ছ্বাস (১৯৭২), হাঙর নদী গ্রেনেড (১৯৭৬), যাপিত জীবন (১৯৮১), পোকামাকড়ের ঘরবসতি (১৯৮৬), নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি (১৯৮৭), কাঁটাতারে প্রজাপতি (১৯৮৯), কাকতাড়ুয়া (১৯৯৬), যুদ্ধ (১৯৯৮)। এর মধ্যে হাঙর নদী গ্রেনেড ও যুদ্ধ মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক, যাপিত জীবন ভাষা আন্দোলনভিত্তিক এবং কাঁটাতারে প্রজাপতি তেভাগা আন্দোলনভিত্তিক।
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘একটি কালো মেয়ের কথা’ (১৯৭১) মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ও তাঁর সর্বশেষ উপন্যাস; কেন্দ্রীয় চরিত্র নাজমা। তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস—ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম। প্রথম গল্প ‘রসকলি’ ‘কল্লোল’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। উল্লেখযোগ্য উপন্যাস—চৈতালি ঘূর্ণি, কালিন্দী, আরোগ্য নিকেতন, কবি, হাঁসুলি বাঁকের উপকথা, রাধা ইত্যাদি; ছোটগল্প—বেদেনী, রসকলি, ডাকহরকরা।
শহীদুল্লাহ কায়সারের ‘সারেং বউ’ উপন্যাসে বাংলাদেশের উপকূলীয় মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরা হয়েছে। উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র কদম সারেং ও নবীতুন। এতে বিভিন্ন সংস্কারকে তুচ্ছ করে মানুষের বিজয়কে তুলে ধরা হয়েছে।
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘রসকলি’ (১৯২৮) একটি উল্লেখযোগ্য ছোটগল্প। তাঁর অন্যান্য ছোটগল্প—বেদেনী (১৯৪০), ডাক হরকরা, পাষাণপুরী, রিণী মাঝি, নীলকণ্ঠ, ছলনাময়ী, বেনে, টূয়া, মালাকার, রিয়া, চৌকিদার, অহসানী।
মীর মশাররফ হোসেনের ‘জমিদার দর্পণ’ (১৮৭৩) একটি উল্লেখযোগ্য নাটক। তাঁর অন্যান্য নাটক—বসন্তকুমারী, বেহুলা গীতাভিনয় ও টালা অভিনয়। উল্লেখযোগ্য প্রহসন—এর উপায় কী, এ কি!, ভাই ভাই এই তো চাই, ফাঁস কাগজ।
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের উল্লেখযোগ্য ছোটগল্প ‘জলসাঘর’ (১৯৩৭)। তাঁর অন্যান্য ছোটগল্প—রসকলি (১৯২৮), বেদেনী (১৯৪০), ডাক হরকরা, পাষাণপুরী, রিণী মাঝি, নীলকণ্ঠ, ছলনাময়ী, বেনে, টূয়া, মালাকার, রিয়া, চৌকিদার, অহসানী।
মোহাম্মদ নজিবর রহমানের প্রথম উপন্যাস ‘আনোয়ারা’ (১৯১৪)। তাঁর অন্যান্য উপন্যাস—প্রেমের সমাধি (১৯১৫), চাঁদতারা বা হাসান গঙ্গা বাহমণি (১৯১৭), পরিণাম (১৯১৮), গরিবের মেয়ে (১৯২৩), দুনিয়া আর চাইনা (১৯২৪)। উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ—বিলাতী বর্জন রহস্য (১৯০৪) ও সাহিত্য প্রসঙ্গ (১৯০৪)।
সত্যেন সেনের ‘পাপের সন্তান’ একটি উপন্যাস। তাঁর উল্লেখযোগ্য অন্যান্য উপন্যাস—অভিশপ্ত নগরী, আল-বেরুনী, পদচিহ্ন, সেয়ানা, উত্তরণ, মা, সাত নম্বর ওয়ার্ড, ভোরের বিহঙ্গী।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বোন ও বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা ঔপন্যাসিক স্বর্ণকুমারী দেবীর প্রথম উপন্যাস ‘দীপনির্বাণ’ (১৮৭৬)। এটি জাতীয়তাবাদী চেতনায় রচিত। তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটক—দেবকৌতুক, কনে বদল, রাজকন্যা, নিবেদিতা, যুগান্তর, দিব্যকমল।
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর ‘কাঁদো নদী কাঁদো’ একটি উল্লেখযোগ্য উপন্যাস। তাঁর উপন্যাস—লালসালু (১৯৪৮), চাঁদের অমাবস্যা, কাঁদো নদী কাঁদো। লালসালু Tree Without Roots নামে অনূদিত হয়। তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটক—বহিপীর, তরঙ্গভঙ্গ, উজানে মৃত্যু, সুড়ঙ্গ।
আহমদ ছফার উল্লেখযোগ্য রচনা—যদ্যপি আমার গুরু, আলাতচক্র, গাভী বিত্তান্ত, অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী এবং অনুবাদ গ্রন্থ ফাউস্ট।
সেলিনা হোসেনের ‘চাঁদবেনে’ একটি উপন্যাস, প্রকাশিত হয় ১৯৮৪ সালে। তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস— উত্তর সারথি (১৯৭১), জলোচ্ছ্বাস (১৯৭৩), জ্যোৎস্নায় সূর্যজ্বালা (১৯৭৩), হাঙর নদী গ্রেনেড (১৯৭৬), মগ্ন চৈতন্যে শিস (১৯৭৯), যাপিত জীবন (১৯৮১), নীল ময়ূরের যৌবন (১৯৮২), পদশব্দ (১৯৮২), পোকা মাকড়ের ঘরবসতি (১৯৮৬)।