বিগত সালের প্রশ্ন ও প্রশ্ন ব্যাংক
বিসিএস, ব্যাংক, প্রাথমিক শিক্ষক ও সকল সরকারি চাকরির বিগত সালের প্রশ্ন ও অধ্যায়ভিত্তিক নির্ভুল সমাধান
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর অভিষেক উপন্যাস ‘লালসালু’ ১৯৪৮ সালে প্রকাশিত। গ্রামীণ সমাজের সরল মানুষের বিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে ধর্মকে ব্যবসার উপাদান হিসেবে ব্যবহারের চিত্র এতে ফুটে উঠেছে। ‘লালসালু’ Tree Without Roots নামে অনূদিত এবং এ উপন্যাসের জন্য তিনি ১৯৬১ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার পান। তাঁর উপন্যাস—লালসালু, চাঁদের অমাবস্যা, কাঁদো নদী কাঁদো; নাটক—বহিপীর, তরঙ্গভঙ্গ, উজানে মৃত্যু, সুরঙ্গ।
হুমায়ূন আহমেদের উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে শঙ্খনীল কারাগার, এইসব দিনরাত্রি, গৌরীপুর জংশন, কবি, দারুচিনি দ্বীপ ও শ্রাবণ মেঘের দিন।
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সর্বশেষ উপন্যাস ‘সীতারাম’। এটি ঐতিহাসিক চরিত্র সীতারামকে কেন্দ্র করে রচিত। তাঁর আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরাণী ও সীতারাম—এই তিনটি উপন্যাসকে ত্রয়ী উপন্যাস বলা হয়। গ্রামীণ সমাজজীবনের চিত্র রয়েছে—তারাশঙ্করের গণদেবতা, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদ্মানদীর মাঝি ও বিভূতিভূষণের পথের পাঁচালী-তে।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘চোখের বালি’ বাংলা সাহিত্যের প্রথম মনস্তাত্ত্বিক সামাজিক উপন্যাস। এতে বাঙালি সমাজ ও পরিবারের বিচিত্র বিশ্লেষণের পাশাপাশি বিধবার ত্রিভুজ প্রেম তুলে ধরা হয়েছে। প্রধান চরিত্র—মহেন্দ্র, বিনোদিনী, আশালতা ও বিহারী।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাব্যধর্মী উপন্যাস ‘শেষের কবিতা’ ১৯২৮ সালে ‘প্রবাসী’ পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়। এর প্রধান চরিত্র অমিত রায় ও লাবণ্য। অমিত বিলেতে ব্যারিস্টারি পড়তে যায় এবং শিলংয়ে লাবণ্যের সঙ্গে তার প্রেম হয়। অমিতের পূর্বপরিচিত কেতকীর কারণে শেষ পর্যন্ত অমিত-লাবণ্যের বিয়ে হয় না; লাবণ্য শোভনলালকে বিয়ে করে।
স্বর্ণকুমারী দেবী ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বোন ও বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা ঔপন্যাসিক। তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘দীপনির্বাণ’ (১৮৭৬), যা জাতীয়তাবাদী চেতনায় রচিত। উল্লেখযোগ্য নাটক—দেবকৌতুক, কনে বদল, রাজকন্যা, নিবেদিতা, যুগান্তর, দিব্যকমল।
সুকান্ত ভট্টাচার্যের ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতাটি ‘ছাড়পত্র’ কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত এবং ১৯৪৮ সালে প্রকাশিত। কবিতায় আঠারো বছর বয়সের দুঃসাহস, আবেগ, উচ্ছ্বাস, সাহসিকতা, দুর্বার গতি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর মানসিকতা তুলে ধরা হয়েছে। কবি তারুণ্য ও যৌবনশক্তিকে জাতীয় জীবনের চালিকাশক্তি হিসেবে প্রত্যাশা করেছেন। উল্লেখ্য, অপশন ২ ব্যতীত সবগুলোই সঠিক।
বাংলা টপ্পা সঙ্গীতের প্রবর্তক রামনিধি গুপ্ত। তিনি ১৭৭৬ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির চাকরিসূত্রে বিহারের ছাপরায় গিয়ে হিন্দুস্তানি টপ্পা শেখেন। ১৭৯৪ সালে কলকাতায় ফিরে বাংলায় টপ্পা রচনা ও পরিবেশন শুরু করেন।
হুমায়ূন আহমেদের ‘দেয়াল’ ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের ট্র্যাজেডিকে কেন্দ্র করে রচিত একটি রাজনৈতিক উপন্যাস। আবু জাফর শামসুদ্দীন ছিলেন একজন সাংবাদিক ও সাহিত্যিক; ১৯১১ সালের ১২ মার্চ গাজীপুরের দক্ষিণবাগে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস—ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান, পদ্মা মেঘনা যমুনা, সংকর সংকীর্তন, দেয়াল, পরিত্যক্ত স্বামী।
ভাষাসৈনিক মাহবুব উল আলম চৌধুরী ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলনভিত্তিক প্রথম কবিতা ‘কাঁদতে আসিনি, ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি’ রচনা করেন। ২২ ফেব্রুয়ারি কবিতাটি চট্টগ্রামের লালদিঘি ময়দানে প্রথম পাঠ করেন চৌধুরী হারুন অর রশিদ। ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উল্লেখযোগ্য কবিতা—শামসুর রহমানের ‘বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা’ ও আলাউদ্দিন আল আজাদের ‘স্মৃতিস্তম্ভ’।
হাসান আজিজুল হক মূলত একজন কথাসাহিত্যিক। তাঁর উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থ—আমরা অপেক্ষা করেছি, আত্মজা ও একটি করবী গাছ, নামহীন গোত্রহীন, পাতালে হাসপাতালে, সমুদ্রের স্বপ্ন, শীতের অরণ্য, জীবন ঘষে আগুন। উপন্যাস—আগুনপাখি, সাবিত্রী উপাখ্যান, শিউলি, বৃত্তায়ন।
সেলিম আল দীন ছিলেন বাংলাদেশের প্রখ্যাত নাট্যকার ও গবেষক। তাঁর প্রকৃত নাম মইনুদ্দিন আহমেদ। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের নাট্য আন্দোলনে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বাংলা নাট্যের ঐতিহ্য ও শিকড় অনুসন্ধান করে তিনি নিজ নাটকে দেশীয় বিষয় ও আঙ্গিক প্রয়োগ করেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য নাট্যগ্রন্থ—চাকা, কীর্তনখোলা, কেরামতমঙ্গল, যৈবতী কন্যার মন, হরগজ, হাতহদাই, শকুন্তলা, নিমজ্জন, বাসন, মুনতাসীর ফ্যান্টাসি ইত্যাদি।
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত বাংলা সাহিত্যের একজন বিখ্যাত কবি, অনুবাদক ও প্রাবন্ধিক। তাঁর একমাত্র উপন্যাস ‘জন্মদুঃখী’, যা ১৯১২ সালে প্রকাশিত হয়।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মোট ১১৯টি ছোটগল্প রয়েছে। প্রেমবিষয়ক গল্প: শেষকথা, মধ্যবর্তিনী, সমাপ্তি (মৃন্ময়ী), নষ্টনীড় (চারু), একরাত্রি (সুরবালা)। সমাজবিষয়ক গল্প: ছুটি (ফটিক), হৈমন্তী (হৈমন্তী, অপু, গৌরীশঙ্কর), পোস্টমাস্টার (রতন), দেনাপাওনা (প্রথম সার্থক ছোটগল্প), খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন (রাইচরণ), কাবুলিওয়ালা (রহমত, খুকি), শাস্তি (চন্দরা), দুরাশা, মাস্টারমশাই। অতিপ্রাকৃত গল্প: ক্ষুধিত পাষাণ (মেহের আলী), কঙ্কাল, নিশীথে, জীবিত ও মৃত (কাদম্বিনী)।
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উল্লেখযোগ্য নাটক— যে অরণ্যে আলো নেই (নীলিমা ইব্রাহীম), পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় (সৈয়দ শামসুল হক), বর্ণচোরা ও কী চাহ শঙ্খচিল (মমতাজউদ্দীন আহমেদ), নরকে লাল গোলাপ (আলাউদ্দিন আল আজাদ), প্রতিদিন একদিন (সাঈদ আহমদ)। প্রবন্ধ/স্মৃতিকথা— A Search for Identity (মেজর মোহাম্মদ আবদুল জলিল), The Liberation of Bangladesh (মেজর জেনারেল সুখওয়ান্ত সিং), আমি বীরাঙ্গনা বলছি (নীলিমা ইব্রাহীম), একাত্তরের ঢাকা (সেলিনা হোসেন), আমি বিজয় দেখেছি (এম. আর. আখতার মুকুল), একাত্তরের দিনগুলি (জাহানারা ইমাম), একাত্তরের ডায়েরি (সুফিয়া কামাল), একাত্তরের যীশু (শাহরিয়ার কবির)। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র— Stop Genocide (জহির রায়হান), ওরা ১১ জন ও হাঙর নদী গ্রেনেড (চাষী নজরুল ইসলাম), আবার তোরা মানুষ হ (খান আতাউর রহমান), অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী (সুভাষ দত্ত)। জনপ্রিয় মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস— রাইফেল রোটি আওরাত, নেকড়ে অরণ্য, যাত্রা, হাঙর নদী গ্রেনেড, জীবন আমার বোন, দ্বিতীয় দিনের কাহিনী, খাঁচায়, জোছনা ও জননীর গল্প, সাড়ে তিন হাত ভূমি, জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা।
পল্লীকবি জসীমউদ্দীন ১ জানুয়ারি ১৯০৩ সালে ফরিদপুরের তাম্বুলখানা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৩ মার্চ ১৯৭৬ সালে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ—রাখালী, বালুচর, ধানক্ষেত, মাটির কান্না, সুচয়নী, রূপবতী। তাঁর উল্লেখযোগ্য কবিতা—নিমন্ত্রণ, আসমানী, রাখাল ছেলে, মুসাফির, চাষার ছেলে, পল্লীজননী।