স্বর্ণকুমারী দেবী ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বোন ও বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা ঔপন্যাসিক। তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘দীপনির্বাণ’ (১৮৭৬), যা জাতীয়তাবাদী চেতনায় রচিত। উল্লেখযোগ্য নাটক—দেবকৌতুক, কনে বদল, রাজকন্যা, নিবেদিতা, যুগান্তর, দিব্যকমল।
বিগত সালের প্রশ্ন ও প্রশ্ন ব্যাংক
বিসিএস, ব্যাংক, প্রাথমিক শিক্ষক ও সকল সরকারি চাকরির বিগত সালের প্রশ্ন ও অধ্যায়ভিত্তিক নির্ভুল সমাধান
সুকান্ত ভট্টাচার্যের ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতাটি ‘ছাড়পত্র’ কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত এবং ১৯৪৮ সালে প্রকাশিত। কবিতায় আঠারো বছর বয়সের দুঃসাহস, আবেগ, উচ্ছ্বাস, সাহসিকতা, দুর্বার গতি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর মানসিকতা তুলে ধরা হয়েছে। কবি তারুণ্য ও যৌবনশক্তিকে জাতীয় জীবনের চালিকাশক্তি হিসেবে প্রত্যাশা করেছেন। উল্লেখ্য, অপশন ২ ব্যতীত সবগুলোই সঠিক।
বাংলা টপ্পা সঙ্গীতের প্রবর্তক রামনিধি গুপ্ত। তিনি ১৭৭৬ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির চাকরিসূত্রে বিহারের ছাপরায় গিয়ে হিন্দুস্তানি টপ্পা শেখেন। ১৭৯৪ সালে কলকাতায় ফিরে বাংলায় টপ্পা রচনা ও পরিবেশন শুরু করেন।
হুমায়ূন আহমেদের ‘দেয়াল’ ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের ট্র্যাজেডিকে কেন্দ্র করে রচিত একটি রাজনৈতিক উপন্যাস। আবু জাফর শামসুদ্দীন ছিলেন একজন সাংবাদিক ও সাহিত্যিক; ১৯১১ সালের ১২ মার্চ গাজীপুরের দক্ষিণবাগে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস—ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান, পদ্মা মেঘনা যমুনা, সংকর সংকীর্তন, দেয়াল, পরিত্যক্ত স্বামী।
ভাষাসৈনিক মাহবুব উল আলম চৌধুরী ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলনভিত্তিক প্রথম কবিতা ‘কাঁদতে আসিনি, ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি’ রচনা করেন। ২২ ফেব্রুয়ারি কবিতাটি চট্টগ্রামের লালদিঘি ময়দানে প্রথম পাঠ করেন চৌধুরী হারুন অর রশিদ। ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উল্লেখযোগ্য কবিতা—শামসুর রহমানের ‘বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা’ ও আলাউদ্দিন আল আজাদের ‘স্মৃতিস্তম্ভ’।
হাসান আজিজুল হক মূলত একজন কথাসাহিত্যিক। তাঁর উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থ—আমরা অপেক্ষা করেছি, আত্মজা ও একটি করবী গাছ, নামহীন গোত্রহীন, পাতালে হাসপাতালে, সমুদ্রের স্বপ্ন, শীতের অরণ্য, জীবন ঘষে আগুন। উপন্যাস—আগুনপাখি, সাবিত্রী উপাখ্যান, শিউলি, বৃত্তায়ন।
সেলিম আল দীন ছিলেন বাংলাদেশের প্রখ্যাত নাট্যকার ও গবেষক। তাঁর প্রকৃত নাম মইনুদ্দিন আহমেদ। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের নাট্য আন্দোলনে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বাংলা নাট্যের ঐতিহ্য ও শিকড় অনুসন্ধান করে তিনি নিজ নাটকে দেশীয় বিষয় ও আঙ্গিক প্রয়োগ করেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য নাট্যগ্রন্থ—চাকা, কীর্তনখোলা, কেরামতমঙ্গল, যৈবতী কন্যার মন, হরগজ, হাতহদাই, শকুন্তলা, নিমজ্জন, বাসন, মুনতাসীর ফ্যান্টাসি ইত্যাদি।
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত বাংলা সাহিত্যের একজন বিখ্যাত কবি, অনুবাদক ও প্রাবন্ধিক। তাঁর একমাত্র উপন্যাস ‘জন্মদুঃখী’, যা ১৯১২ সালে প্রকাশিত হয়।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মোট ১১৯টি ছোটগল্প রয়েছে। প্রেমবিষয়ক গল্প: শেষকথা, মধ্যবর্তিনী, সমাপ্তি (মৃন্ময়ী), নষ্টনীড় (চারু), একরাত্রি (সুরবালা)। সমাজবিষয়ক গল্প: ছুটি (ফটিক), হৈমন্তী (হৈমন্তী, অপু, গৌরীশঙ্কর), পোস্টমাস্টার (রতন), দেনাপাওনা (প্রথম সার্থক ছোটগল্প), খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন (রাইচরণ), কাবুলিওয়ালা (রহমত, খুকি), শাস্তি (চন্দরা), দুরাশা, মাস্টারমশাই। অতিপ্রাকৃত গল্প: ক্ষুধিত পাষাণ (মেহের আলী), কঙ্কাল, নিশীথে, জীবিত ও মৃত (কাদম্বিনী)।
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উল্লেখযোগ্য নাটক— যে অরণ্যে আলো নেই (নীলিমা ইব্রাহীম), পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় (সৈয়দ শামসুল হক), বর্ণচোরা ও কী চাহ শঙ্খচিল (মমতাজউদ্দীন আহমেদ), নরকে লাল গোলাপ (আলাউদ্দিন আল আজাদ), প্রতিদিন একদিন (সাঈদ আহমদ)। প্রবন্ধ/স্মৃতিকথা— A Search for Identity (মেজর মোহাম্মদ আবদুল জলিল), The Liberation of Bangladesh (মেজর জেনারেল সুখওয়ান্ত সিং), আমি বীরাঙ্গনা বলছি (নীলিমা ইব্রাহীম), একাত্তরের ঢাকা (সেলিনা হোসেন), আমি বিজয় দেখেছি (এম. আর. আখতার মুকুল), একাত্তরের দিনগুলি (জাহানারা ইমাম), একাত্তরের ডায়েরি (সুফিয়া কামাল), একাত্তরের যীশু (শাহরিয়ার কবির)। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র— Stop Genocide (জহির রায়হান), ওরা ১১ জন ও হাঙর নদী গ্রেনেড (চাষী নজরুল ইসলাম), আবার তোরা মানুষ হ (খান আতাউর রহমান), অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী (সুভাষ দত্ত)। জনপ্রিয় মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস— রাইফেল রোটি আওরাত, নেকড়ে অরণ্য, যাত্রা, হাঙর নদী গ্রেনেড, জীবন আমার বোন, দ্বিতীয় দিনের কাহিনী, খাঁচায়, জোছনা ও জননীর গল্প, সাড়ে তিন হাত ভূমি, জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা।
পল্লীকবি জসীমউদ্দীন ১ জানুয়ারি ১৯০৩ সালে ফরিদপুরের তাম্বুলখানা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৩ মার্চ ১৯৭৬ সালে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ—রাখালী, বালুচর, ধানক্ষেত, মাটির কান্না, সুচয়নী, রূপবতী। তাঁর উল্লেখযোগ্য কবিতা—নিমন্ত্রণ, আসমানী, রাখাল ছেলে, মুসাফির, চাষার ছেলে, পল্লীজননী।
নুরুল মোমেন মূলত নাট্যকার ও রম্যসাহিত্যিক। তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটক—রূপান্তর (১৯৪১), নেমেসিস (১৯৪৮), যদি এমন হতো (১৯৬০), নয়া খান্দান (১৯৬২), আলোছায়া (১৯৬২), শতকরা আশি (১৯৬৭), আইনের অন্তরালে (১৯৬৭), যেমন ইচ্ছা তেমন (১৯৭০)। রম্যগ্রন্থ—বহুরূপ (১৩৬৫), নরসুন্দর (১৯৬১), হিংটিং ছট (১৯৭০)।
নির্মলেন্দু গুণের ‘চিরকালের বাঁশী’ কাব্যগ্রন্থটি ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত হয়। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ—প্রেমাংশুর রক্ত চাই (১৯৭০), না প্রেমিক না বিপ্লবী (১৯৭২), অমীমাংসিত রমণী (১৯৭৩), দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী (১৯৭৪), চৈত্রের ভালোবাসা (১৯৭৫), চাষাভুষার কাব্য (১৯৮১), অচল পদাবলী (১৯৮২), পৃথিবীজোড়া গান (১৯৮২), নির্বাচিতা (১৯৮৩), শান্তির ডিক্রি (১৯৮৪) ইত্যাদি।
শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মজীবনী ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ ২০১২ সালের জুনে ইউপিএল থেকে প্রকাশিত হয়। কারাগারে ১৯৬৭–১৯৬৯ সময়ে তিনি এটি লেখা শুরু করেন, তবে শেষ করতে পারেননি। চারটি খাতায় লেখা পাণ্ডুলিপি থেকে বইটি প্রকাশিত হয়। ইংরেজি অনুবাদ The Unfinished Memoirs—ফকরুল আলম, জাপানি অনুবাদ—কাজুহিরো ওয়াতানাবে, চীনা অনুবাদ—চাই ঝি।
কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য ১৯২৬ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়ায়। মাত্র ২১ বছর বয়সে ১৯৪৭ সালে যক্ষ্মায় মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ—ছাড়পত্র, ঘুম নেই, পূর্বাভাস, অভিযান, হরতাল।
আধুনিক বাংলা সাহিত্যের ত্রিশের দশকের পাঁচজন প্রধান কবিকে ‘পঞ্চপাণ্ডব’ বলা হয়—বুদ্ধদেব বসু, জীবনানন্দ দাশ, সুধীন্দ্রনাথ দত্ত, বিষ্ণু দে ও অমিয় চক্রবর্তী। কল্লোল যুগ বাংলা সাহিত্যের আধুনিকতার সূচনাপর্ব। ‘কল্লোল’ পত্রিকাকে কেন্দ্র করে ১৯৩০-এর দশকে একদল তরুণ কবি-সাহিত্যিক পাশ্চাত্য আধুনিকতার প্রভাব গ্রহণ করেন। বুদ্ধদেব বসু ছিলেন এ যুগের অন্যতম প্রধান কাণ্ডারী। এ যুগের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল রবীন্দ্র-প্রভাবের বাইরে নতুন সাহিত্যধারা সৃষ্টি।
শামসুদ্দীন আবুল কালামের ‘কাশবনের কন্যা’ (১৯৫৪) গ্রামীণ জীবনের পটভূমিতে রচিত একটি উপন্যাস। তিনি ‘মাহে নও’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস—কাঞ্চনগ্রাম, আলমনগরের উপকথা, সমুদ্রবাসর, জায়জঙ্গল, দুই মহল, নবান্ন, কাঞ্চনমালা। গল্পগ্রন্থ—দুই হৃদয়ের তীর, অনেক দিনের আশা, পথ জানা নেই।
সেলিনা হোসেনের ‘কাঠকয়লার ছবি’ উপন্যাসে চা-বাগানের শ্রমিকদের জীবনযাত্রা তুলে ধরা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য উপন্যাস—জলোচ্ছ্বাস (১৯৭২), হাঙর নদী গ্রেনেড (১৯৭৬), যাপিত জীবন (১৯৮১), পোকামাকড়ের ঘরবসতি (১৯৮৬), নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি (১৯৮৭), কাঁটাতারে প্রজাপতি (১৯৮৯), কাকতাড়ুয়া (১৯৯৬), যুদ্ধ (১৯৯৮)। এর মধ্যে হাঙর নদী গ্রেনেড ও যুদ্ধ মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক, যাপিত জীবন ভাষা আন্দোলনভিত্তিক এবং কাঁটাতারে প্রজাপতি তেভাগা আন্দোলনভিত্তিক।
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘একটি কালো মেয়ের কথা’ (১৯৭১) মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ও তাঁর সর্বশেষ উপন্যাস; কেন্দ্রীয় চরিত্র নাজমা। তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস—ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম। প্রথম গল্প ‘রসকলি’ ‘কল্লোল’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। উল্লেখযোগ্য উপন্যাস—চৈতালি ঘূর্ণি, কালিন্দী, আরোগ্য নিকেতন, কবি, হাঁসুলি বাঁকের উপকথা, রাধা ইত্যাদি; ছোটগল্প—বেদেনী, রসকলি, ডাকহরকরা।
শহীদুল্লাহ কায়সারের ‘সারেং বউ’ উপন্যাসে বাংলাদেশের উপকূলীয় মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরা হয়েছে। উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র কদম সারেং ও নবীতুন। এতে বিভিন্ন সংস্কারকে তুচ্ছ করে মানুষের বিজয়কে তুলে ধরা হয়েছে।
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘রসকলি’ (১৯২৮) একটি উল্লেখযোগ্য ছোটগল্প। তাঁর অন্যান্য ছোটগল্প—বেদেনী (১৯৪০), ডাক হরকরা, পাষাণপুরী, রিণী মাঝি, নীলকণ্ঠ, ছলনাময়ী, বেনে, টূয়া, মালাকার, রিয়া, চৌকিদার, অহসানী।