কাজী নজরুল ইসলাম: উল্লেখযোগ্য নাট্যগ্রন্থ— ঝিলিমিলি, আলেয়া, পুতুলের বিয়ে, মধুমালা, ঝড়, পিলে পটকা পুতুলের বিয়ে।
বিগত সালের প্রশ্ন ও প্রশ্ন ব্যাংক
বিসিএস, ব্যাংক, প্রাথমিক শিক্ষক ও সকল সরকারি চাকরির বিগত সালের প্রশ্ন ও অধ্যায়ভিত্তিক নির্ভুল সমাধান
বিহারীলাল চক্রবর্তী: শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ— সারদামঙ্গল (১৮৭৯); পাঁচ খণ্ডে রচিত। প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ: স্বপ্নদর্শন (১৮৫৮)। অন্যান্য রচনা: সঙ্গীত শতক, বঙ্গসুন্দরী, নিসর্গসন্দর্শন, বন্ধুবিয়োগ, দেবরানী, বাউলবিংশতি, সাধের আসন, ধূমকেতু।
রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ: বাতাসে লাশের গন্ধ— মুক্তিযুদ্ধের নির্মমতা ও স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকার প্রতি পরাজিত শক্তির লোলুপ দৃষ্টি ফুটে উঠেছে। কাব্যগ্রন্থ: উপদ্রুত উপকূল (১৯৭৯), ফিরে চাই স্বর্ণগ্রাম (১৯৮১), মানুষের মানচিত্র, ছোবল (১৯৮৬), গল্প (১৯৮৭), দিয়েছিলে সকল আকাশ (১৯৮৮), মৌলিক মুখোশ (১৯৯০)।
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: মন্দির— তাঁর প্রথম ছোটগল্প। উল্লেখযোগ্য ছোটগল্প: মন্দির, মহেশ, মেজদিদি, মামলার ফল, বিলাসী।
দীনবন্ধু মিত্র: সধবার একাদশী— সামাজিক নাটক ও প্রহসন; বাংলা গদ্যসাহিত্যের আদি নিদর্শনগুলোর একটি। অন্যান্য প্রহসন: জামাই বারিক।
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়: উল্লেখযোগ্য উপন্যাস— পথের পাঁচালী (১৯২৯), অপরাজিত (১৯৩১), দৃষ্টি প্রদীপ (১৯৩৫), আরণ্যক (১৯৩৮), আদর্শ হিন্দু হোটেল (১৯৪০), দেবযান (১৯৪৪), ইছামতী (১৯৪৯)। ছোটগল্পগ্রন্থ: মেঘমল্লার (১৯৩১), মৌরীফুল (১৯৩২), যাত্রাবদল (১৯৩৪), কিন্নরদল (১৯৩৮)।
দ্বিজেন্দ্রলাল রায়: সাজাহান— বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ঐতিহাসিক নাটক; সম্রাট শাহজাহানকে নিয়ে রচিত। তিনি পঞ্চকবির একজন। ঐতিহাসিক নাটক: নূরজাহান, চন্দ্রগুপ্ত, দুর্গাদাস, তারাবাঈ, সিংহল বিজয়, রানা প্রতাপ সিংহ, সাজাহান, মেবার পতন, সোরাব-রুস্তম। সামাজিক নাটক: পরপারে, বঙ্গনারী, বিরহ। নকশা ও প্রহসন: আনন্দ বিদায়, কল্কি অবতার, ত্র্যহস্পর্শ, প্রায়শ্চিত্ত, পুনর্জন্ম।
হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়: মূলত মহাকাব্যের কবি; নলিনী বসন্ত— কাব্য, প্রকাশ— ১৮৭০। মহাকাব্য: বৃত্রসংহার। কাব্যগ্রন্থ: চিন্তাতরঙ্গিণী, বীরবাহু, ছায়াময়ী, দশমহাবিদ্যা, আশাকানন, চিত্তবিকাশ।
হুমায়ূন আহমেদ: মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস— আগুনের পরশমণি, অনিল বাগচীর একদিন, সূর্যের দিন, শ্যামল ছায়া, জোছনা ও জননীর গল্প, ১৯৭১।
মোজাম্মেল হক: জোহরা— উপন্যাস; প্রকাশ— ১৯১৭। উল্লেখযোগ্য রচনা: কুসুমাঞ্জলি, অপূর্বদর্শন, মহর্ষি-মনসুর, ফেরদৌসী-চরিত, শাহনামা, তাপসকাহিনী, খাজা ময়ীনউদ্দীন চিশতী, প্রেমহার, হজরত মহাম্মদ, জাতীয় ফোয়ারা, ইসলাম সঙ্গীত, হাতেমতাই, টিপু সুলতান, দরাফ খান গাজী।
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত ''চাঁদের অমাবস্যা'' (১৯৪৬) মনোসমীক্ষণমূলক উপন্যাস।
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রতিষ্ঠাকালীন বিভাগীয় প্রধান; ১৯০৭ সালে নেপালের রাজদরবারের রয়্যাল লাইব্রেরি থেকে চর্যাপদ আবিষ্কার করেন। উপন্যাস: কাঞ্চনমালা, বেণের মেয়ে। অন্যান্য গ্রন্থ: বাল্মীকির জয়, বাঙ্গালা ব্যাকরণ, প্রাচীন বাংলার গৌরব, সচিত্র রামায়ণ। চর্যাপদ: আবিষ্কৃত পুঁথিতে সাড়ে ৪৬টি পদ; ২৩ নং পদের শেষাংশ এবং ২৪, ২৫ ও ৪৮ নং পদ অনুপস্থিত।
আবুল ফজল (১৯০৩–১৯৮৩): বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের অগ্রসৈনিক, শিক্ষাবিদ, বুদ্ধিজীবী, সাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক। উপন্যাস: চৌচির, প্রদীপ ও পতঙ্গ, রাঙা প্রভাত। গল্পগ্রন্থ: মাটির পৃথিবী, মৃতের আত্মহত্যা।
নুরুল মোমেন: মূলত নাট্যকার ও রম্যসাহিত্যিক। রূপান্তর— কমেডি নাটক; ১৯৪১ সালে রেডিওর জন্য রচনা ও নির্দেশনা দেন। উল্লেখযোগ্য নাটক: নেমেসিস (১৯৪৮), যদি এমন হতো (১৯৬০), নয়া খান্দান, আলোছায়া (১৯৬২), যেমন ইচ্ছা তেমন (১৯৭০), শতকরা আশি, আইনের অন্তরালে (১৯৬৭)। রম্যগ্রন্থ: বহুরূপ (১৩৬৫), নরসুন্দর (১৯৬১), হিংটিং ছট (১ম ও ২য় খণ্ড, ১৯৭০)।
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়: পথের পাঁচালী— উপন্যাস; প্রধান চরিত্র— অপু ও দুর্গা। প্রকাশ— ১৯২৯। উল্লেখযোগ্য উপন্যাস: অপরাজিত (১৯৩১), আরণ্যক (১৯৩৮), আদর্শ হিন্দু হোটেল (১৯৪০), ইছামতী (১৯৪৯)।
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: গৃহদাহ— ত্রিভুজ প্রেমের উপন্যাস; প্রধান চরিত্র— সুরেশ, অচলা ও মহিম। প্রথম প্রকাশিত গল্প: মন্দির; এ গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন পুরস্কার লাভ করেন। উল্লেখযোগ্য উপন্যাস: পথের দাবী, দেনা-পাওনা, বড়দিদি, বিরাজবৌ, পণ্ডিতমশাই, পরিণীতা, শেষ প্রশ্ন, শেষের পরিচয়, চন্দ্রনাথ, দেবদাস, চরিত্রহীন।
দ্বিজেন্দ্রলাল রায় (ডি. এল. রায়): তাপসী— নাটক। উল্লেখযোগ্য নাটক: নূরজাহান, মেবার পতন, সাজাহান (সর্বশ্রেষ্ঠ), সিংহল-বিজয়।
জসীমউদ্দীন: পল্লীকবি; প্রথম কাব্যগ্রন্থ— রাখালী। উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ: রাখালী, ধানক্ষেত, নকসী কাঁথার মাঠ, সোজন বাদিয়ার ঘাট, রূপবতী, মাটির কান্না, সুচয়নী, মা যে জননী কান্দে, বালুচর।
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ: বাংলাদেশের প্রথম চেতনাপ্রবাহরীতির উপন্যাস রচয়িতা। কাঁদো নদী কাঁদো: চেতনাপ্রবাহরীতির উপন্যাস; প্রকাশ— ১৯৬৮।
আল মাহমুদ: কাবিলের বোন— মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস; পাঁচ পর্বে বিভক্ত। এতে নাগরিক পরিচয়ের সংকট, গণঅভ্যুত্থান ও মুক্তিযুদ্ধের চিত্র উঠে এসেছে। কাব্যগ্রন্থ: লোক লোকান্তর, কালের কলস, বখতিয়ারের ঘোড়া, পাখির কাছে ফুলের কাছে, দোয়েল ও দয়িতা, অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না, দ্বিতীয় ভাঙন। উপন্যাস: ডাহুকী, আগুনের মেয়ে, উপমহাদেশ, কাবিলের বোন। গল্প: পানকৌড়ির রক্ত।
আবু ইসহাক (১৯২৬–২০০৩): কথাসাহিত্যিক ও অভিধান-প্রণেতা। সূর্য দীঘল বাড়ি: তাঁর প্রথম উপন্যাস; উপজীব্য— পঞ্চাশের মন্বন্তর। প্রধান চরিত্র— জয়গুণ, হাসু ও মোড়ল গদু। ১৯৭৯ সালে চলচ্চিত্রায়িত। অন্যান্য: পদ্মার পলিদ্বীপ— দ্বিতীয় সামাজিক উপন্যাস; জাল— গোয়েন্দা উপন্যাস; গল্পগ্রন্থ— হারেম (১৯৬২), মহাপতঙ্গ (১৯৬৩); নাটক— জয়ধ্বনি; ছোটগল্প— জোঁক।
আবদুল হাকিম (১৬২০–১৬৯০): মধ্যযুগের অন্যতম প্রধান কবি। বঙ্গবাণী— তাঁর বিখ্যাত কবিতা; নূরনামা— বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ। অন্যান্য কাব্য: ইউসুফ-জোলেখা, দুররে মজলিশ, লালমতি সয়ফুলমুলুক, হানি-ফার লড়াই।
কুসুমকুমারী দাশ: কবিতা মুকুল— কাব্যগ্রন্থ। জীবনানন্দ দাশ: কবিতার কথা— প্রবন্ধ।
জাহানারা ইমাম: লেখিকা, কথাসাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ; পরিচিতি— শহীদ জননী। বিখ্যাত গ্রন্থ: একাত্তরের দিনগুলি। শিশুসাহিত্য: গজকচ্ছপ, সাতটি তারার ঝিকিমিকি, বিদায় দে মা ঘুরে আসি। অনুবাদ: জাগ্রত ধরিত্রী, তেপান্তরের ছোট্ট শহর, নদীর তীরে ফুলের মেলা। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক: বীরশ্রেষ্ঠ, একাত্তরের দিনগুলি। অন্যান্য: অন্য জীবন, জীবন মৃত্যু, শেক্সপীয়রের ট্র্যাজেডি, নিঃসঙ্গ পাইন, বুকের ভিতরে আগুন, নাটকের অবসান, দুই মেরু, প্রবাসের দিনগুলি, ক্যান্সারের সঙ্গে বসবাস। বিশেষ: সাতটি তারার তিমির— জীবনানন্দ দাশের কাব্যগ্রন্থ।