বিগত সালের প্রশ্ন ও প্রশ্ন ব্যাংক
বিসিএস, ব্যাংক, প্রাথমিক শিক্ষক ও সকল সরকারি চাকরির বিগত সালের প্রশ্ন ও অধ্যায়ভিত্তিক নির্ভুল সমাধান
আফ্রিকার সবচেয়ে বড় নির্মাণাধীন বিমানবন্দরটির নাম বিশোফতু ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (Bishoftu International Airport)। প্রকল্পটি
সম্পর্কে মূল তথ্য: অবস্থান: ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবা থেকে প্রায় ৩০ মাইল (৪০-৪৫ কিমি) দক্ষিণ-পূর্বে বিশোফতু শহরে এটি নির্মিত হচ্ছে। নির্মাণাধীন সংস্থা: ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্স।
বাংলাদেশে প্রতি বছর ২১ মে 'জাতীয় চা দিবস' উদযাপিত হবে ।
আগে ৪ জুন এই দিবস পালিত হলেও, আন্তর্জাতিক চা দিবসের সাথে মিল রেখে সরকার এর তারিখ পরিবর্তন করে ২১ মে নির্ধারণ করেছে
। মূল তথ্যাবলী: নতুন তারিখ: ২১ মে । পূর্বের তারিখ: ৪ জুন । সিদ্ধান্ত গ্রহণ: মন্ত্রিসভা বৈঠকে তারিখ পরিবর্তনের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে । কারণ: আন্তর্জাতিক চা দিবস (২১ মে) এর সাথে সামঞ্জস্য রাখা এবং বিশ্বের অন্যান্য চা উৎপাদনকারী দেশের সাথে মিল রেখে । জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO) ২০২০ সাল থেকে ২১ মে আন্তর্জাতিক চা দিবস পালন করে আসছে, যার ফলে বাংলাদেশও এই তারিখটি গ্রহণ করেছে
‘এল নিনো’ (El Niño) হলো প্রশান্ত মহাসাগরের পানি অস্বাভাবিক গরম হওয়ার একটি জলবায়ুগত ঘটনা, যা বিশ্বজুড়ে চরম আবহাওয়া সৃষ্টি করে । এর প্রভাবে দক্ষিণ এশিয়ায় তীব্র খরা, দাবদাহ এবং দক্ষিণ আমেরিকায় বন্যার মতো দুর্যোগ দেখা দেয় ।
বাংলাদেশে এটি শুষ্কতা ও স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টির কারণ হয়ে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত করে । এল নিনোর প্রধান প্রভাবসমূহ: বিশ্বব্যাপী চরম আবহাওয়া: সাধারণত প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্ব অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায় । এর ফলে এক অঞ্চলে মারাত্মক খরা (যেমন- অস্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ভারত) এবং অন্য অঞ্চলে ভারীবর্ষণ ও বন্যা (যেমন- দক্ষিণ আমেরিকা) দেখা দেয় ।
বাংলাদেশে প্রভাব: বাংলাদেশে এল নিনোর বছরে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাত হয় এবং দাবদাহ বা তাপপ্রবাহের প্রবণতা বেড়ে যায় । এর ফলে আমন ধানসহ বিভিন্ন ফসলের উৎপাদন কমে গিয়ে খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ে ।
তিস্তা সোলার লিমিটেড সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর ইউনিয়নের লাঠশালা ও চরখোর্দ্দা গ্রামে অবস্থিত ।
এটি তিস্তা নদীর পাড়ে প্রায় ৬৫০ একর জমিতে নির্মিত বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় এবং ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প । মূল তথ্য: অবস্থান: সুন্দরগঞ্জ, গাইবান্ধা (তিস্তা নদীর তীর) । ক্ষমতা: ২০০ মেগাওয়াট । উদ্যোক্তা: বেক্সিমকো পাওয়ার লিমিটেড (বেক্সিমকো গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান) । এটি ২০২৩ সালের ২ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয় এবং গত ডিসেম্বর থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে ।
বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে LCOE-এর পূর্ণরূপ হলো Levelized Cost of Electricity। বাংলায় একে সাধারণত "বিদ্যুতের সমতলিত খরচ" বা "বিদ্যুৎ উৎপাদনের সমতূল্য ব্যয়" বলা হয়ে থাকে।
LCOE কী? এটি কোনো বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র (যেমন- সৌর, কয়লা বা গ্যাস ভিত্তিক) তার পুরো জীবনকালে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে, তার গড় প্রতি ইউনিট খরচের পরিমাপ।
নতুন উদ্ভাবিত 'ব্রি ধান ১০১' (BRRI dhan101) ধানের জাতটি মূলত ব্যাকটেরিয়াজনিত পাতা পোড়া রোগ বা বিএলবি (Bacterial Leaf Blight - BLB) প্রতিরোধী ।
ব্রি ধান ১০১-এর প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ:
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা: এটি ব্যাকটেরিয়াজনিত পোড়া রোগ প্রতিরোধী আধুনিক বোরো ধানের জাত ।
জীবনকাল: এই জাতের ধান পেকে ঘরে তুলতে ১৪২ দিন (১৩৫-১৫২ দিন) সময় লাগে, যা জনপ্রিয় ব্রি ধান২৮ ও ব্রি ধান৫৮ এর মাঝামাঝি।
ফলন: এর গড় ফলন হেক্টর প্রতি ৭.৭২ টন, তবে সঠিক পরিচর্যায় এটি ৮.৯৯ টন পর্যন্ত ফলন দিতে সক্ষম । ধানের বৈশিষ্ট্য: চাল চিকন, লম্বা এবং ভাত ঝরঝরে ও সুস্বাদু হয় । চাষাবাদ: যেসব এলাকায় ব্যাকটেরিয়াজনিত পোড়া রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি হয়, সেসব এলাকার জন্য এই জাতটি বিশেষভাবে উপযোগী ।
বিদেশের মাটিতে চীনের প্রথম ও একমাত্র আনুষ্ঠানিক সামরিক ঘাঁটি পূর্ব আফ্রিকার দেশ জিবুতিতে (Djibouti) অবস্থিত । ২০১৭ সালের আগস্টে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘাঁটিটি চালু করা হয়, যা লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের কৌশলগত প্রবেশপথে অবস্থিত ।
অবস্থান: জিবুতি শহরের ডোরেলেহ (Doraleh) বন্দরের কাছে । উদ্দেশ্য: এটি মূলত জলদস্যুতা বিরোধী, শান্তিরক্ষা, মানবিক সহায়তা এবং এই অঞ্চলে চীনের বাণিজ্যিক ও কৌশলগত স্বার্থ রক্ষার জন্য ব্যবহৃত হয় । তাৎপর্য: এটি আফ্রিকার শিং (Horn of Africa) অঞ্চলে চীনের নৌবাহিনীর উপস্থিতি এবং সক্ষমতা বৃদ্ধি করেছে ।
সম্প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সাতটি প্রতিষ্ঠানের ওপর রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে চীন । তাইওয়ান ইস্যুতে অস্ত্র সরবরাহ ও সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে । চীনা বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই প্রতিষ্ঠানগুলো এখন থেকে চীন থেকে 'দ্বৈত ব্যবহার' (সামরিক ও বেসামরিক কাজে ব্যবহৃত) যোগ্য পণ্য বা প্রযুক্তি কিনতে পারবে না ।
মূল বিষয়সমূহ: নিষেধাজ্ঞাকারী দেশ: চীন । লক্ষ্য: ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সাতটি প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান । কারণ: তাইওয়ানে অস্ত্র বিক্রি ও তাদের সাথে সহযোগিতা । নিষেধাজ্ঞার ধরন: 'দ্বৈত ব্যবহার' (Dual-use) পণ্য বা প্রযুক্তি রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা । ঘোষণা: এপ্রিল ২০২৬-এর চতুর্থ সপ্তাহে চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এই ঘোষণা দেয় ।
সম্প্রতি (এপ্রিল ২০২৬) ঢাকার আগারগাঁওয়ে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে নতুন একটি ‘প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর’ উদ্বোধন করা হয়েছে ।
উদ্বোধক: সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।
অবস্থান: প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ের তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় । বৈশিষ্ট্য: এই জাদুঘরে বাংলাদেশের প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নবস্তু প্রদর্শন করা হয়েছে । এতে খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয় শতক থেকে দ্বাদশ শতাব্দী পর্যন্ত সময়ের মৃৎপাত্র, ধাতব পাত্র, সিল বা সিলিং এবং পোড়ামাটির বল রয়েছে । এছাড়াও ১০ম-১১শ শতাব্দীর ‘বিষ্ণু’ মূর্তি এবং অষ্টম-নবম শতাব্দীর প্রত্নবস্তু এখানে স্থান পেয়েছে ।
সম্প্রতি (২৫ এপ্রিল, ২০২৬) উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ইমেজিং স্যাটেলাইট 'পিআরএসসি-ইও-৩' (PRSC-EO3) উৎক্ষেপণ করেছে পাকিস্তান। মূল তথ্য: উৎক্ষেপণ
কেন্দ্র: চীনের উত্তরাঞ্চলীয় শানসি প্রদেশের তাইয়ুয়ান স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ কেন্দ্র (Taiyuan Satellite Launch Centre)। সহযোগিতা: এটি চীনের সহায়তায় সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হয়। রকেট: চীনের 'লং মার্চ-৬' (Long March-6) রকেটের মাধ্যমে এটি মহাকাশে পাঠানো হয়েছে।
২০২৬ সালের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম পারমাণবিক শক্তি উৎপাদনকারী দেশ হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
শীর্ষস্থানীয় ৫টি দেশ হলো: ১. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র: ৯৪টি সক্রিয় চুল্লির মাধ্যমে এটি বিশ্বের বৃহত্তম উৎপাদক । ২০২৪ সালে দেশটি প্রায় ৭৮২ থেকে ৮২৩ টেরাওয়াট-ঘণ্টা (TWh) পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছে । ২. চীন: বর্তমান বিশ্বের দ্রুততম ক্রমবর্ধমান পারমাণবিক শক্তির বাজার হচ্ছে চীন । বর্তমানে তারা দ্বিতীয় স্থানে থাকলেও, বিপুল সংখ্যক নতুন চুল্লি নির্মাণাধীন থাকায় অদূর ভবিষ্যতে তারা যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে । ৩. ফ্রান্স: ফ্রান্স তার দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার সিংহভাগ (প্রায় ৬৫%) পারমাণবিক উৎস থেকে মিটিয়ে থাকে । ৪. রাশিয়া: পারমাণবিক প্রযুক্তিতে অন্যতম অগ্রগামী দেশ রাশিয়া উৎপাদনে চতুর্থ স্থানে রয়েছে । ৫. দক্ষিণ কোরিয়া: দক্ষিণ কোরিয়া বর্তমানে বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশ । উল্লেখ্য যে, ২০২৬ সালের ২৮ এপ্রিল রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি লোড করার মাধ্যমে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বের ৩৩তম পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারকারী দেশ হিসেবে তালিকায় যুক্ত হয়েছে ।
চেরনোবিল পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি ১৯৮৬ সালের ২৬ এপ্রিল (শনিবার) ভোরে বিস্ফোরিত হয়েছিল ।
তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের (বর্তমানে ইউক্রেন) প্রিপিয়াত শহরের কাছে চেরনোবিল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৪ নম্বর চুল্লিতে রাত ১টা ২৩ মিনিটে এই ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে । এটি ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ পারমাণবিক দুর্ঘটনা হিসেবে পরিচিত ।
বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের চিত্র ধারণকারী কিংবদন্তি ভারতীয় আলোকচিত্রী রঘু রাই ২৬ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে (রবিবার) ৮৩ বছর বয়সে নয়াদিল্লির একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন ।
তিনি ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের 'দ্য স্টেটসম্যান' পত্রিকার প্রধান আলোকচিত্রী হিসেবে শরণার্থী শিবিরের দুর্দশা ও সম্মুখযুদ্ধের ঐতিহাসিক ছবি ধারণ করেছিলেন ।
বৈশ্বিক নবায়নযোগ্য জ্বালানির বাজারে চালিকাশক্তি হিসেবে এশিয়ার যে দুইটি দেশ সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে, তারা হলো:
১. চীন: চীন বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবস্থার অধিকারী এবং বায়ু ও সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন উভয় ক্ষেত্রেই বিশ্বে শীর্ষস্থানে রয়েছে। ২০২৫ সাল নাগাদ চীন বৈশ্বিক নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের ৩২% উৎপাদন করছে।
২. ভারত: ভারত এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম এবং বিশ্বের অন্যতম প্রধান নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনকারী দেশ। সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনে ভারত বিশ্বে তৃতীয় এবং বায়ু বিদ্যুৎ উৎপাদনে পঞ্চম স্থানে আছে। মূল চালিকাশক্তি: চীন: সৌর প্যানেল, ব্যাটারি এবং বৈদ্যুতিক গাড়ির (EV) সরবরাহ চেইনে আধিপত্য বিস্তার করছে। ভারত: দ্রুত সৌর ও বায়ু বিদ্যুৎ সক্ষমতা বৃদ্ধি করছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে ৪৫০ গিগাওয়াট (GW) নবায়নযোগ্য জ্বালানির উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এই দুই দেশই এশিয়ার তথা বিশ্বের জ্বালানি রূপান্তরের (Energy Transition) মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে।
বাংলাদেশে বর্তমানে আলু উৎপাদনে শীর্ষ জেলা হলো রংপুর ।
রংপুর বিভাগের জেলাগুলোতে দেশের মোট আলুর ১৫-২৪% উৎপাদিত হয়। তবে মুন্সীগঞ্জ, বগুড়া (বিশেষ করে শিবগঞ্জ ও কালাই উপজেলা) এবং জয়পুরহাট জেলাও প্রচুর পরিমাণে আলু উৎপাদনের জন্য পরিচিত ।