বিগত সালের প্রশ্ন ও প্রশ্ন ব্যাংক
বিসিএস, ব্যাংক, প্রাথমিক শিক্ষক ও সকল সরকারি চাকরির বিগত সালের প্রশ্ন ও অধ্যায়ভিত্তিক নির্ভুল সমাধান
রমনার বটমূলে ছায়ানটের ঐতিহাসিক বর্ষবরণ অনুষ্ঠান প্রথম শুরু হয়েছিল ১৯৬৭ সালে । বাংলা ১৩৭৪ বঙ্গাব্দের পহেলা বৈশাখে প্রভাতি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ছায়ানট এই আয়োজন শুরু করে ।
তৎকালীন পাকিস্তান আমলে বাঙালি সংস্কৃতির আত্মপ্রকাশের লক্ষ্যে এই অনুষ্ঠান শুরু করা হয়েছিল ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের উদ্যোগে প্রথম আনন্দ শোভাযাত্রা (যা বর্তমানে 'মঙ্গল শোভাযাত্রা' নামে পরিচিত) ১৯৮৯ সালে শুরু হয় । স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ঐক্য, শান্তির বিজয় এবং অপশক্তির অবসান কামনায় এই শোভাযাত্রা প্রবর্তন করা হয়েছিল । মূল
তথ্যসমূহ: শুরুর বছর: ১৯৮৯ খ্রিষ্টাব্দ । উদ্যোক্তা: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইন্সটিটিউটের (বর্তমানে চারুকলা অনুষদ) শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। মূল নাম: 'আনন্দ শোভাযাত্রা' [৫]। পটভূমি: স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে এটি শুরু হয়েছিল [৩]। পরবর্তীতে এটি বাংলা নববর্ষ বা পহেলা বৈশাখের অন্যতম প্রধান অঙ্গে পরিণত হয় এবং ২০১৬ সালে ইউনেস্কো কর্তৃক এটি 'বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য' হিসেবে স্বীকৃতি পায়।
বাংলা নববর্ষ বা পহেলা বৈশাখ মুঘল সম্রাট আকবরের (১৫৫৬-১৬০৫) শাসনামলে প্রবর্তিত হয় । সম্রাট আকবর হিজরি চান্দ্রবর্ষের পরিবর্তে সৌরবর্ষ ধরে কৃষকদের খাজনা আদায়ের সুবিধার্থে ১৫৮৪ খ্রিষ্টাব্দে (মতান্তরে ৯৬৩ হিজরি) এই 'ফসলি সন' বা 'বঙ্গাব্দ' চালু করেন, যা পরে বাংলা সন নামে পরিচিতি পায় । মূল তথ্যাবলি: প্রবর্তক: সম্রাট আকবর । উদ্দেশ্য: হিজরি সনের জটিলতা এড়ানো এবং কৃষকদের ফসল তোলার সময় অনুযায়ী খাজনা আদায় করা ।
রূপকার: মুঘল জ্যোতিষী ও পণ্ডিত আমির ফতেহ উল্লাহ সিরাজী ।
এই আদেশ বলে বাংলাদেশের জনগণের অভিপ্রায় অনুসারে সংসদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা অবলম্বিত হয় এবং শেখ মুজিবুর রহমান প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।
পরে রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবু সাইদ চৌধুরী ১৯৭২ সালের ২৩শে মার্চ গণপরিষদ আদেশ জারি করেন। এবং তা ১৯৭২ সালের ২৬শে মার্চ থেকে কার্যকরী বলে ঘোষিত হয়।
বাংলাদেশের মূল সংবিধান হাতে লেখার (লিপিকার) মূল দায়িত্ব ন্যস্ত ছিল শিল্পী এ কে এম আব্দুর রউফ (A.K.M. Abdur Rouf)-এর ওপর । ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত সংবিধানের মূল কপিটি তিনি নিজ হাতে লিখেছিলেন ।
প্রধান লিপিকার: এ কে এম আব্দুর রউফ ।
অলংকরণ: সংবিধানের অলংকরণ বা অঙ্গসজ্জার দায়িত্বে ছিলেন শিল্পী হাশেম খান-এর নেতৃত্বে ৫ সদস্যের একটি দল ।
অন্যান্য শিল্পী: সমরজিৎ রায় চৌধুরী, আবুল বারক আলভী, জুনাবুল ইসলাম ও আরও কয়েকজন শিল্পী এই অলংকরণ কাজে সহায়তা করেন । সংবিধানের মূল কপিটি বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে।
৪ নভেম্বর বাংলাদেশে জাতীয় সংবিধান দিবস হিসেবে পালিত হয় । ১৯৭২ সালের এই দিনে বাংলাদেশের গণপরিষদে দেশের সর্বোচ্চ আইন বা সংবিধান গৃহীত হয়েছিল ।
এছাড়া, ২রা থেকে ৪ঠা নভেম্বর পর্যন্ত জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান এবং মরণোত্তর দেহ দান দিবস পালিত হয় ।
শব্দ সংখ্যার দিক থেকে বিশ্বের সবচেয়ে ছোট সংবিধান হলো মোনাকোর সংবিধান। ১৯ ডিসেম্বর ১৯৬২ সালে গৃহীত এই সংবিধানে মোট শব্দ সংখ্যা প্রায় ৩,৮১৪টি।
অনেকে আমেরিকার সংবিধানকে সবচেয়ে ছোট মনে করেন, তবে যুক্তরাষ্ট্রের মূল সংবিধানে (সংশোধনী বাদে) শব্দ সংখ্যা প্রায় ৪,৫৪৩টি, যা মোনাকোর তুলনায় বেশি। আপনি কি বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘতম সংবিধানটি কোন দেশের সেটি জানতে চান?
ঐতিহাসিকভাবে, ব্লাসফেমি বা ধর্ম অবমাননা আইন প্রথম চালু হয়েছিল যুক্তরাজ্যে (England)।
প্রেক্ষাপট: খ্রিস্টীয় সপ্তদশ শতাব্দীতে (১৭শ শতাব্দী) ইংল্যান্ডে চার্চ এবং রাষ্ট্র ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত থাকার সময় সাধারণ আইন (Common Law) হিসেবে ব্লাসফেমি আইন কার্যকর ছিল।
ইতিহাস: পরবর্তীতে অনেক দেশ তাদের ঔপনিবেশিক শাসনের আমলে এই আইন গ্রহণ করে। বর্তমান অবস্থা: যুক্তরাজ্য ২০০৮ সালে তাদের ব্লাসফেমি আইন বাতিল করে দিলেও, বর্তমানে পাকিস্তানসহ বিশ্বের বেশ কিছু দেশে এই আইন অত্যন্ত কঠোরভাবে কার্যকর রয়েছে। তবে, প্রাচীন রোমান সম্রাট জাস্টিনিয়ান ষষ্ঠ শতাব্দীতেও ব্লাসফেমির জন্য শাস্তির বিধান রেখেছিলেন বলে জানা যায়। কিন্তু আধুনিক বা সুনির্দিষ্ট আইন হিসেবে যুক্তরাজ্যকেই সাধারণত প্রথম ধরা হয়।
সংবিধানের ব্যাখ্যাকর্তা, অভিভাবক ও রক্ষক বলা হয় সুপ্রিম কোর্টকে।
ব্যাখ্যাকারক: সংবিধানের কোনো ধারা বা অনুচ্ছেদের অর্থ অস্পষ্ট হলে বা তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলে সুপ্রিম কোর্ট তার চূড়ান্ত ব্যাখ্যা প্রদান করে।
অভিভাবক ও রক্ষক: সুপ্রিম কোর্ট বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনার (Judicial Review) মাধ্যমে সংবিধানের শ্রেষ্ঠত্ব নিশ্চিত করে এবং কোনো আইন বা সরকারি কাজ সংবিধান বিরোধী হলে তা বাতিল করতে পারে। এটি বিচার বিভাগের মূল দায়িত্ব, যা নাগরিকদের মৌলিক অধিকার রক্ষায় কাজ করে।
ইয়ানবু বন্দর (Yanbu Port) সৌদি আরবের পশ্চিম উপকূলে লোহিত সাগরের তীরে অবস্থিত । এটি মদিনা প্রদেশের অন্তর্ভুক্ত এবং জেদ্দার প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও শিল্প বন্দর ।
এটি 'কিং ফাহাদ শিল্প বন্দর' নামেও পরিচিত, যা লোহিত সাগরের অন্যতম বৃহত্তম তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল লোডিং বন্দর । ইয়ানবু বন্দরের মূল তথ্যাবলি: অবস্থান: সৌদি আরবের লোহিত সাগর উপকূল (মদিনা প্রদেশ) । প্রকারভেদ: বাণিজ্যিক বন্দর এবং শিল্প বন্দর (কিং ফাহাদ শিল্প বন্দর) । ভৌগোলিক স্থানাঙ্ক: প্রায় ২৪°০৫′ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৩৮°০৪′ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ ।