বাংলা সাহিত্যের বিশিষ্ট নাট্যকার বিজন ভট্টাচার্য সমাজ সচেতনতার মধ্য দিয়ে ‘নবনাট্য আন্দোলন’ ও ‘থার্ড থিয়েটার’-এর ধারা গড়ে তোলেন। তেভাগা আন্দোলন ও পঞ্চাশের মন্বন্তরের পটভূমিতে রচিত তাঁর বিখ্যাত ‘নবান্ন’ (১৯৪৪) নাটকটি ব্যাপক খ্যাতি লাভ করে। মার্কসবাদী আদর্শে বিশ্বাসী এই ধারার নাটকগুলোর মূল উপজীব্য ছিল সমাজের নিম্নবর্গের মানুষের জীবনসংগ্রাম ও বাস্তবচিত্র।
বিগত সালের প্রশ্ন ও প্রশ্ন ব্যাংক
বিসিএস, ব্যাংক, প্রাথমিক শিক্ষক ও সকল সরকারি চাকরির বিগত সালের প্রশ্ন ও অধ্যায়ভিত্তিক নির্ভুল সমাধান
“প্রদীপ নিবিয়া গেল!” বিখ্যাত এই উক্তিটি বাংলা উপন্যাসের জনক ও সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের (ছদ্মনাম 'কমলাকান্ত') ‘কপালকুণ্ডলা’ (১৮৬৬) উপন্যাসের। তাঁর রচিত অন্যান্য কালজয়ী উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে দুর্গেশনন্দিনী (১৮৬৫), মৃণালিনী (১৮৬৯), বিষবৃক্ষ (১৮৭৩), যুগলাঙ্গুরীয় (১৮৭৪), চন্দ্রশেখর (১৮৭৫), কৃষ্ণকান্তের উইল (১৮৭৮), রাজসিংহ (১৮৮২), আনন্দমঠ (১৮৮২), দেবী চৌধুরাণী (১৮৮৪), রাধারাণী (১৮৮৬) এবং সীতারাম (১৮৮৭)।
বিহারীলাল চক্রবর্তী আধুনিক বাংলা গীতি কবিতার প্রথম কবি। বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগে অসাধারণ ও সফল গীতি কবিতা রচনার স্বীকৃতিস্বরূপ কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁকে ‘ভোরের পাখি’ উপাধিতে ভূষিত করেন।
দেশে বিদেশে, পঞ্চতন্ত্র, চাচা কাহিনী, ময়ূরকণ্ঠী, জলে ডাঙ্গায়, শবনম, টুনিমেম ইত্যাদি সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত গ্রন্থ।
ট্রাজেডি, কমেডি ও ফার্সের মূল পার্থক্য হল জীবানানুভূতির গভীরতায়।
সাংবাদিক, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সাহিত্যিক খন্দকার ইলিয়াস দেশবিভাগের আগে কলকাতার দৈনিক ‘আজাদ’ পত্রিকার মাধ্যমে সাংবাদিকতা শুরু করেন এবং পরবর্তীতে ‘ইত্তেহাদ’ ও সাপ্তাহিক ‘যুগের দাবী’তে দায়িত্ব পালন করেন। ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণকারী ইলিয়াস ১৯৫৭ থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত ন্যাপ (NAP)-এর নেতৃস্থানীয় পদে ছিলেন এবং পরবর্তীতে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনাবলীর মধ্যে রয়েছে ভাসানী যখন ইউরোপে (১৯৫৭), কতো ছবি কতো গান (১৯৬৮), মুজিববাদ (১৯৭২), প্রসঙ্গ শেখ মুজিব (১৯৮৭) এবং রাষ্ট্রভাষা।
বাংলা গদ্যে চলিত রীতির প্রবর্তক ও ইতালীয় সনেটের প্রবেষ্টা প্রমথ চৌধুরী (ছদ্মনাম ‘বীরবল’)। ১৯১৬ সালে প্রকাশিত তাঁর ‘বীরবলের হালখাতা’ বাংলা সাহিত্যের প্রথম চলিত রীতিতে লিখিত গ্রন্থ।
তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে বীরবলের হালখাতা, তেল নুন লাকড়ি, নানাকথা, আমাদের শিক্ষা, রায়তের কথা, নানাচর্চা, আত্মকথা ও প্রবন্ধসংগ্রহ। এছাড়া সনেট পঞ্চাশৎ ও পদচারণ তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ।
‘কাশবনের কন্যা’ শামসুদ্দীন আবুল কালাম রচিত উপন্যাস।
শেষের পরিচয়, শেষ প্রশ্ন--শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস। শেষের কবিতা-- রবীন্দ্রনাথের উপন্যাস, শেষ লেখা-- রবীন্দ্রনাথের কাব্যগ্রন্থ। তিনি এই কাব্যগ্রন্থের নামকরণ করে যেতে পারেননি।
সমর সেন (১৯১৬–১৯৮৭) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথাগত কাব্যধারার বিপরীতে লেখা আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম ‘নাগরিক কবি’। ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত ‘কয়েকটি কবিতা’ তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ।তাঁর রচিত অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে গ্রহণ (১৯৪০), নানা কথা (১৯৪২), খোলা চিঠি (১৯৪৩) ও তিন পুরুষ (১৯৪৪)। এছাড়া তাঁর রচিত আত্মজীবনীমূলক ও স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থ ‘বাবু বৃত্তান্ত’ (১৯৭৮) বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
কাজী নজরুল ইসলাম-এর কাব্যগ্রন্থ ‘নতুন চাঁদ’ (১৯৪৫), রাজশেখর বসু (ছদ্মনাম ‘পরশুরাম’)-র বিখ্যাত হাস্যরসাত্মক গল্পগ্রন্থ ‘গড্ডলিকা’ (১৯২৫), নূরুল মোমেন-এর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও পঞ্চাশের মন্বন্তরের পটভূমিতে রচিত বিখ্যাত নাটক ‘নেমেসিস’ (১৯৪৫) এবং আব্দুর রাজ্জাক রচিত উপন্যাস ‘কন্যাকুমারী’ (১৯৪৭)।
কাজী ইমদাদুল হক কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ, শিশুসাহিত্য রচনা করেছেন। ‘আবদুল্লাহ’ উপন্যাসটি লেখকের জীবদ্দশায় সম্পূর্ণ বা প্রকাশ হয়নি। তিনি এ উপন্যাসটি জীবনের শেষান্তে শুরু করলেও শেষ করে যেতে পারেননি। পরবর্তীতে তার খসড়ার ভিত্তিতে উপন্যাসটি সম্পূর্ণ করা হয় এবং তা ১৯৩৩ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
শওকত ওসমান (১৯১৭–১৯৯৮) বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান কথাসাহিত্যিক। তাঁর কালজয়ী রাজনৈতিক রূপক উপন্যাস ‘ক্রীতদাসের হাসি’-র (১৯৬২) জন্য তিনি সম্মানজনক আদমজী সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন।তাঁর রচিত অন্যান্য উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে বনি আদম, জননী, চৌরসন্ধি, সমাগম, জাহান্নাম হইতে বিদায়, দুই সৈনিক এবং জলাংগী।
সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী বঙ্কিমচন্দ্রের ‘দুর্গেশনন্দিনী’-র প্রতিক্রিয়ায় ইতিহাসভিত্তিক উপন্যাস ‘রায়নন্দিনী’ (১৯১৫) রচনা করেন। বারো ভূঁইয়ার নেতা ঈশা খাঁ এবং শ্রীপুরের রাজা কেদার রায়ের কন্যা (ঐতিহাসিকভাবে চাঁদ রায়ের কন্যা) স্বর্ণময়ীর প্রেম ও ঐতিহাসিক মিলনের কাহিনী নিয়ে এটি রচিত।
নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম ও একমাত্র নারী নওয়াব এবং আধুনিক বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসের প্রথম মুসলিম নারী সাহিত্যিক।১৮৭৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি ঢাকার গিরিশচন্দ্র মুদ্রণ যন্ত্র থেকে তাঁর আত্মজীবনীমূলক কাব্যগ্রন্থ ‘রূপজালাল’ প্রকাশিত হয়। এছাড়া তাঁর রচিত অপর দুটি দুষ্প্রাপ্য সংগীতগ্রন্থ হলো সঙ্গীত লহরী ও সঙ্গীত সার।
মহাশ্মশান বাংলার প্রথম মুসলিম কবি এবং মহাকবি কায়কোবাদ রচিত জাতীয় আখ্যান কাব্যগুলোর মধ্যে সবচাইতে সুপরিচিত একটি মহাকাব্য, যেটা বাংলা ১৩১১ বঙ্গাব্দ, ইংরেজি ১৯০৪ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম প্রকাশিত হয়।কবি কায়কোবাদের মহাকবি নামের খ্যাতি এই 'মহাশ্মশান' নামের এই কাব্যের জন্যই। পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধযজ্ঞ নিয়ে লেখা সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত কবির মর্মভেদী এই কাব্যগ্রন্থটি তিন খণ্ডে বিভক্ত।
সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী-র তীব্র ইংরেজবিরোধী ও বিপ্লবাত্মক কাব্যগ্রন্থ ‘অনল প্রবাহ’ (১৯০০)। ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে স্বাধীনতাকামী মানুষকে উদ্বুদ্ধ করায় এটি ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক বাজেয়াপ্ত হয় এবং কবি কারাবরণ করেন।তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে স্পেন বিজয়, মহাশিক্ষা, প্রেমাঞ্জলি এবং নব উদ্দীপনা।
আবু জাফর শামসুদ্দীন (১৯১১–১৯৮৮) বাংলাদেশের অন্যতম প্রখ্যাত ঔপন্যাসিক ও সাংবাদিক। তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাসগুলোর মধ্যে রয়েছে পরিত্যক্ত স্বামী (১৯৪৭), মুক্তি (১৯৪৮), ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান (১৯৬৩), পদ্মা মেঘনা যমুনা (১৯৭৪), সংকর সংকীর্তন (১৯৮০), প্রপঞ্চ (১৯৮০) এবং দেয়াল (১৯৮৫)।
প্যারীচাঁদ মিত্র বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী ছিলেন। আলালের ঘরের দুলাল, 'মদ খাওয়ার বড় দায়,জাত থাকার কি উপায়', রামারঞ্জিকা, অভেদি, 'আধ্যাত্মিকা' ইত্যাদি গ্রন্থের লেখক প্যারীচাঁদ মিত্র।
'বটতলার উপন্যাস' গ্রন্থের লেখকের নাম রাজিয়া খান ।