বিগত সালের প্রশ্ন ও প্রশ্ন ব্যাংক
বিসিএস, ব্যাংক, প্রাথমিক শিক্ষক ও সকল সরকারি চাকরির বিগত সালের প্রশ্ন ও অধ্যায়ভিত্তিক নির্ভুল সমাধান
সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী বঙ্কিমচন্দ্রের ‘দুর্গেশনন্দিনী’-র প্রতিক্রিয়ায় ইতিহাসভিত্তিক উপন্যাস ‘রায়নন্দিনী’ (১৯১৫) রচনা করেন। বারো ভূঁইয়ার নেতা ঈশা খাঁ এবং শ্রীপুরের রাজা কেদার রায়ের কন্যা (ঐতিহাসিকভাবে চাঁদ রায়ের কন্যা) স্বর্ণময়ীর প্রেম ও ঐতিহাসিক মিলনের কাহিনী নিয়ে এটি রচিত।
নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম ও একমাত্র নারী নওয়াব এবং আধুনিক বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসের প্রথম মুসলিম নারী সাহিত্যিক।১৮৭৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি ঢাকার গিরিশচন্দ্র মুদ্রণ যন্ত্র থেকে তাঁর আত্মজীবনীমূলক কাব্যগ্রন্থ ‘রূপজালাল’ প্রকাশিত হয়। এছাড়া তাঁর রচিত অপর দুটি দুষ্প্রাপ্য সংগীতগ্রন্থ হলো সঙ্গীত লহরী ও সঙ্গীত সার।
মহাশ্মশান বাংলার প্রথম মুসলিম কবি এবং মহাকবি কায়কোবাদ রচিত জাতীয় আখ্যান কাব্যগুলোর মধ্যে সবচাইতে সুপরিচিত একটি মহাকাব্য, যেটা বাংলা ১৩১১ বঙ্গাব্দ, ইংরেজি ১৯০৪ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম প্রকাশিত হয়।কবি কায়কোবাদের মহাকবি নামের খ্যাতি এই 'মহাশ্মশান' নামের এই কাব্যের জন্যই। পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধযজ্ঞ নিয়ে লেখা সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত কবির মর্মভেদী এই কাব্যগ্রন্থটি তিন খণ্ডে বিভক্ত।
সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী-র তীব্র ইংরেজবিরোধী ও বিপ্লবাত্মক কাব্যগ্রন্থ ‘অনল প্রবাহ’ (১৯০০)। ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে স্বাধীনতাকামী মানুষকে উদ্বুদ্ধ করায় এটি ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক বাজেয়াপ্ত হয় এবং কবি কারাবরণ করেন।তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে স্পেন বিজয়, মহাশিক্ষা, প্রেমাঞ্জলি এবং নব উদ্দীপনা।
আবু জাফর শামসুদ্দীন (১৯১১–১৯৮৮) বাংলাদেশের অন্যতম প্রখ্যাত ঔপন্যাসিক ও সাংবাদিক। তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাসগুলোর মধ্যে রয়েছে পরিত্যক্ত স্বামী (১৯৪৭), মুক্তি (১৯৪৮), ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান (১৯৬৩), পদ্মা মেঘনা যমুনা (১৯৭৪), সংকর সংকীর্তন (১৯৮০), প্রপঞ্চ (১৯৮০) এবং দেয়াল (১৯৮৫)।
প্যারীচাঁদ মিত্র বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী ছিলেন। আলালের ঘরের দুলাল, 'মদ খাওয়ার বড় দায়,জাত থাকার কি উপায়', রামারঞ্জিকা, অভেদি, 'আধ্যাত্মিকা' ইত্যাদি গ্রন্থের লেখক প্যারীচাঁদ মিত্র।
'বটতলার উপন্যাস' গ্রন্থের লেখকের নাম রাজিয়া খান ।
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়-এর বিখ্যাত রঙ্গব্যঙ্গ রচনা সংকলন ‘কমলাকান্তের দপ্তর’ (১৮৭৫)। তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে সাম্য, কৃষ্ণ চরিত্র ও বিবিধ প্রবন্ধ।উল্লেখযোগ্য উপন্যাস: দুর্গেশনন্দিনী, কপালকুণ্ডলা, মৃণালিনী, বিষবৃক্ষ, কৃষ্ণকান্তের উইল, চন্দ্রশেখর, রজনী, ইন্দিরা, রাধারানী, যুগলাঙ্গুরীয় এবং রাজসিংহ।
আবু ইসহাক (১৯২৬–২০০৩) বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক ও রূপকধর্মী প্রামাণ্য সমাজচিত্রের লেখক। তাঁর বিখ্যাত প্রথম উপন্যাস ‘সূর্য-দীঘল বাড়ী’ (১৯৫৫) ৫০-এর মন্বন্তরের পটভূমিতে রচিত, যা অবলম্বনে বাংলাদেশের প্রথম সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রটি নির্মিত হয়।
তাঁর অন্য দুটি উপন্যাস হলো চরাঞ্চলের শ্রমজীবী মানুষের সংগ্রামের কাহিনী ‘পদ্মার পলিদ্বীপ’ এবং গোয়েন্দা অভিজ্ঞতার আলোকে রচিত ‘জাল’। এছাড়া তাঁর রয়েছে গল্পগ্রন্থ ‘হারেম’ ও ‘মহাপতঙ্গ’ এবং একমাত্র নাটক ‘জয়ধ্বনি’
দোভাষী বাংলায় রচিত পুঁথি সাহিত্যকে বটতলার পুঁথি বলা হত, কারণ এগুলো কলকাতার সস্তা প্রেস থেকে বের হতো।
হুমায়ূন আহমেদ-এর প্রথম উপন্যাস ‘নন্দিত নরকে’ (১৯৭২)। ১৯৭০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রাবস্থায় রচিত এ উপন্যাসটি সাহিত্যিক আহমদ ছফার উদ্যোগে প্রকাশিত হয় এবং এর ভূমিকা লেখেন অধ্যাপক আহমদ শরীফ। এর অন্যতম প্রধান চরিত্র ‘রাবেয়া’।
সুকান্ত ভট্টাচার্য (১৯২৬–১৯৪৭) বাংলা সাহিত্যের কালজয়ী ‘কিশোর কবি’। তিনি মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী ছিলেন।
তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ ‘ছাড়পত্র’ (১৯৪৭)-এর শিরোনাম কবিতা ‘ছাড়পত্র’ থেকে সংগৃহীত অমর পঙক্তিদ্বয়:
“এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি / নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।”
কাজী নজরুল ইসলাম (১৮৯৯–১৯৭৬) বাংলা সাহিত্যের ‘বিদ্রোহী কবি’ ও বাংলাদেশের জাতীয় কবি। উল্লিখিত পঙক্তি দুটি তাঁর বিখ্যাত ‘জীবন-বন্দনা’ কবিতার অংশবিশেষ।
তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে অগ্নিবীণা (১৯২২), বিষের বাঁশি (১৯২৪) এবং সাম্যবাদী (১৯২৫)।
আলোচ্য কবিতাংশটুকুর রচয়িতা পল্লিকবি জসীমউদ্দীন। এ অংশটুকু তাঁর অবিস্মরণীয় ‘কবর’ কবিতা থেকে নেয়া হয়েছে। এটি কবির ‘রাখালী’ কাব্যগ্রন্হের অন্তর্ভুক্ত কবিতা। তাঁর উল্লেখ্যযোগ্য গ্রন্হ – নকশী কাঁথার মাঠ, সোজন বাদিয়ার ঘাট, হাসু প্রভৃতি।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১–১৯৪১) একাধারে কবি, নোবেলজয়ী সাহিত্যিক ও দার্শনিক। উদ্ধৃতাংশটি তাঁর ‘সোনার তরী’ কাব্যের অন্তর্ভুক্ত। পণ্ডিত ব্রহ্মবান্ধব উপাধ্যায় তাঁকে ‘বিশ্বকবি’ এবং মহাত্মা গান্ধী তাঁকে ‘গুরুদেব’ উপাধিতে ভূষিত করেন।
উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ: কবিকাহিনী, বনফুল, গীতাঞ্জলি, পূরবী, সেঁজুতি ও শেষ লেখা।