- বাংলা নাটক মঞ্চায়ন, রচনায় ও অনুবাদে প্রথমে যে বিদেশীর নাম আসে তিনি রুশদেশীয় ব্যক্তি গেরাসিম লেবেডফ। - ২৭ নভেম্বর ১৭৯৫ সালে তিনি কলকাতার ডোমতলায় 'বেঙ্গলি থিয়েটার' (Bengally Theatre) নামক রঙ্গমঞ্চে প্রথম বাংলা নাটক মঞ্চস্থ করেন। - তিনি রিচার্ড জড্রেল রচিত 'The Disguise' নাটকটি অনুবাদ করেন এবং এর নাম দেন 'কাল্পনিক সংবদল'।
বিগত সালের প্রশ্ন ও প্রশ্ন ব্যাংক
বিসিএস, ব্যাংক, প্রাথমিক শিক্ষক ও সকল সরকারি চাকরির বিগত সালের প্রশ্ন ও অধ্যায়ভিত্তিক নির্ভুল সমাধান
পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি নিয়ে রচিত সার্থক ও মঞ্চসফল কাব্যনাট্য । সৈয়দ শামসুল হক রচিত এ নাটকের বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের শেষ দিককার ঘটনাবলি । তার রচিত উল্লেখ্যযোগ্য নাটকঃ গণনায়ক, নুরলদীনের সারা জীবন।
মুনীর চৌধুরী রচিত ''কবর'' ভাষা আন্দোলনভিত্তিক নাটক। মুনীর চৌধুরী ১৯৫৩ সালে কারাবন্দী অবস্থায় ''কবর''নাটকটি রচনা করেন।
'নেমেসিস' নুরুল মোমেন রচিত নাটক। এ নাটকে পঞ্চাশের মন্বন্তর তুলে ধরা হয়েছে।
সর্প বিষয়ক গল্প , জণ্ডিস ও বিবিধ বেলুন, প্রাচ্য, কিত্তনখোলা, হাত হদাই, চাকা, মুনতাসীর ফ্যান্টাসি ইত্যাদি নাটকের রচয়িতা বাংলা নাটকের শিকর সন্ধানী নাট্যকার সেলিম আল দীন।
বিজন ভট্টাচার্য ছিলেন একজন বাঙালি নাট্য ব্যক্তিত্ব ও অভিনেতা। তাঁর রচিত নাটকের মধ্যে অন্যতমঃ - আগুন(১৯৪৩), - জবানবন্দী (১৯৪৩), - নবান্ন (১৯৪৪), - জীয়নকন্যা (১৯৪৫), - মরাচাঁদ (১৯৪৬), - অবরোধ(১৯৪৭) উলেখযোগ্য।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ট্রাজেডি নাটক ‘কৃষ্ণকুমারী’ (১৮৬১)। - উইলিয়াম টডের ‘রাজস্থান' নামক গ্রন্থ থেকে মধুসূদন এ নাটকের কাহিনী সংগ্রহ করেন। - মহারাজা প্রতাপসিংহের বংশধর, উদয়পুরাধিপতি মহারাজা ভীমসিংহের দুহিতা কৃষ্ণকুমারীর বিষাদময় জীবনই নাটকের বিষয়বস্তু। চরিত্র: কৃষ্ণকুমারী, মদনিকা, ভীমসিং, বিলাসবতী।
নুরুল মোমেন মূলত নাট্যকার ছিলেন। তবে রম্যসাহিত্য রচয়িতা হিসেবেও তিনি প্রসিদ্ধ ছিলেন। ১৯৩৯ সালে ঢাকায় "অল ইন্ডিয়া রেডিও" প্রতিষ্ঠা হলে, ১৯৪১ রেডিওর জন্য রচনা ও নির্দেশনা দেন কমেডি নাটক "রুপান্তর"। এই নাটকের প্রগতিশীল প্লট এবং প্রধান চরিত্র নারী হওয়ার কারণে প্রথাগত মুস্লিম বাংলা নাটকের মধ্যে নতুন ধারার উন্মেষ ঘটে যার ফলশ্রুতিতে কবি ও সাহিত্য সমালোচক মোহিতলাল মজুমদার তার প্রশংসা করেন এবং পরবর্তিতে আনন্দবাজার পত্রিকা তাদের পূজা সংখ্যায় নাটকটি প্রকাশ করেছিল। তার রচিত নাটক: নেমেসিস (১৯৪৮), যদি এমন হতাে (১৯৬০), যেমন ইচ্ছা তেমন (১৯৭০), নয়া খান্দান (১৯৬২), আলােছায়া (১৯৬২), শতকরা আশি (১৯৬৭), আইনের অন্তরালে (১৯৬৭) ইত্যাদি। রম্যগ্রন্থ: বহুরূপ (১৩৬৫), হিংটিং ছট (প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ড ১৯৭০), নরসুন্দর (১৯৬১) ইত্যাদি।
সেলিম আল দীন (১৮ই আগস্ট, ১৯৪৯-১৪ই জানুয়ারি, ২০০৮) একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশী নাট্যকার ও গবেষক। স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের নাট্য আন্দোলনে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তিনি নাটকের আঙ্গিক ও ভাষার উপর গবেষণা করেছেন। বাংলা নাটকের শিকড় সন্ধানী এ নাট্যকার ঐতিহ্যবাহী বাংলা নাট্যের বিষয় ও আঙ্গিক নিজ নাট্যে প্রয়োগের মাধ্যমে বাংলা নাটকের আপন বৈশিষ্টকে তুলে ধরেছেন।
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ঐতিহাসিক নাটক দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের 'সাজাহান'। এটি সম্রাট শাহজাহানকে নিয়ে লেখা প্রথম নাটক । - দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের বিখ্যাত গান 'ধনধান্য পুষ্পে ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা' এই নাটকে ব্যবহৃত হয়। - দ্বিজেন্দ্রলাল রায় পঞ্চকবির একজন। - বাংলা সাহিত্যের অন্যান্য ঐতিহাসিক নাটকগুলো হলো- 'সিরাজউদ্দৌলা(১৯০৫)', 'মীর কাসিম (১৯০৬)', 'ছত্রপতি শিবাজী (১৯০৭)' ইত্যাদি
'তেল নুন লকড়ি' গ্রন্থটির রচয়িতা হলেন প্রমথ চৌধুরী। এটি ১৯০৬ সালে প্রকাশিত তাঁর একটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রবন্ধ গ্রন্থ। প্রমথ চৌধুরী সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: • বাংলা সাহিত্যে তিনি বীরবল ছদ্মনামে সমধিক পরিচিত। • তাঁকে বাংলা গদ্যে চলিত রীতির প্রবর্তক বলা হয়। • ১৯১৪ সালে তাঁর সম্পাদনায় 'সবুজ পত্র' পত্রিকা প্রকাশিত হয়, যা বাংলা সাহিত্যে চলিত ভাষার প্রসারে যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করে। • তাঁর রচিত অন্যান্য উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধ গ্রন্থ হলো: বীরবলের হালখাতা, নানা কথা, আমাদের শিক্ষা এবং রায়তের কথা। • তাঁর রচিত বিখ্যাত গল্পগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে চার-ইয়ারী কথা, আহুতি এবং নীললোহিত।
রাজিয়া খান আমিন (১৯৩৬-২০১১) ছিলেন একাধারে সাহিত্যিক, শিক্ষাবিদ ও নাট্যজন। তিনি বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট ঔপন্যাসিক ও গল্পকার। - 'বটতলার উপন্যাস' তাঁর রচিত প্রথম উপন্যাস। এটি ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত হয় এবং এই উপন্যাসের মাধ্যমেই তিনি সাহিত্য জগতে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি ১৯৯৭ সালে একুশে পদক এবং ১৯৭৫ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন। রাজিয়া খান রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস: বটতলার উপন্যাস (১৯৫৯), অনুকল্প, প্রতিচিত্র, চিত্র-কাব্য, হে মহাজীবন, দ্রৌপদী ইত্যাদি। রাজিয়া খান রচিত অন্যান্য গ্রন্থ: - গল্পগ্রন্থ: সোনার হরিণ। কাব্যগ্রন্থ: সোনালী ঘাসের নিচে, Argus under Anaesthesia (ইংরেজি কাব্যগ্রন্থ)।
বিষবৃক্ষ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি উপন্যাস। এটি বঙ্কিমচন্দ্রের চতুর্থ বাংলা উপন্যাস এবং তাঁর বিষবৃক্ষ-কৃষ্ণকান্তের উইল-রজনী গার্হস্থ্যধর্মী উপন্যাসত্রয়ীর অন্যতম
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' (১৮৬৫)। তিনি ১৮৬২ সালে উপন্যাসটি রচনা শুরু করেন এবং ১৮৬৩ সালে খুলনার ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্ব পালনকালে রচনা শেষ করেন। উপন্যাসটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় ১৮৬৫ সালে। ষোড়শ শতাব্দীর শেষ পর্যায়ে উড়িষ্যার অধিকার নিয়ে মোঘল ও পাঠানদের মধ্যে যে সংগ্রামের সূচনা হয়েছিল, তারই পটভূমিকা এ উপন্যাসের উপজীব্য। 'দুর্গেশনন্দিনী' অর্থ দুর্গ প্রধানের কন্যা। উল্লেখযোগ্য চরিত্র: কুমার জগৎসিংহ, ওসমান, আয়েশা, তিলোত্তমা। এ উপন্যাসের প্রতিক্রিয়ায় ইসমাইল হোসেন সিরাজী 'রায়নন্দিনী' উপন্যাস লিখেন।
রোম্যান্সধর্মী উপন্যাস। প্রথম প্রকাশ বঙ্গদর্শন পত্রিকায় (১২৮১-৮২)। বঙ্কিমচন্দ্রের জীবিতকালে তিনটি সংস্করণ প্রকাশিত হয়। সর্বশেষ সংস্করণ ১৮৮৭ সালে মুদ্রিত।
শেষের পরিচয়, শেষ প্রশ্ন-শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস। শেষের কবিতা-- রবীন্দ্রনাথের উপন্যাস, শেষ লেখা-- রবীন্দ্রনাথের কাব্যগ্রন্থ। তিনি এই কাব্যগ্রন্থের নামকরণ করে যেতে পারেননি।
বিহারীলাল চক্রবর্তী আধুনিক বাংলা গীতিকার প্রথম কবি। বাংলা সাহিত্যর আধুনিক যুগের প্রথম দিকে সফল গীতিকবিতা রচনা করার কারণে রবীন্দ্রনাথ তাকে ''ভোরের পাখি'' উপাধি দিয়েছেন। বাংলা গীতিকবিতার পুনর্বিকাশ ঘটে রবীন্দ্রনাথের হাতে।
সাত সাগরের মাঝি, সিরাজাম মুনীরা, নৌফেল ও হাতে্ ম, মুহূর্তের কবিতা, ধোলাই কাব্য, হাতেম তায়ী, কাফেলা, সিন্দাবাদ, দিলরুবা ইত্যাদি কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা ফররুখ আহমদ । সাত সাগরের মাঝি-- কাব্যর উপজীব্য ইসলামের ইতিহাস ও ঐতিহ্য।
উপন্যাসের প্রধান চরিত্র আব্দুল্লাহ একজন মধ্যবিত্ত মুসলিম যুবক।তিনি একজন সৎ, ধার্মিক, এবং মেধাবী ছেলে।তিনি শিক্ষা লাভের মাধ্যমে সমাজে প্রতিষ্ঠা লাভের স্বপ্ন দেখেন। কিন্তু তার স্বপ্ন পূরণ হয় না।তিনি বিভিন্ন প্রতিকূলতা মোকাবেলা করে অবশেষে একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন।
সংশপ্তক, সারেং বৌ-- শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত উপন্যাস । শহীদুল্লাহ কায়সার মূলত লেখক ও বুদ্ধিজীবি ছিলেন।