রাজিয়া খান আমিন (১৯৩৬-২০১১) ছিলেন একাধারে সাহিত্যিক, শিক্ষাবিদ ও নাট্যজন। তিনি বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট ঔপন্যাসিক ও গল্পকার। - 'বটতলার উপন্যাস' তাঁর রচিত প্রথম উপন্যাস। এটি ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত হয় এবং এই উপন্যাসের মাধ্যমেই তিনি সাহিত্য জগতে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি ১৯৯৭ সালে একুশে পদক এবং ১৯৭৫ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন। রাজিয়া খান রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস: বটতলার উপন্যাস (১৯৫৯), অনুকল্প, প্রতিচিত্র, চিত্র-কাব্য, হে মহাজীবন, দ্রৌপদী ইত্যাদি। রাজিয়া খান রচিত অন্যান্য গ্রন্থ: - গল্পগ্রন্থ: সোনার হরিণ। কাব্যগ্রন্থ: সোনালী ঘাসের নিচে, Argus under Anaesthesia (ইংরেজি কাব্যগ্রন্থ)।
বিগত সালের প্রশ্ন ও প্রশ্ন ব্যাংক
বিসিএস, ব্যাংক, প্রাথমিক শিক্ষক ও সকল সরকারি চাকরির বিগত সালের প্রশ্ন ও অধ্যায়ভিত্তিক নির্ভুল সমাধান
বিষবৃক্ষ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি উপন্যাস। এটি বঙ্কিমচন্দ্রের চতুর্থ বাংলা উপন্যাস এবং তাঁর বিষবৃক্ষ-কৃষ্ণকান্তের উইল-রজনী গার্হস্থ্যধর্মী উপন্যাসত্রয়ীর অন্যতম
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' (১৮৬৫)। তিনি ১৮৬২ সালে উপন্যাসটি রচনা শুরু করেন এবং ১৮৬৩ সালে খুলনার ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্ব পালনকালে রচনা শেষ করেন। উপন্যাসটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় ১৮৬৫ সালে। ষোড়শ শতাব্দীর শেষ পর্যায়ে উড়িষ্যার অধিকার নিয়ে মোঘল ও পাঠানদের মধ্যে যে সংগ্রামের সূচনা হয়েছিল, তারই পটভূমিকা এ উপন্যাসের উপজীব্য। 'দুর্গেশনন্দিনী' অর্থ দুর্গ প্রধানের কন্যা। উল্লেখযোগ্য চরিত্র: কুমার জগৎসিংহ, ওসমান, আয়েশা, তিলোত্তমা। এ উপন্যাসের প্রতিক্রিয়ায় ইসমাইল হোসেন সিরাজী 'রায়নন্দিনী' উপন্যাস লিখেন।
রোম্যান্সধর্মী উপন্যাস। প্রথম প্রকাশ বঙ্গদর্শন পত্রিকায় (১২৮১-৮২)। বঙ্কিমচন্দ্রের জীবিতকালে তিনটি সংস্করণ প্রকাশিত হয়। সর্বশেষ সংস্করণ ১৮৮৭ সালে মুদ্রিত।
শেষের পরিচয়, শেষ প্রশ্ন-শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস। শেষের কবিতা-- রবীন্দ্রনাথের উপন্যাস, শেষ লেখা-- রবীন্দ্রনাথের কাব্যগ্রন্থ। তিনি এই কাব্যগ্রন্থের নামকরণ করে যেতে পারেননি।
বিহারীলাল চক্রবর্তী আধুনিক বাংলা গীতিকার প্রথম কবি। বাংলা সাহিত্যর আধুনিক যুগের প্রথম দিকে সফল গীতিকবিতা রচনা করার কারণে রবীন্দ্রনাথ তাকে ''ভোরের পাখি'' উপাধি দিয়েছেন। বাংলা গীতিকবিতার পুনর্বিকাশ ঘটে রবীন্দ্রনাথের হাতে।
সাত সাগরের মাঝি, সিরাজাম মুনীরা, নৌফেল ও হাতে্ ম, মুহূর্তের কবিতা, ধোলাই কাব্য, হাতেম তায়ী, কাফেলা, সিন্দাবাদ, দিলরুবা ইত্যাদি কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা ফররুখ আহমদ । সাত সাগরের মাঝি-- কাব্যর উপজীব্য ইসলামের ইতিহাস ও ঐতিহ্য।
উপন্যাসের প্রধান চরিত্র আব্দুল্লাহ একজন মধ্যবিত্ত মুসলিম যুবক।তিনি একজন সৎ, ধার্মিক, এবং মেধাবী ছেলে।তিনি শিক্ষা লাভের মাধ্যমে সমাজে প্রতিষ্ঠা লাভের স্বপ্ন দেখেন। কিন্তু তার স্বপ্ন পূরণ হয় না।তিনি বিভিন্ন প্রতিকূলতা মোকাবেলা করে অবশেষে একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন।
সংশপ্তক, সারেং বৌ-- শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত উপন্যাস । শহীদুল্লাহ কায়সার মূলত লেখক ও বুদ্ধিজীবি ছিলেন।
শাহেদ আলী ছিলেন একাধারে ভাষা সৈনিক, শিক্ষাবিদ, সাংস্কৃতিক সংগঠক ও লেখক। তিনি ১৯২৫ সালের ২৪ মে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় মাহমুদপুর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৪০ সালে তিনি যখন মাত্র অষ্টম শ্রেণীতে অধ্যায়নরত, তখন তাঁর প্রথম গল্প ‘অশ্রু’ মাসিক সওগাত পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। বগুড়া আজিজুল হক কলেজের অধ্যাপক হিসেবে ১৯৫১ সালে শাহেদ আলী তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন ।শাহেদ আলী সক্রিয়ভাবে ভাষা আন্দোলন এ অংশগ্রহণ করেন। সমমতাদর্শীদের নিয়ে তিনি ১৯৪৮ সালে তমুদ্দুন মজলিস গঠন করেন এবং এর প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন ও পরবর্তীকালে এর সভাপতি হন। তাঁর মৃত্যু হয় ৭৬ বৎসর বয়সে ২০০১ সালে। তাঁর রচনা- উপন্যাসঃ হৃদয় নদী (১৯৬৫) ।গল্পগ্রন্থঃ জিবরাইলের ডানা (১৯৫৩), একই সমতলে (১৯৬৩), শা’নযর (১৯৬৫), অতীত রাতের কাহিনী (১৯৮৬), অমর কাহিনী (১৯৮৭) এবং নতুন জমিদার (১৯৯২)। একমাত্র নাটিকাঃ বিচার (১৯৮৭) ।তথ্যসুত্রঃ বাংলাপিডিয়া।
তেইশ নম্বর তৈলচিত্র বাংলাদেশী ঔপন্যাসিক আলাউদ্দিন আল আজাদের প্রথম উপন্যাস। ১৯৬০ সালে পদক্ষেপ নামক এক পত্রিকার ঈদ সংখ্যায় উপন্যাসটি প্রথম ছাপা হয়। পরবর্তীকালে নওরোজ কিতাবিস্তান উপন্যাসটি বই আকারে প্রকাশ করে।
মোতাহের হোসেন চৌধুরী ১৯০৩ সালে নোয়াখালী জেলার কাঞ্চনপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পেশাগত জীবন শুরু হয় কুলিল্লা ইউসুফ হাইস্কুলে একজন সহকারী শিক্ষক হিসেবে।তিনি ঢাকার মুসলিম সাহিত্য সমাজের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত ছিলেন এবং এর সভা ও সম্মেলনে নিয়মিত অংশগ্রহণ করতেন।মোতাহের হোসেনের প্রবন্ধের গদ্যশৈলীতে প্রমথ চৌধুরীর এবং মননে রবীন্দ্রনাথের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।১৯৫৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর রচিত প্রবন্ধ: সংস্কৃতি কথা, আমাদের দৈন্য,আদেশপন্থী ও অনুপ্রেরণাপন্থী, মুসলমান সাহিত্যিকদের চিন্তাধারা, রবীন্দ্রনাথ ও বৈরাগ্যবিলাস, সুখ তাঁর রচিত অন্যান্য প্রবন্ধগ্রন্থ: ক্লাইভ বেল এর Civilization গ্রন্থের ভাবানুবাদ ‘সভ্যতা' (১৯৬৫), বার্ট্রান্ড রাসেলের Conquest of Happiness গ্রন্থের ভাবানুবাদ ‘সুখ' (১৯৬৮)।
শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস 'জাহান্নাম হইতে বিদায়' ( ১৯৭১ ) । - তার রচিত আরও কয়েকটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস- নেকড়ে অরণ্য ( ১৯৭৩ ), দুই সৈনিক ( ১৯৭৩ , জলাংগী ( ১৯৮৬ ) ।
সৈয়দ মুজতবা আলী (১৯০৪-১৯৭৪) ছিলেন একজন খ্যাতিমান সাহিত্যিক, যিনি তার সরস ও বুদ্ধিদীপ্ত রচনার জন্য পরিচিত। তিনি ১৯০৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। তিনি কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ- ই- ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেছিলেন। উল্লেখযোগ্য রচনা- ভ্রমণকাহিনী: তার সবচেয়ে বিখ্যাত এবং প্রথম গ্রন্থ হলো 'দেশে বিদেশে'। এই ভ্রমণকাহিনীটি আফগানিস্তানের কাবুল শহর নিয়ে লেখা। উপন্যাস: অবিশ্বাস্য শবনম।
‘আবদুল্লাহ’ উপন্যাসটি লেখকের জীবদ্দশায় সম্পূর্ণ বা প্রকাশ হয়নি। তিনি এ উপন্যাসটি জীবনের শেষান্তে শুরু করলেও শেষ করে যেতে পারেননি। পরবর্তীতে তার খসড়ার ভিত্তিতে উপন্যাসটি সম্পূর্ণ করা হয় এবং তা ১৯৩২ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। ১৯৬৮ সালে কেন্দ্রীয় বাংলা উন্নয়ন বোর্ড (আজকের বাংলা একাডেমি) আবদুল কাদিরের সম্পাদনায় প্রকাশ করে 'কাজী ইমদাদুল হকের রচনাবলি'।
ফররুখ আহমদ ছিলেন কবি, শিশুসাহিত্যিক ।জন্ম: ১৯১৮ সালের ১০ জুন, মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে। কর্মজীবন: প্রথমে কলকাতার আইজি প্রিজন অফিস এবং সিভিল সাপ্লাই অফিসে কয়েক বছর চাকরি। ১৯৪৫ সাল থেকে মাসিক মোহাম্মদী পত্রিকা সম্পাদনা। দেশভাগের পর ঢাকায় এসে রেডিও পাকিস্তানের ঢাকা কেন্দ্রে স্টাফ শিল্পী হিসেবে যোগদান। সেখানে তিনি জনপ্রিয় খেলাঘর অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করতেন। রাজনৈতিক দর্শন: ছাত্রাবস্থায়ই এম.এন. রায়ের র ্যাডিক্যাল মানবতাবাদের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে বামপন্থী রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। বিভাগোত্তরকালে তিনি পাকিস্তানি আদর্শ ও মুসলিম রেনেসাঁর একজন সমর্থক হন। সাহিত্যকর্ম: কাব্যগ্রন্থ: সাত সাগরের মাঝি ,সিরাজাম মুনীরা ,নৌফেল ও হাতেম কাব্যনাট্য: মুহূর্তের কবিতা, ধোলাই কাব্য, হাতেম তায়ী, নতুন লেখা কাফেলা ফররুখ আহমদের শিশুতোষ গ্রন্থ: পাখির বাসা (১৯৬৫) ,হরফের ছড়া (১৯৭০) ,চাঁদের আসর (১৯৭০) ,ছড়ার আসর (১৯৭০), ফুলের জলসা (ডিসেম্বর, ১৯৮৫)।
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ঐতিহাসিক উপন্যাসগুলি হল--দুর্গেশনন্দিনী, চন্দ্রশেখর এবং রাজসিংহ।
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত বিখ্যাত ছোটগল্প ‘প্রাগৈতিহাসিক’ । এ গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র ভিখু ও পাঁচি। বসন্তপুরের বৈকুণ্ঠ সাহার গদিতে ডাকাতি করতে গিয়ে ভিখু বর্শার খোঁচায় আহত হয়। -আহত অবস্থায় তার ডাকাতদলের সহযোগী পেহ্লাদের বাসায় আশ্রয় নেয়। পেহ্লাদের স্ত্রীর সাথে অশ্লীল আচরণ করায় সেখান থেকে বিতাড়িত হয় এবং প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে পেহ্লাদের ঘরে আগুন দেয়। পরবর্তীতে ভিখু ভিক্ষাবৃত্তিতে নেমে আরেক ভিখারী পাঁচির প্রেমে মত্ত হয়। প্রেমের বাধা হিসেবে পাঁচির স্বামী বসিরকে হত্যা করে পাঁচিকে নিয়ে অচেনা উদ্দেশ্যে পাড়ি জমায়।
সোমেন চন্দ একজন প্রগতিশীল কথাশিল্পী ও মার্কসবাদী রাজনৈতিক কর্মী। 'ইঁদুর' তার রচিত একটি কালজয়ী ছোটগল্প, যা বিশ্বসাহিত্যের বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে। ১৯৪২ সালে ঢাকায় ফ্যাসিবাদ বিরোধী সম্মেলনে যোগ দিতে যাওয়ার পথে তিনি আততায়ীর হামলায় নিহত হন। তার গল্পগ্রন্থের মধ্যে সংকেত, বনস্পতি উল্লেখযোগ্য। তার অন্যান্য গল্প/গ্রন্থঃ সংকেত ও অন্যান্য গল্প, বনস্পতি ও অন্যান্য গল্প, দাঙ্গা,স্বপ্ন ইত্যাদি।
আহসান হাবীব (জন্ম : ২ জানুয়ারি, ১৯১৭ - মৃত্যু : ১০ জুলাই,১৯৮৫) একজন খ্যাতিমান বাংলাদেশী কবি ও সাহিত্যিক। দীর্ঘ দিন দৈনিক বাংলা পত্রিকার সাহিত্য সম্পাদক পদের দায়িত্ব পালন সূত্রে তিনি স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের সাহিত্য অঙ্গনে অভিভাবকের ভূমিকা রেখেছেন।
মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী (৬ ডিসেম্বর, ১৮৫৩ – ১৭ নভেম্বর, ১৯৩১) ছিলেন বিখ্যাত বাঙালি ভারততত্ত্ববিদ তাঁর আসল নাম ছিল হরপ্রসাদ ভট্টাচার্য। তিনি বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন চর্যাপদের আবিষ্কর্তা। তিনি সন্ধ্যাকর নন্দী রচিত রামচরিতম্ বা রামচরিতমানস পুঁথির সংগ্রাহক।