সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় তাঁর উপন্যাসে 'কাকাবাবু' নামে একটি অনন্য চরিত্র সৃষ্টি করেছেন। - এই চরিত্র অবলম্বনে অনেকগুলো উপন্যাস রচিত হয়েছে। - বাংলা সাহিত্যে 'কাকাবাবু' একটি উল্লেখযোগ্য সৃষ্টি। - শিশু কিশোরদের কাছে 'কাকাবাবু' সিরিজের উপন্যাসগুলো বিশেষ আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছিল। - এই সিরিজের কোন কোন উপন্যাস চলচ্চিত্রে রূপান্তরিত হয়েছে। - 'কাকাবাবু' সিরিজের উপনাস: 'সবুজ দ্বীপের রাজা', 'কাকাবাবু ও সিন্দুক রহস্য', 'কাকাবাবু ও বজ্রগামা', 'সন্তু কোথায় কাকাবাবু কোথায়', 'বিজয় নগরেরহীরে', 'জঙ্গলের মধ্যে এক হোটেল' ইত্যাদি।
বিগত সালের প্রশ্ন ও প্রশ্ন ব্যাংক
বিসিএস, ব্যাংক, প্রাথমিক শিক্ষক ও সকল সরকারি চাকরির বিগত সালের প্রশ্ন ও অধ্যায়ভিত্তিক নির্ভুল সমাধান
'আগুনপাখি' হাসান আজিজুল হকের পৈতৃক নিবাস বর্ধমানকে কেন্দ্র করে রচিত একটি উপন্যাস। এতে ওই এলাকার মানুষের সংগ্রামী জীবন, বিভেদকামী রাজনীতি ও সাম্প্রদায়িকতার চিত্র ফুটে উঠেছে। এই উপন্যাসের মাধ্যমে লেখক জীবনের নেতিবাচকতা পরিহার করে ইতিবাচকতার সন্ধান করেছেন। উপন্যাসটিতে কোনো চরিত্রের প্রথাগত নাম ব্যবহার করা হয়নি, তবে চরিত্রগুলো দ্বন্দ্বসংকুল এবং সহজেই বোঝা যায়। উপন্যাসের মূল চরিত্র 'মেঝ বউ' সকল প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে সুসংবদ্ধতার প্রতীক।হাসান আজিজুল হক ১৯৩৯ সালে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলায় জন্মগ্রহণ করেন এবং তিনি মূলত কথাসাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত।তিনি আদমজী সাহিত্য পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদক এবং স্বাধীনতা পদক লাভ করেন।হাসান আজিজুল হক ২০২১ সালের ১৫ নভেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে 'আত্মজা ও একটি করবী গাছ', 'জীবন ঘষে আগুন' ইত্যাদি।তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস হলো 'আগুনপাখি', 'সাবিত্রী উপাখ্যান', 'শামুক' ইত্যাদি।
সৈয়দ আলী আহসানের 'আমার পূর্ব বাংলা' গ্রন্থটি ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করে। এটি একটি কাব্যগ্রন্থ, যেখানে পূর্ব বাংলার প্রকৃতি, সৌন্দর্য ও মানুষের জীবনচিত্র অসাধারণভাবে ফুটে উঠেছে। গ্রন্থটি ১৯৫৪ সালে ইউনেস্কো পুরস্কারে ভূষিত হয়, যা ছিল সেসময়ের একটি বড় আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। সৈয়দ আলী আহসান ছিলেন একাধারে একজন বরেণ্য কবি, প্রাবন্ধিক, অনুবাদক এবং শিক্ষাবিদ। 'একক সন্ধ্যায় বসন্ত' এবং 'অনেক আকাশ' তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে অন্যতম। তিনি বাংলাদেশের জাতীয় অধ্যাপক হিসেবেও সম্মানিত হয়েছিলেন। • তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ: অনেক আকাশ, একক সন্ধ্যায় বসন্ত, সহসা সচকিত,আমার প্রতিদিনের শব্দ, চাহার দরবেশ ও অন্যান্য কবিতা, সমুদ্রেই যাব, রজনীগন্ধা ইত্যাদি। • অনুবাদগ্রন্থ: হুইটম্যানের কবিতা, ইডিপাস। • প্রবন্ধ: সতত স্বাগত। • আত্মজীবনী: আমার সাক্ষ্য।
বিখ্যাত লেখক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'পথের পাঁচালী' উপন্যাসের প্রধান চরিত্র হলো অপু ও দুর্গা। তাদের গ্রামের নাম ছিল নিশ্চিন্দিপুর। এই উপন্যাসে নিশ্চিন্দিপুর গ্রামের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং গ্রামীণ জীবনের চিত্র নিখুঁতভাবে ফুটে উঠেছে। 'পথের পাঁচালী' বাংলা সাহিত্যের একটি কালজয়ী সৃষ্টি হিসেবে পরিচিত।
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিখ্যাত 'কবি' উপন্যাসের প্রধান চরিত্রের নাম হলো নিতাই বা নিতাইচরণ। নিতাই একজন কবিয়াল, যে গ্রামে-গঞ্জে ঘুরে কবিতা ও গান রচনা করে এবং গেয়ে শোনায়। এই উপন্যাসে নিতাইয়ের জীবনের উত্থান-পতন, তার প্রেম এবং শিল্পীসত্তার দ্বন্দ্ব চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।বসন বা ঠাকুরঝি উপন্যাসের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নারী চরিত্র, যার প্রতি নিতাই গভীরভাবে আকৃষ্ট ছিল। তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস: চৈতালি ঘূর্ণি, ধাত্রীদেবতা, কালিন্দী,জলসাঘর, কবি, হাঁসুলি বাঁকের উপকথা, গণদেবতা, আরগ্য।
শহীদুল্লা কায়সারের 'সারেং বৌ' উপন্যাসের কেন্দ্রীয় এবং প্রধান চরিত্র হলো 'নবিতুন'। উপন্যাসের নামকরণ 'সারেং বৌ' মূলত নবিতুনকেই নির্দেশ করে, যিনি একজন সারেং-এর স্ত্রী। কদম সারেং উপন্যাসের অন্যতম প্রধান চরিত্র এবং নবিতুনের স্বামী।কিন্তু উপন্যাসের মূল কাহিনী নবিতুনের জীবন সংগ্রাম, ত্যাগ এবং অপেক্ষাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে। শহীদুল্লা কায়সার রচিত উপন্যাস: সারেং বৌ, সংশপ্তক, কৃষ্ণচূড়া মেঘ, তিমির বলয়, দিগন্তে ফুলের আগুন, সমুদ্র ও তৃষ্ণা, চন্দ্রভানের কন্যা, কবে পোহাবে বিভাবরী (অসমাপ্ত)।
বাংলা সাহিত্যের মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের জন্ম ১৯২৬ সালের ১৫ই আগস্ট। -তাঁর পৈতৃক বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া উপজেলার অন্তর্গত ঊনশিয়া গ্রামে। তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ: ছাড়পত্র (১৯৪৮),পূর্বাভাস (১৯৫০), মিঠেকড়া (১৯৫১), অভিযান (১৯৫৩), ঘুম নেই (১৯৫৪), হরতাল (১৯৬২),গীতিগুচ্ছ (১৯৬৫) প্রভৃতি। মাত্র ২১ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
আনিসুজ্জামান রচিত প্রথম গ্রন্থ 'মুসলিম মানস ও বাংলা সাহিত্য' (১৯৬৪)। - এতে সামাজিক ইতিহাসের পটভূমিকায় বাঙালি মুসলমানদের সাহিত্যকর্মে (১৭৫৭- ১৯১৮) ভাষা, সাহিত্য, ধর্ম, রাজনীতি ও অর্থনীতি সম্পর্কিত ভাবনা উদ্ঘাটিত হয়েছে। তাঁর রচিত অন্যান্য গ্রন্থ: - 'স্বরূপের সন্ধানে', 'বাঙালি নারী সাহিত্যে ও সমাজে', 'সংস্কৃতি ও সংস্কৃতি সাধক', 'আমার একাত্তর', - 'কাল নিরবধি','মুক্তির সংগ্রাম' ও 'বিপুলা পৃথিবী' ইত্যাদি।
- শহিদ বুদ্ধিজীবী শহীদুল্লা কায়সারের সহধর্মিনী পান্না কায়সার রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কিশোর সাহিত্য 'হৃদয়ে বাংলাদেশ' (১৯৯৩)। - এ গ্রন্থটি কেবল বালক-কিশোরের বীরত্ব ও বেদনার গল্প মাত্র নয়, মুক্তিযুদ্ধের জীবনসত্যেরই এ-এক প্রতিচ্ছবি। তাঁর রচিত অন্যান্য সাহিত্যকর্ম: - 'মুক্তিযুদ্ধ: আগে ও পরে' (১৯৯১), - 'মুক্তি' (১৯৯২), - 'নীলিমায় নীল' (১৯৯২), - 'মানুষ' '১৯৯৪), - 'তুমি কি কেবলি ছবি' (১৯৯৪), - 'রাসেলের যুদ্ধযাত্রা' (১৯৯৪), - 'অন্যরকম ভালোবাসা' (১৯৯৫), - 'সুখ' (১৯৯৫) প্রভৃতি।
মুহম্মদ জাফর ইকবাল (২৩ ডিসেম্বর ১৯৫২) হলেন একজন বাংলাদেশী লেখক, পদার্থবিদ ও শিক্ষাবিদ। তাকে বাংলাদেশে বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী লেখা ও জনপ্রিয়করণের পথিকৃত হিসাবে গণ্য করা হয়। এছাড়াও তিনি একজন জনপ্রিয় শিশুসাহিত্যিক এবং কলাম-লেখক।
শামসুর রাহমান (২৩ অক্টোবর ১৯২৯ - ১৭ আগস্ট ২০০৬) বাংলাদেশ ও আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি। ১৯৫৫ সালের ৮ই জুলাই শামসুর রাহমান জোহরা বেগমকে বিয়ে করেন। শামসুর রহমানের কাব্যগ্রন্থ: রৌদ্র করোটিতে, বিধ্বস্ত নীলিমা, শূন্যতায় তুমি শোকসভা, ইকারুসের আকাশ, উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ, বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়, নিরালোকে দিব্যরথ, নিজ বাসভূমে, বন্দী শিবির থেকে, ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা, শুনি হৃদয়ের ধ্বনি, অন্ধকার থেকে আলোয় ইত্যাদি। শামসুর রহমান রচিত আত্মস্মৃতি গ্রন্থ: স্মৃতির শহর, কালের ধুলোয় লেখা।
ড . মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ১০ জুলাই ১৮৮৫ সালে পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ।শিকওয়াহ ও জওয়াব -ই- শিকওয়াহ তার অন্যতম অনুবাদ গ্রন্থ । এছাড়া উল্লেখযোগ্য অনুবাদ গ্রন্থসমূহ -দীওয়ানে হাফিজ ( ১৯৩৮) ,অমিয় শতক (১৯৪০) , মহানবী (১৯৪৬) , কুরআন প্রসঙ্গ (১৯৬২) , মহরম শরীফ । শিকওয়াহ ও জওয়াব -ই - শিকওয়াহ ১৯৪২ সালে প্রকাশিত হয় ।
শওকত ওসমান রচিত উপন্যাস- -ক্রীতদাসের হাসি (১৯৬২) -সমাগম (১৯৬৭) -চৌরসন্ধি (১৯৬৮) -রাজা উপাখ্যান (১৯৭১) -জাহান্নম হইতে বিদায় (১৯৭১) -দুই সৈনিক (১৯৭৩) -নেকড়ে অরণ্য (১৯৭৩) -পতঙ্গ পিঞ্জর (১৯৮৩) ইত্যাদি।
১৯৪৩ সালের ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ বা পঞ্চাশের মন্বন্তর উপলক্ষে সুকান্ত ভট্টাচার্য 'আকাল' (১৯৪৪) নামক একটি কাব্য সংকলন সম্পাদনা করেন। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে এবং দুর্ভিক্ষের মর্মান্তিক চিত্র তুলে ধরতে 'ফ্যাসিবিরোধী লেখক ও শিল্পী সঙ্ঘ' এর উদ্যোগে এটি প্রকাশিত হয়। সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের অনুরোধে তিনি এই সংকলনটি সম্পাদনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত কাব্যগ্রন্থ: ছাড়পত্র (১৯৪৭) , ঘুম নেই (১৯৫০) ,পূর্বাভাস (১৯৫০), মিঠে কড়া (১৯৫১) , অভিযান (১৯৫৩) ,হরতাল (১৯৬২) , গীতিগুচ্ছ (১৯৬৫)
সুফিয়া কামাল রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ ‘ইতল বিতল’ (১৯৬৫) ও ‘নওল কিশোরের দরবারে' (১৯৮২)। তাঁর রচিত কাব্য: ‘সাঁঝের মায়া' (১৯৩৮), ‘মোর জাদুদের সমাধি পরে' (১৯৭২), ‘মায়া কাজল' (১৯৫১), ‘মন ও জীবন’ (১৯৫৭), ‘শান্তি ও প্রার্থনা' (১৯৫৮), ‘উদাত্ত পৃথিবী’ (১৯৬৪), 'দিওয়ান’ (১৯৬৬), ‘অভিযাত্রিক’ (১৯৬৯), ‘মৃত্তিকার ঘ্রাণ।
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'একরাত্রি' গল্পের নায়িকা- সুরবালা । • শরৎচন্দ্রের 'শ্রীকান্ত' উপন্যাসের চরিত্র- অভয়া, 'দেনাপাওনা' উপন্যাস- ষোড়শী, 'চরিত্রহীন' উপন্যাস- সাবিত্রী ।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'মহেশ' গল্পের প্রধান চরিত্র হলো দরিদ্র কৃষক গফুর। - বাংলাপিডিয়া ও এনসিটিবি (NCTB) পাঠ্যবই অনুসারে, কাশীপুর গ্রামের কৃষক গফুর, তার কন্যা আমিনা ও অবলা জীব 'মহেশ' নামক গরুটিকে নিয়ে গল্পটি রচিত। - এ গল্পের মাধ্যমে লেখক ধর্ম ও শাস্ত্রের নামে তৎকালীন সমাজের অমানবিকতা ও স্বার্থপরতাকে তুলে ধরেছেন। - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উল্লেখযোগ্য অন্যান্য গল্পসমূহ: মেজদিদি, রামের সুমতি, বিন্দুর ছেলে, অভাগীর স্বর্গ।