শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস 'জাহান্নাম হইতে বিদায়' ( ১৯৭১ ) । - তার রচিত আরও কয়েকটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস- নেকড়ে অরণ্য ( ১৯৭৩ ), দুই সৈনিক ( ১৯৭৩ , জলাংগী ( ১৯৮৬ ) ।
বিগত সালের প্রশ্ন ও প্রশ্ন ব্যাংক
বিসিএস, ব্যাংক, প্রাথমিক শিক্ষক ও সকল সরকারি চাকরির বিগত সালের প্রশ্ন ও অধ্যায়ভিত্তিক নির্ভুল সমাধান
সৈয়দ মুজতবা আলী (১৯০৪-১৯৭৪) ছিলেন একজন খ্যাতিমান সাহিত্যিক, যিনি তার সরস ও বুদ্ধিদীপ্ত রচনার জন্য পরিচিত। তিনি ১৯০৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। তিনি কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ- ই- ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেছিলেন। উল্লেখযোগ্য রচনা- ভ্রমণকাহিনী: তার সবচেয়ে বিখ্যাত এবং প্রথম গ্রন্থ হলো 'দেশে বিদেশে'। এই ভ্রমণকাহিনীটি আফগানিস্তানের কাবুল শহর নিয়ে লেখা। উপন্যাস: অবিশ্বাস্য শবনম।
‘আবদুল্লাহ’ উপন্যাসটি লেখকের জীবদ্দশায় সম্পূর্ণ বা প্রকাশ হয়নি। তিনি এ উপন্যাসটি জীবনের শেষান্তে শুরু করলেও শেষ করে যেতে পারেননি। পরবর্তীতে তার খসড়ার ভিত্তিতে উপন্যাসটি সম্পূর্ণ করা হয় এবং তা ১৯৩২ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। ১৯৬৮ সালে কেন্দ্রীয় বাংলা উন্নয়ন বোর্ড (আজকের বাংলা একাডেমি) আবদুল কাদিরের সম্পাদনায় প্রকাশ করে 'কাজী ইমদাদুল হকের রচনাবলি'।
ফররুখ আহমদ ছিলেন কবি, শিশুসাহিত্যিক ।জন্ম: ১৯১৮ সালের ১০ জুন, মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে। কর্মজীবন: প্রথমে কলকাতার আইজি প্রিজন অফিস এবং সিভিল সাপ্লাই অফিসে কয়েক বছর চাকরি। ১৯৪৫ সাল থেকে মাসিক মোহাম্মদী পত্রিকা সম্পাদনা। দেশভাগের পর ঢাকায় এসে রেডিও পাকিস্তানের ঢাকা কেন্দ্রে স্টাফ শিল্পী হিসেবে যোগদান। সেখানে তিনি জনপ্রিয় খেলাঘর অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করতেন। রাজনৈতিক দর্শন: ছাত্রাবস্থায়ই এম.এন. রায়ের র ্যাডিক্যাল মানবতাবাদের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে বামপন্থী রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। বিভাগোত্তরকালে তিনি পাকিস্তানি আদর্শ ও মুসলিম রেনেসাঁর একজন সমর্থক হন। সাহিত্যকর্ম: কাব্যগ্রন্থ: সাত সাগরের মাঝি ,সিরাজাম মুনীরা ,নৌফেল ও হাতেম কাব্যনাট্য: মুহূর্তের কবিতা, ধোলাই কাব্য, হাতেম তায়ী, নতুন লেখা কাফেলা ফররুখ আহমদের শিশুতোষ গ্রন্থ: পাখির বাসা (১৯৬৫) ,হরফের ছড়া (১৯৭০) ,চাঁদের আসর (১৯৭০) ,ছড়ার আসর (১৯৭০), ফুলের জলসা (ডিসেম্বর, ১৯৮৫)।
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ঐতিহাসিক উপন্যাসগুলি হল--দুর্গেশনন্দিনী, চন্দ্রশেখর এবং রাজসিংহ।
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত বিখ্যাত ছোটগল্প ‘প্রাগৈতিহাসিক’ । এ গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র ভিখু ও পাঁচি। বসন্তপুরের বৈকুণ্ঠ সাহার গদিতে ডাকাতি করতে গিয়ে ভিখু বর্শার খোঁচায় আহত হয়। -আহত অবস্থায় তার ডাকাতদলের সহযোগী পেহ্লাদের বাসায় আশ্রয় নেয়। পেহ্লাদের স্ত্রীর সাথে অশ্লীল আচরণ করায় সেখান থেকে বিতাড়িত হয় এবং প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে পেহ্লাদের ঘরে আগুন দেয়। পরবর্তীতে ভিখু ভিক্ষাবৃত্তিতে নেমে আরেক ভিখারী পাঁচির প্রেমে মত্ত হয়। প্রেমের বাধা হিসেবে পাঁচির স্বামী বসিরকে হত্যা করে পাঁচিকে নিয়ে অচেনা উদ্দেশ্যে পাড়ি জমায়।
সোমেন চন্দ একজন প্রগতিশীল কথাশিল্পী ও মার্কসবাদী রাজনৈতিক কর্মী। 'ইঁদুর' তার রচিত একটি কালজয়ী ছোটগল্প, যা বিশ্বসাহিত্যের বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে। ১৯৪২ সালে ঢাকায় ফ্যাসিবাদ বিরোধী সম্মেলনে যোগ দিতে যাওয়ার পথে তিনি আততায়ীর হামলায় নিহত হন। তার গল্পগ্রন্থের মধ্যে সংকেত, বনস্পতি উল্লেখযোগ্য। তার অন্যান্য গল্প/গ্রন্থঃ সংকেত ও অন্যান্য গল্প, বনস্পতি ও অন্যান্য গল্প, দাঙ্গা,স্বপ্ন ইত্যাদি।
আহসান হাবীব (জন্ম : ২ জানুয়ারি, ১৯১৭ - মৃত্যু : ১০ জুলাই,১৯৮৫) একজন খ্যাতিমান বাংলাদেশী কবি ও সাহিত্যিক। দীর্ঘ দিন দৈনিক বাংলা পত্রিকার সাহিত্য সম্পাদক পদের দায়িত্ব পালন সূত্রে তিনি স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের সাহিত্য অঙ্গনে অভিভাবকের ভূমিকা রেখেছেন।
মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী (৬ ডিসেম্বর, ১৮৫৩ – ১৭ নভেম্বর, ১৯৩১) ছিলেন বিখ্যাত বাঙালি ভারততত্ত্ববিদ তাঁর আসল নাম ছিল হরপ্রসাদ ভট্টাচার্য। তিনি বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন চর্যাপদের আবিষ্কর্তা। তিনি সন্ধ্যাকর নন্দী রচিত রামচরিতম্ বা রামচরিতমানস পুঁথির সংগ্রাহক।
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় তাঁর উপন্যাসে 'কাকাবাবু' নামে একটি অনন্য চরিত্র সৃষ্টি করেছেন। - এই চরিত্র অবলম্বনে অনেকগুলো উপন্যাস রচিত হয়েছে। - বাংলা সাহিত্যে 'কাকাবাবু' একটি উল্লেখযোগ্য সৃষ্টি। - শিশু কিশোরদের কাছে 'কাকাবাবু' সিরিজের উপন্যাসগুলো বিশেষ আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছিল। - এই সিরিজের কোন কোন উপন্যাস চলচ্চিত্রে রূপান্তরিত হয়েছে। - 'কাকাবাবু' সিরিজের উপনাস: 'সবুজ দ্বীপের রাজা', 'কাকাবাবু ও সিন্দুক রহস্য', 'কাকাবাবু ও বজ্রগামা', 'সন্তু কোথায় কাকাবাবু কোথায়', 'বিজয় নগরেরহীরে', 'জঙ্গলের মধ্যে এক হোটেল' ইত্যাদি।
'আগুনপাখি' হাসান আজিজুল হকের পৈতৃক নিবাস বর্ধমানকে কেন্দ্র করে রচিত একটি উপন্যাস। এতে ওই এলাকার মানুষের সংগ্রামী জীবন, বিভেদকামী রাজনীতি ও সাম্প্রদায়িকতার চিত্র ফুটে উঠেছে। এই উপন্যাসের মাধ্যমে লেখক জীবনের নেতিবাচকতা পরিহার করে ইতিবাচকতার সন্ধান করেছেন। উপন্যাসটিতে কোনো চরিত্রের প্রথাগত নাম ব্যবহার করা হয়নি, তবে চরিত্রগুলো দ্বন্দ্বসংকুল এবং সহজেই বোঝা যায়। উপন্যাসের মূল চরিত্র 'মেঝ বউ' সকল প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে সুসংবদ্ধতার প্রতীক।হাসান আজিজুল হক ১৯৩৯ সালে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলায় জন্মগ্রহণ করেন এবং তিনি মূলত কথাসাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত।তিনি আদমজী সাহিত্য পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদক এবং স্বাধীনতা পদক লাভ করেন।হাসান আজিজুল হক ২০২১ সালের ১৫ নভেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে 'আত্মজা ও একটি করবী গাছ', 'জীবন ঘষে আগুন' ইত্যাদি।তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস হলো 'আগুনপাখি', 'সাবিত্রী উপাখ্যান', 'শামুক' ইত্যাদি।
সৈয়দ আলী আহসানের 'আমার পূর্ব বাংলা' গ্রন্থটি ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করে। এটি একটি কাব্যগ্রন্থ, যেখানে পূর্ব বাংলার প্রকৃতি, সৌন্দর্য ও মানুষের জীবনচিত্র অসাধারণভাবে ফুটে উঠেছে। গ্রন্থটি ১৯৫৪ সালে ইউনেস্কো পুরস্কারে ভূষিত হয়, যা ছিল সেসময়ের একটি বড় আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। সৈয়দ আলী আহসান ছিলেন একাধারে একজন বরেণ্য কবি, প্রাবন্ধিক, অনুবাদক এবং শিক্ষাবিদ। 'একক সন্ধ্যায় বসন্ত' এবং 'অনেক আকাশ' তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে অন্যতম। তিনি বাংলাদেশের জাতীয় অধ্যাপক হিসেবেও সম্মানিত হয়েছিলেন। • তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ: অনেক আকাশ, একক সন্ধ্যায় বসন্ত, সহসা সচকিত,আমার প্রতিদিনের শব্দ, চাহার দরবেশ ও অন্যান্য কবিতা, সমুদ্রেই যাব, রজনীগন্ধা ইত্যাদি। • অনুবাদগ্রন্থ: হুইটম্যানের কবিতা, ইডিপাস। • প্রবন্ধ: সতত স্বাগত। • আত্মজীবনী: আমার সাক্ষ্য।
বিখ্যাত লেখক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'পথের পাঁচালী' উপন্যাসের প্রধান চরিত্র হলো অপু ও দুর্গা। তাদের গ্রামের নাম ছিল নিশ্চিন্দিপুর। এই উপন্যাসে নিশ্চিন্দিপুর গ্রামের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং গ্রামীণ জীবনের চিত্র নিখুঁতভাবে ফুটে উঠেছে। 'পথের পাঁচালী' বাংলা সাহিত্যের একটি কালজয়ী সৃষ্টি হিসেবে পরিচিত।
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিখ্যাত 'কবি' উপন্যাসের প্রধান চরিত্রের নাম হলো নিতাই বা নিতাইচরণ। নিতাই একজন কবিয়াল, যে গ্রামে-গঞ্জে ঘুরে কবিতা ও গান রচনা করে এবং গেয়ে শোনায়। এই উপন্যাসে নিতাইয়ের জীবনের উত্থান-পতন, তার প্রেম এবং শিল্পীসত্তার দ্বন্দ্ব চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।বসন বা ঠাকুরঝি উপন্যাসের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নারী চরিত্র, যার প্রতি নিতাই গভীরভাবে আকৃষ্ট ছিল। তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস: চৈতালি ঘূর্ণি, ধাত্রীদেবতা, কালিন্দী,জলসাঘর, কবি, হাঁসুলি বাঁকের উপকথা, গণদেবতা, আরগ্য।