ড . মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ১০ জুলাই ১৮৮৫ সালে পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ।শিকওয়াহ ও জওয়াব -ই- শিকওয়াহ তার অন্যতম অনুবাদ গ্রন্থ । এছাড়া উল্লেখযোগ্য অনুবাদ গ্রন্থসমূহ -দীওয়ানে হাফিজ ( ১৯৩৮) ,অমিয় শতক (১৯৪০) , মহানবী (১৯৪৬) , কুরআন প্রসঙ্গ (১৯৬২) , মহরম শরীফ । শিকওয়াহ ও জওয়াব -ই - শিকওয়াহ ১৯৪২ সালে প্রকাশিত হয় ।
বিগত সালের প্রশ্ন ও প্রশ্ন ব্যাংক
বিসিএস, ব্যাংক, প্রাথমিক শিক্ষক ও সকল সরকারি চাকরির বিগত সালের প্রশ্ন ও অধ্যায়ভিত্তিক নির্ভুল সমাধান
শওকত ওসমান রচিত উপন্যাস- -ক্রীতদাসের হাসি (১৯৬২) -সমাগম (১৯৬৭) -চৌরসন্ধি (১৯৬৮) -রাজা উপাখ্যান (১৯৭১) -জাহান্নম হইতে বিদায় (১৯৭১) -দুই সৈনিক (১৯৭৩) -নেকড়ে অরণ্য (১৯৭৩) -পতঙ্গ পিঞ্জর (১৯৮৩) ইত্যাদি।
১৯৪৩ সালের ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ বা পঞ্চাশের মন্বন্তর উপলক্ষে সুকান্ত ভট্টাচার্য 'আকাল' (১৯৪৪) নামক একটি কাব্য সংকলন সম্পাদনা করেন। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে এবং দুর্ভিক্ষের মর্মান্তিক চিত্র তুলে ধরতে 'ফ্যাসিবিরোধী লেখক ও শিল্পী সঙ্ঘ' এর উদ্যোগে এটি প্রকাশিত হয়। সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের অনুরোধে তিনি এই সংকলনটি সম্পাদনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত কাব্যগ্রন্থ: ছাড়পত্র (১৯৪৭) , ঘুম নেই (১৯৫০) ,পূর্বাভাস (১৯৫০), মিঠে কড়া (১৯৫১) , অভিযান (১৯৫৩) ,হরতাল (১৯৬২) , গীতিগুচ্ছ (১৯৬৫)
সুফিয়া কামাল রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ ‘ইতল বিতল’ (১৯৬৫) ও ‘নওল কিশোরের দরবারে' (১৯৮২)। তাঁর রচিত কাব্য: ‘সাঁঝের মায়া' (১৯৩৮), ‘মোর জাদুদের সমাধি পরে' (১৯৭২), ‘মায়া কাজল' (১৯৫১), ‘মন ও জীবন’ (১৯৫৭), ‘শান্তি ও প্রার্থনা' (১৯৫৮), ‘উদাত্ত পৃথিবী’ (১৯৬৪), 'দিওয়ান’ (১৯৬৬), ‘অভিযাত্রিক’ (১৯৬৯), ‘মৃত্তিকার ঘ্রাণ।
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'একরাত্রি' গল্পের নায়িকা- সুরবালা । • শরৎচন্দ্রের 'শ্রীকান্ত' উপন্যাসের চরিত্র- অভয়া, 'দেনাপাওনা' উপন্যাস- ষোড়শী, 'চরিত্রহীন' উপন্যাস- সাবিত্রী ।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'মহেশ' গল্পের প্রধান চরিত্র হলো দরিদ্র কৃষক গফুর। - বাংলাপিডিয়া ও এনসিটিবি (NCTB) পাঠ্যবই অনুসারে, কাশীপুর গ্রামের কৃষক গফুর, তার কন্যা আমিনা ও অবলা জীব 'মহেশ' নামক গরুটিকে নিয়ে গল্পটি রচিত। - এ গল্পের মাধ্যমে লেখক ধর্ম ও শাস্ত্রের নামে তৎকালীন সমাজের অমানবিকতা ও স্বার্থপরতাকে তুলে ধরেছেন। - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উল্লেখযোগ্য অন্যান্য গল্পসমূহ: মেজদিদি, রামের সুমতি, বিন্দুর ছেলে, অভাগীর স্বর্গ।
- আবুল কালাম শামসুদ্দিন ছিলেন একাধারে সাংবাদিক, সাহিত্যিক ও রাজনীতিক। - তিনি ছিলেন দৈনিক আজাদ পত্রিকার সম্পাদক। - তার আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থটির নাম 'অতীত দিনের স্মৃতি' (১৯৬৮)। এটি বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত হয়। - তার রচিত ভ্রমনকাহিনী 'ইলিয়ড' বেশ জনপ্রিয়। • আবুল কালাম শামসুদ্দিন রচিত অন্যান্য গ্রন্থসমূহ: - অনুবাদ: পলাশী থেকে পাকিস্তান, মরু-ভাস্কর (সিরাত গ্রন্থ)। - প্রবন্ধ ও অন্যান্য: দৃষ্টিভঙ্গি, সাহিত্য ও সংস্কৃতি, ত্রিস্রোতা। • গুরুত্বপূর্ণ বিভ্রান্তি নিরসন (Confusion Clearance): বাংলা সাহিত্যে প্রায় একই রকম নামের দুইজন লেখক রয়েছেন, যা নিয়ে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়। - আবুল কালাম শামসুদ্দিন: ইনি বিখ্যাত সাংবাদিক ও 'অতীত দিনের স্মৃতি'র লেখক। - শামসুদ্দিন আবুল কালাম: ইনি বিখ্যাত কথাসাহিত্যিক এবং 'কাশবনের কন্যা' উপন্যাসের রচয়িতা। • একই ধরনের আত্মজীবনী বা স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থ: - জীবনস্মৃতি: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। - আত্মচরিত: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। - আমার জীবন: রাসসুন্দরী দেবী (প্রথম বাংলা আত্মজীবনী)। - আত্মকথা: আবুল মনসুর আহমদ।
- ‘আগুনমুখার মেয়ে’ গ্রন্থটি মূলত নূরজাহান বোস-এর লেখা একটি আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ।এই বইয়ে তিনি তাঁর নিজের জীবনের সংগ্রাম, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং সামাজিক পরিবর্তনের চিত্র তুলে ধরেছেন। নূরজাহান বোস ছিলেন একজন সমাজকর্মী এবং জন্মসূত্রে তিনি বরিশালের আগুন্মুখা অঞ্চলের মানুষ ছিলেন, সেখান থেকেই বইটির নামকরণ।
১৯০২ সালে রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের প্রথম গল্প 'পিপাসা' প্রকাশিত হয় 'নবনূর' পত্রিকায়।৩ মে, ১৯০৯ সালে স্বামীর মৃত্যুর পর ১৯১০ সালে কলকাতায় গমন করেন এবং নারী মুক্তির লক্ষ্যে তিনি 'সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল' (১৬ মার্চ, ১৯১১) ও 'আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম' (মুসলিম মহিলা সমিতি)- ১৯১৬ প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ৯ ডিসেম্বর, ১৯৩২ সালে কলকাতায় মারা যান। তার রচিত "মতিচুর", "অবরোধবাসিনী" ও "সুলতানার স্বপ্ন" উপন্যাসগুলি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ রচনা। বেগম রোকেয়ার উলেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে: মতিচূর (প্রবন্ধ, ২ খন্ড: ১ম খন্ড ১৯০৪, ২য় খন্ড ১৯২২), Sultana’s Dream (নকশাধর্মী রচনা, ১৯০৮), পদ্মরাগ (উপন্যাস, ১৯২৪), অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ, ১৯৩১) প্রভৃতি।
প্রমথ চৌধুরীর মতে পৃথিবীতে শ্রেণিভেদ নেই খেলার ময়দানে। প্রমথ চৌধুরী সাহিত্যিক, বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক। তিনি ১৮৬৮ সালের ৭ আগস্ট যশোরে জন্মগ্রহণ করেন। প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।' প্রমথ চৌধুরী রচিত 'বীরবলের হালখাতা' ১৯০২ সালে ভারতী পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। এ গদ্য/প্রবন্ধ রচনায় তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান। বাংলা কাব্য সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন। • তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থঃতেল নুন লকড়ি, বীরবলের হালখাতা, নানাকথা,আমাদের শিক্ষা, রায়তের কথা, নানাচর্চা, আত্মকথা,প্রবন্ধসংগ্রহ ইত্যাদি। সনেট পঞ্চাশৎ ও পদচারণ তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ। তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থঃ চার ইয়ারী কথা, আহুতি, নীললোহিত।
সহস্র জীবন ও সম্ভ্রমের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকায় পরাজিত শক্তি শকুনদের লোলুপ দৃষ্টি এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে পাক বাহিনী কর্তৃক বাঙালি নর-নারীদের ওপর নির্মম নির্যাতনের চিত্র রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ রচিত 'বাতাসে লাশের গন্ধ ' কবিতায় ফুটে উঠেছে । তাঁর রচিত কবিতাঃ - উপদ্রুত উপকূল (১৯৭৯), - ফিরে চাই স্বর্ণগ্রাম (১৯৮১), - মানুষের মানচিত্র (১৯৮৬), - ছোবল (১৯৮৬), - গল্প (১৯৮৭), - দিয়েছিলে সকল আকাশ (১৯৮৮), - মৌলিক মুখোশ (১৯৯০) ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
- ১৯০৬ সালের ১৫ ডিসেম্বর পাবনা জেলার রাধানগর গ্রামে বন্দে আলী মিয়ার জন্ম। - তিনি পাবনার মজুমদার একাডেমী থেকে এন্ট্রান্স (১৯২৩) পাস করে কলকাতার ইন্ডিয়ান আর্ট একাডেমীতে চিত্রবিদ্যায় (১৯২৭) শিক্ষালাভ করেন। - বন্দে আলী মিয়া কবিতা, উপন্যাস, নাটক, জীবনী, শিশুসাহিত্য প্রভৃতি মাধ্যমে গ্রন্থ রচনা করেন। - তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা হলো: কাব্য ময়নামতীর চর (১৯৩০), অনুরাগ (১৯৩২), পদ্মানদীর চর (১৯৫৩), মধুমতীর চর (১৯৫৩), ধরিত্রী (১৯৭৫); উপন্যাস বসন্ত জাগ্রত দ্বারে (১৯৩১), শেষ লগ্ন (১৯৪১), অরণ্য গোধূলি (১৯৪৯), নীড়ভ্রষ্ট (১৯৫৮); গল্পগ্রন্থ তাসের ঘর (১৯৫৪); নাটক মসনদ (১৯৩১); শিশুসাহিত্য চোর জামাই (১৯২৭), মেঘকুমারী (১৯৩২), বাঘের ঘরে ঘোগের বাসা (১৯৩২), সোনার হরিণ (১৯৩৯), শিয়াল পন্ডিতের পাঠশালা (১৯৫৬), কুঁচবরণ কন্যা (১৯৬১), সাত রাজ্যের গল্প (১৯৭৭) এবং জীবনী কামাল আতাতুর্ক (১৯৩৭), শরৎচন্দ্র, ছোটদের নজরুল (১৯৫৮) ইত্যাদি।
আহসান হাবীব 'ছায়াহরিণ' (১৯৬২) কাব্যে বণিক সভ্যতার রুদ্র রুপ দেখিয়েছেন।