শনিবারের চিঠি (১৯২৪) — বিখ্যাত বাংলা সাপ্তাহিক সাহিত্য-সাময়িকী; যোগানন্দ দাস প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক এবং সজনীকান্ত দাস ছিলেন এর প্রাণপুরুষ। ‘কল্লোল’ গোষ্ঠীর সঙ্গে এর তীব্র সাহিত্যিক দ্বন্দ্ব ছিল এবং অধিকাংশ রচনা বেনামে প্রকাশিত হতো। উল্লেখযোগ্য লেখক: অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, মোহিতলাল মজুমদার, সজনীকান্ত দাস, যোগানন্দ দাস, নীরদচন্দ্র চৌধুরী, সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় প্রমুখ।
জীবনানন্দ দাশ (১৮৯৯–১৯৫৪) — বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রধান আধুনিক বাঙালি কবি, লেখক ও প্রাবন্ধিক; ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর প্রথম কবিতা ‘বর্ষ-আবাহন’ (১৯১৯) ‘ব্রহ্মবাদী’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয় এবং প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘ঝরাপালক’ (১৯২৭)। উল্লেখযোগ্য কাব্য: ধূসর পাণ্ডুলিপি, বনলতা সেন, মহাপৃথিবী, সাতটি তারার তিমির, রূপসী বাংলা, বেলা অবেলা কালবেলা। পরিচিতি: ‘রূপসী বাংলার কবি’, ‘নির্জনতার কবি’, ‘শুদ্ধতম কবি’। মৃত্যু: ২২ অক্টোবর ১৯৫৪, কলকাতা।
শেখ ওয়াজেদ আলী (১৮৯০) — প্রাবন্ধিক, গল্পকার ও ভ্রমণকাহিনী রচয়িতা; ৪ সেপ্টেম্বর হুগলির বড় তাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর প্রথম প্রবন্ধ ‘অতীতের বোঝা’ (১৯১৯) ‘সবুজপত্র’-এ প্রকাশিত হয়। ১৯৩২ সালে ‘গুলিস্তাঁ’ বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন। রচনা: জীবনের শিল্প, প্রাচ্য ও প্রতীচ্য, ভবিষ্যতের বাঙালী, আকবরের রাষ্ট্র সাধনা, মুসলিম সংস্কৃতির আদর্শ, পশ্চিম ভারত, মোটর যোগে রাঁচি সফর।
মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক (১৮৬০–১৯৩৩) — কবি ও সাংবাদিক; নদীয়ার শান্তিপুরের বাউইগাছিতে জন্ম। ‘লহরী’ (১৮৯৯), ‘মোসলেম ভারত’ (১৯২০) ও ‘শান্তিপুর মাসিক সাহিত্য’-এর সম্পাদক ও প্রকাশক ছিলেন। মুসলিম সমাজের কুসংস্কার ও পশ্চাৎপদতার বিরুদ্ধে লেখনী ধারণ করেন। উল্লেখযোগ্য রচনা: কুসুমাঞ্জলি, অপূর্বদর্শন, প্রেমহার, হজরত মহাম্মদ, জাতীয় ফোয়ারা, ইসলাম সঙ্গীত, ফেরদৌসী-চরিত, শাহনামা, টিপু সুলতান, জোহরা, দরাফ খান গাজী। উপাধি: ‘কাব্যকণ্ঠ’। মৃত্যু: ৩০ নভেম্বর ১৯৩৩।
মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক (১৮৬০–১৯৩৩) — কবি ও সাংবাদিক; নদীয়ার শান্তিপুরে জন্ম। ‘লহরী’ (১৮৯৯), ‘মোসলেম ভারত’ (১৯২০) ও ‘শান্তিপুর মাসিক সাহিত্য’ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক ছিলেন। বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতির সহসভাপতিও ছিলেন। উল্লেখযোগ্য রচনা: কুসুমাঞ্জলি, অপূর্বদর্শন, প্রেমহার, হজরত মহাম্মদ, ইসলাম সঙ্গীত, ফেরদৌসী-চরিত, শাহনামা, টিপু সুলতান, জোহরা, দরাফ খান গাজী। উপাধি: ‘কাব্যকণ্ঠ’। মৃত্যু: ৩০ নভেম্বর ১৯৩৩।
বিজলী (১৯২০) — সাপ্তাহিক বাংলা চলচ্চিত্রবিষয়ক পত্রিকা; উল্লেখযোগ্য সম্পাদক নলিনীকান্ত সরকার। ৬ জানুয়ারি ১৯২২ ‘বিজলী’-তে কাজী নজরুল ইসলামের ‘বিদ্রোহী’ কবিতা প্রকাশিত হয়। প্রথম প্রকাশ নিয়ে ‘মোসলেম ভারত’ ও ‘বিজলী’-কে ঘিরে মতভেদ রয়েছে; পরে ‘ধূমকেতু’-তেও কবিতাটি প্রকাশিত হয়।
সমকাল (১৯৫৭) — সম্পাদক সিকান্দার আবু জাফর। বেগম (১৯৪৭) — সম্পাদক নূরজাহান বেগম। শিখা, ক্রান্তি, প্রগতি, লোকায়ত — ঢাকা থেকে প্রকাশিত। ধূমকেতু, লাঙল, নবযুগ — কাজী নজরুল ইসলামের সম্পাদিত পত্রিকা। সওগাত — সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন। বঙ্গদর্শন (১৮৭২) — সম্পাদক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। তত্ত্ববোধিনী (১৮৪৩) — সম্পাদক অক্ষয়কুমার দত্ত।
কাজী ইমদাদুল হক (১৮৮২–১৯২৬) — ৪ নভেম্বর খুলনার গদাইপুরে জন্মগ্রহণ করেন; বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য সমিতির স্থপতি। ১৯২০ সালের মে মাসে তাঁর সম্পাদনায় শিক্ষাবিষয়ক মাসিক ‘শিক্ষক’ প্রকাশিত হয়। উপাধি: খান সাহেব (১৯১৯), খান বাহাদুর (১৯২৬)। গ্রন্থ: আঁখিজল, নবীকাহিনী, কামারের কাণ্ড, আলহামরা।
বিজলী (১৯২০) — সাপ্তাহিক বাংলা চলচ্চিত্রবিষয়ক পত্রিকা; উল্লেখযোগ্য সম্পাদক নলিনীকান্ত সরকার। ৬ জানুয়ারি ১৯২২ ‘বিজলী’-তে কাজী নজরুল ইসলামের ‘বিদ্রোহী’ কবিতা প্রকাশিত হয়; সেদিন পত্রিকাটি দুইবার মুদ্রিত হয়। ‘বিদ্রোহী’র প্রথম প্রকাশ নিয়ে ‘মোসলেম ভারত’ ও ‘বিজলী’-কে ঘিরে মতভেদ রয়েছে।
শ্রীরামপুর মিশন প্রেস (১৮০০) — উইলিয়াম কেরি, জোশুয়া মার্শম্যানের সহযোগিতায় মুদ্রণযন্ত্র স্থাপন করেন। বার্তাবহ যন্ত্র (১৮৪৭–৪৮) — রংপুরে বাংলাদেশের প্রথম ছাপাখানা প্রতিষ্ঠিত হয়। ঢাকা প্রেস — আলেকজান্ডার ফারবেখ ঢাকায় প্রথম ছাপাখানা স্থাপন করেন; এখান থেকে ‘ঢাকা নিউজ’ প্রকাশিত হতো।
শহীদুল্লা কায়সার — সাংবাদিক, লেখক ও বুদ্ধিজীবী; প্রকৃত নাম আবু নঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লা। ১৯৪৯ সালে ‘ইত্তেফাক’-এ সাংবাদিকতা শুরু এবং ১৯৫৮ সালে ‘সংবাদ’-এর সহযোগী সম্পাদক হন। উল্লেখযোগ্য রচনা: উপন্যাস— সারেং বউ (১৯৬২), সংশপ্তক (১৯৬৫); স্মৃতিকথা— রাজবন্দীর রোজনামচা; ভ্রমণবৃত্তান্ত— পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ।
দিকদর্শন (১৮১৮) — বাংলা ভাষার প্রথম সাময়িকপত্র; সম্পাদক জন ক্লার্ক মার্শম্যান। মোট ২৬টি সংখ্যা প্রকাশিত হয়ে ১৮২১ সালের পর বন্ধ হয়। সমাচার দর্পণ — ২৩ মে ১৮১৮ সালে জন ক্লার্ক মার্শম্যানের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।
সংবাদ প্রভাকর (১৮৩১) — ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত প্রতিষ্ঠিত বাংলা সংবাদপত্র। ১৮৩১ সালে সাপ্তাহিক হিসেবে শুরু হয়ে ১৮৩৯ সালে দৈনিক রূপ লাভ করে; এটিই বাংলা ভাষার প্রথম দৈনিক সংবাদপত্র।
হাসান হাফিজুর রহমান — ১৯৫২ সালে ‘বেগম’ পত্রিকায় কর্মজীবন শুরু করেন। পরে ‘সওগাত’, ‘ইত্তেহাদ’ ও ‘দৈনিক পাকিস্তান’-এ সহকারী সম্পাদক এবং স্বাধীনতার পর ‘দৈনিক বাংলা’র সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি ছিলেন। ‘একুশে ফেব্রুয়ারি’ (১৯৫৩) তাঁর প্রথম গ্রন্থ; ভাষা আন্দোলনভিত্তিক গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্য সংকলন। ১৯৭৩ সালে মস্কোস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে প্রেস কাউন্সিলর ছিলেন।
সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় — বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সহোদর ও ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট। তিনি ‘ভ্রমর’ সাপ্তাহিক পত্রিকা সম্পাদনা করেন এবং পরে ‘বঙ্গদর্শন’-এর সম্পাদক হিসেবে যুক্ত হন। উল্লেখযোগ্য রচনা: Bengal Ryots: Their Rights and Liabilities (১৮৬৪), পালামৌ; গল্প— রামেশ্বরের অদৃষ্ট, দামিনী; উপন্যাস— কণ্ঠমালা, জালপ্রতাপ চাঁদ, মাধবীলতা।
আবুল মনসুর আহমদ (১৮৯৮–১৯৭৯) — ময়মনসিংহের ধানিখোলা গ্রামে জন্ম। তিনি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর দৈনিক ‘ইত্তেহাদ’-এর সম্পাদক ছিলেন এবং ‘সোলতান’, ‘মোহাম্মদী’, ‘কৃষক’, ‘নবযুগ’সহ বিভিন্ন পত্রিকায় কাজ করেন। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছিলেন; ২১ দফা কর্মসূচির মুখ্য রচয়িতা। উপন্যাস: হুযুর কেবলা, সত্যমিথ্যা, জীবনক্ষুধা, আসমানী পর্দা, বাংলাদেশের কালচার, আবে হায়াত।
দিকদর্শন (১৮১৮) — বাংলা ভাষার প্রথম সাময়িকপত্র; সম্পাদক জন ক্লার্ক মার্শম্যান। মোট২৬টি সংখ্যা প্রকাশিত হয়ে ১৮২১ সালের পর বন্ধ হয়। সমাচার দর্পণ (২৩ মে ১৮১৮) — জন ক্লার্ক মার্শম্যানের সম্পাদনায় প্রকাশিত। তত্ত্ববোধিনী (১৮৪৩) — সম্পাদক অক্ষয়কুমার দত্ত। সংবাদ প্রভাকর (১৮৩১) — সম্পাদক ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত। বঙ্গদর্শন (১৮৭২) — সম্পাদক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
কাজী নজরুল ইসলাম — ‘ধূমকেতু’ (১৯২২) পত্রিকা প্রকাশ করেন; এটি সপ্তাহে দুবার প্রকাশিত হতো। তাঁর সম্পাদিত পত্রিকা: ধূমকেতু (১৯২২), নবযুগ (১৯২০), লাঙল (১৯২৫)।
কল্লোল (১৯২৩–১৯৩০) — কলকাতা থেকে প্রকাশিত মাসিক সাহিত্যপত্র; প্রথম সম্পাদক দীনেশরঞ্জন দাস। এতে অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত, শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়, বুদ্ধদেব বসু, প্রেমেন্দ্র মিত্র ও মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় নিয়মিত লিখতেন।
শেখ ওয়াজেদ আলী (১৮৯০–১৯৫১) — প্রাবন্ধিক, গল্পলেখক ও ভ্রমণকাহিনীকার। তাঁর প্রথম প্রবন্ধ ‘অতীতের বোঝা’ (১৯১৯) ‘সবুজপত্র’-এ প্রকাশিত হয়। ১৯৩২ সালে তিনি ‘গুলিস্তাঁ’ নামে বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন। উল্লেখযোগ্য রচনা: জীবনের শিল্প, প্রাচ্য ও প্রতীচ্য, ভবিষ্যতের বাঙালী, আকবরের রাষ্ট্র সাধনা, মুসলিম সংস্কৃতির আদর্শ, পশ্চিম ভারত, মোটর যোগে রাঁচি সফর।
প্যাকেজ প্রয়োজন
প্রিমিয়াম প্যাকেজ প্রয়োজন
সকল বিষয়ের প্রশ্ন সার্চ, অধ্যায়ভিত্তিক ফিল্টার এবং পরবর্তী পৃষ্ঠাসমূহের প্রশ্ন আনলক করতে একটি প্যাকেজ সাবস্ক্রাইব করুন।
৮০,০০০+ বিগত সালের ও অধ্যায়ভিত্তিক প্রশ্নের সমাধান
স্মার্ট বিষয়, অধ্যায় ও ট্যাগ ভিত্তিক দ্রুত ফিল্টারিং