'লক্ষ্মীর বরযাত্রী' বাগধারাটির অর্থ হলো সুসময়ের বন্ধু বা যারা কেবল ধন-সম্পদ ও সুখের দিনেই পাশে থাকে। হিন্দু ধর্মে 'লক্ষ্মী' হলেন ধন-সম্পদের দেবী, তাই তাঁর বরযাত্রী বলতে রূপকার্থে কেবল সম্পদের লোভে আসা সঙ্গীদের বোঝায়।
'লঙ্কা পায়রা' বাগধারাটির অর্থ হলো ফুলবাবু বা কুচক্রী। যে ব্যক্তি সর্বদা বাবুগিরি করে বা পরিপাটি হয়ে থাকে, তাকে ব্যঙ্গ করে লঙ্কা পায়রা বলা হয়। ক্ষেত্রবিশেষে এটি চক্রান্তকারী বা কপট ব্যক্তি অর্থেও ব্যবহৃত হয়।
'রাঘব বোয়াল' বাগধারাটির প্রকৃত অর্থ হলো সর্বগ্রাসী ক্ষমতাবান ব্যক্তি বা দুর্নীতিপরায়ণ বড় কর্তা। যেহেতু প্রদত্ত অপশনগুলোর মধ্যে সঠিক অর্থটি নেই, তাই উত্তর হবে 'কোনোটিই নয়'।
'রাজা উজির মারা' বাগধারাটির অর্থ হলো লম্বা চওড়া কথা বলা, অহংকার করে কথা বলা বা অতিরঞ্জিত করে নিজের বড়াই করা। বাস্তবে ক্ষমতা না থাকলেও কথায় বড় বড় মানুষের (রাজা-উজিরের) প্রসঙ্গ টেনে নিজের গুরুত্ব প্রমাণের বা বাগাড়ম্বর করার চেষ্টাকে এটি দিয়ে বোঝানো হয়।
'রুই কাতলা' বাগধারাটির অর্থ হলো ক্ষমতাশীল ব্যক্তি, নেতাস্থানীয় ব্যক্তি বা পদস্থ ব্যক্তি। সমাজে যাদের অনেক প্রতিপত্তি ও প্রভাব রয়েছে, তাদেরকে বড় মাছের (রুই-কাতলা) সাথে তুলনা করে এই বাগধারাটি ব্যবহৃত হয়।
'যমের ভুল' বাগধারাটির অর্থ হলো যার মরণ হয় না বা যে সহজে মরে না। হিন্দু পুরাণ অনুযায়ী যম হলেন মৃত্যুর দেবতা। যম যাকে নিতে ভুলে যান অর্থাৎ যার দীর্ঘায়ু বা মৃত্যু সহজে হয় না, তাকেই 'যমের ভুল' বলা হয়।
'মুখে ছাই দেওয়া' একটি সুপরিচিত বাংলা বাগধারা। এর প্রকৃত অর্থ হলো ফাঁকি দেওয়া বা নিরাশ করা। যখন কেউ কোনো প্রতিশ্রুতি দিয়ে বা আশা দেখিয়ে শেষ পর্যন্ত তা পূরণ করে না, তখন এই বাগধারাটি ব্যবহৃত হয়। উদাহরণ: ছেলেটি শেষমেশ পরিবারের মুখে ছাই দিয়ে বিদেশে পাড়ি জমাল
- 'মেয়ে আমার মা বরকত' বাগধারাটির সঠিক অর্থ হলো 'সৌভাগ্যবতী'। যে নারী বা কন্যা পরিবারে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি বা বরকত বয়ে আনে, তাকে আদর করে বা সম্মানার্থে এই অভিধায় ডাকা হয়। • উদাহরণ: সংসারে আসার পর থেকেই আমাদের উন্নতি হচ্ছে, সত্যিই মেয়ে আমার মা বরকত।
- 'ম ম করা' বাগধারাটির সঠিক অর্থ হলো 'সুগন্ধে ভরে যাওয়া' বা তীব্র সুবাস ছড়ানো। এটি বাংলা ব্যাকরণের একটি ধ্বন্যাত্মক শব্দবন্ধ যা সুগন্ধের আধিক্য বা ব্যাপ্তি বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। • উদাহরণ: বাগানে বেলী ফুলের গন্ধে চারপাশ ম ম করছে।
- 'ভরাডুবির মুষ্টি লাভ' বাগধারার অর্থ কোনোক্রমে প্রাণরক্ষা বা চরম বিপদের মধ্যে সামান্য কিছু ফিরে পাওয়া/রক্ষা পাওয়া। - যখন সবকিছু নষ্ট হওয়ার পথে, তখন যেটুকু অবশিষ্ট থাকে তাকেই ভরাডুবির মুষ্টি লাভ বলা হয়।
- 'ভাঁড়ে ভবানী' বাগধারাটির সঠিক অর্থ হলো 'নিঃস্ব অবস্থা' বা অর্থকড়ি শূন্য অবস্থা। - ভাঁড় বলতে পাত্র এবং ভবানী বলতে দেবী দুর্গাকে বোঝালেও, একত্রে বাগধারা হিসেবে এটি শূন্য ভাঁড়ার বা রিক্ততা তুলে ধরে। • উদাহরণ: মাসের শেষ দিকে চাকরিজীবীদের পকেট একদম ভাঁড়ে ভবানী হয়ে যায়।