'হাল বায় না তেড়ে গুঁতোয়' বাগধারাটির সঠিক অর্থ হলো কুকাজে পটুত্ব বা খারাপ কাজে পারদর্শী হওয়া। অর্থাৎ, যে ব্যক্তি আসল বা কাজের কাজ না করে অকাজে বা ক্ষতিকর কাজে বেশি উৎসাহ দেখায়, তাকে বোঝাতে এই বাগধারাটি ব্যবহৃত হয়।
'হাত টান' একটি সুপরিচিত বাংলা বাগধারা। এর সঠিক অর্থ হলো চুরির অভ্যাস বা অন্যের জিনিস না বলে নিয়ে নেওয়ার বদভ্যাস। শব্দার্থ ও ব্যবহার: এখানে 'হাত' শব্দটি কাজ বা কর্মের প্রতীক এবং 'টান' বলতে নিজের দিকে টেনে নেওয়া বা চুরি করাকে বোঝানো হয়েছে। যার একটু সুযোগ পেলেই অন্যের জিনিস সরিয়ে ফেলার প্রবণতা আছে, তার ক্ষেত্রে বলা হয় 'লোকটার হাত টান আছে'।
'হাত জোড়া থাকা' বাগধারাটির সঠিক অর্থ হলো কর্মব্যস্ত থাকা বা কাজের মধ্যে সম্পূর্ণ যুক্ত থাকা। শব্দার্থ ও ব্যবহার: যখন কোনো ব্যক্তির হাতে এত বেশি কাজ থাকে যে নতুন কোনো কাজ করার বা অন্য দিকে মনোযোগ দেওয়ার মতো সময় থাকে না, তখন এই বাগধারাটি ব্যবহৃত হয়। এখানে 'জোড়া' বলতে হাতের ব্যস্ততা বা কাজে আটকে থাকাকে বোঝানো হয়েছে। যেমন: 'এখন আমাকে ডাকবে না, আমার হাত জোড়া।'
'হাত জুড়ানো' বাগধারাটির সঠিক অর্থ হলো স্বস্তি লাভ করা বা মানসিক শান্তি পাওয়া। শব্দের অর্থ ও ব্যবহার: কোনো কঠিন কাজ বা বড় দায়িত্ব সফলভাবে শেষ করার পর যে প্রশান্তি আসে, তাকেই হাত জুড়ানো বলা হয়।
‘হাতির পাঁচ পা দেখা’ বাগধারাটির সঠিক অর্থ হলো অহংকার বোধ করা বা অতিরিক্ত উদ্ধত হওয়া। শব্দের অর্থ ও ব্যবহার: স্বাভাবিকভাবে হাতির পা থাকে চারটি। কিন্তু কেউ অহংকারে অন্ধ হয়ে গেলে সে অবাস্তব বা অসম্ভব কিছু কল্পনা করে নিজেকে অতি ক্ষমতাবান ভাবতে শুরু করে। তখন তাকে হাতির পাঁচ পা দেখার সাথে তুলনা করা হয়।
- 'শাখের করাত' বাগধারাটির অর্থ হল "উভয় ঘটনা"। অন্য দিকে , দুই দিকেই এই বাগধারাটির দুই দিকে ধরের সাথে তুলনা করা হয়েছে। দুই পাশের ধারক করা যেমন আসতে পারে কাতে, দুই দুই পক্ষ বলতে দুই দিকেই বিপদের অবস্থাকে। উদাহরণ: - যুদ্ধের সময় দেশ দুটি দেখা - আমি দুশ্চিন্তায় আছি, কারণ আমার দুই বন্ধু রয়েছে। • বিকল্প সঠিক নয়।
‘শাক দিয়ে মাছ ঢাকা’ বাগধারাটির সঠিক অর্থ হলো নিন্দনীয় কাজ গোপনের ব্যর্থ চেষ্টা। শব্দের অর্থ ও ব্যবহার: সামান্য শাক দিয়ে যেমন আষ্টে গন্ধযুক্ত বড় মাছ ঢেকে রাখা যায় না, তেমনি বড় কোনো অপরাধ বা নিন্দনীয় কাজ শত চেষ্টা করেও গোপন রাখা সম্ভব হয় না। এটি একটি প্রবাদপ্রতিম বাগধারা।
'সাপের পাঁচ পা দেখা' বাগধারাটির অর্থ অহংকারে অসম্ভবকে সম্ভব মনে করা। এরূপ আরও কিছু বাগধারা- - ‘ঢাকঢোল পেটানো’ বাগধারাটির অর্থ - প্রচারণা। - ‘ঢুঁ মারা’ বাগধারাটির অর্থ - অনুসন্ধান/চেষ্টা। - 'জগাখিচুড়ি' বাগ্ ধারার অর্থ - বিশৃঙ্খল। - 'সপ্তপদ' বাগ্ ধারার অর্থ - সাতটি পা বিশিষ্ট।
'লক্ষ্মীর বরযাত্রী' বাগধারাটির অর্থ হলো সুসময়ের বন্ধু বা যারা কেবল ধন-সম্পদ ও সুখের দিনেই পাশে থাকে। হিন্দু ধর্মে 'লক্ষ্মী' হলেন ধন-সম্পদের দেবী, তাই তাঁর বরযাত্রী বলতে রূপকার্থে কেবল সম্পদের লোভে আসা সঙ্গীদের বোঝায়।
'লঙ্কা পায়রা' বাগধারাটির অর্থ হলো ফুলবাবু বা কুচক্রী। যে ব্যক্তি সর্বদা বাবুগিরি করে বা পরিপাটি হয়ে থাকে, তাকে ব্যঙ্গ করে লঙ্কা পায়রা বলা হয়। ক্ষেত্রবিশেষে এটি চক্রান্তকারী বা কপট ব্যক্তি অর্থেও ব্যবহৃত হয়।
'রাঘব বোয়াল' বাগধারাটির প্রকৃত অর্থ হলো সর্বগ্রাসী ক্ষমতাবান ব্যক্তি বা দুর্নীতিপরায়ণ বড় কর্তা। যেহেতু প্রদত্ত অপশনগুলোর মধ্যে সঠিক অর্থটি নেই, তাই উত্তর হবে 'কোনোটিই নয়'।