'দিবাস্বপ্ন' বাগধারাটির সঠিক অর্থ হলো অলীক কল্পনা বা ভিত্তিহীন স্বপ্ন। প্রশ্নের সাথে সম্পর্কিত তথ্যগুলো - 'দিবাস্বপ্ন' বলতে এমন বিষয়কে বোঝায় যার বাস্তবে কোনো রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা নেই বা যা অবাস্তব। - আক্ষরিক অর্থে দিনের বেলায় দেখা স্বপ্ন বাস্তব হয় না বলে এই ধারণা থেকে বাগধারাটির সৃষ্টি হয়েছে। - বাংলা একাডেমি অভিধান অনুযায়ী এর রূপকার্থ হলো অবাস্তব বা অলীক কল্পনা। • উদাহরণ: বিনা পরিশ্রমে রাতারাতি বড়লোক হওয়ার চিন্তা করা দিবাস্বপ্ন ছাড়া আর কিছুই নয়।
- 'দূর্বা গজানো' বাগধারাটির অর্থ হলো উৎখাত বা সমূলে ধ্বংস হয়ে যাওয়া। - যখন কোনো বসতবাড়ি বা স্থান দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত থাকে এবং সেখানে ঘাস বা দূর্বা জন্মায়, তখন সেটিকে ধ্বংস বা উৎখাত হওয়া অর্থে ব্যবহৃত হয়। • উদাহরণ: - শত্রুরা এমনভাবে আক্রমণ করল যে তাদের ভিটায় দূর্বা গজিয়েছে।
- 'দক্ষিণে হাওয়া দেওয়া' বাগধারাটির আলংকারিক অর্থ হলো মনে আনন্দের হিল্লোল জাগা বা আনন্দঘন পরিবেশ সৃষ্টি হওয়া। - বসন্তের শুরুতে দক্ষিণ দিক থেকে বয়ে আসা আরামদায়ক বাতাস যেমন প্রকৃতিতে সজীবতা আনে, তেমনি মানুষের মনে প্রশান্তি বা আনন্দের সঞ্চার করাকে এই বাগধারা দিয়ে বোঝানো হয়। - বাগধারা ভাষার একটি বিশেষ অঙ্গ যা শাব্দিক অর্থের বাইরে একটি বিশেষ অর্থ প্রকাশ করে। • উদাহরণ: - দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সুখবরটি শুনে তার মনে যেন দক্ষিণে হাওয়া দিয়ে গেল।
- 'দেঁতো হাসি' বাগধারাটির অর্থ হলো কৃত্রিম হাসি বা কপট হাসি। - মনে আনন্দ না থাকা সত্ত্বেও লোক দেখানোভাবে দাঁত বের করে জোর করে হাসার ভান করা বোঝাতে এই বাগধারাটি ব্যবহৃত হয়, যা অনেকটা 'কাষ্ঠ হাসি'-এর সমার্থক। • উদাহরণ: - ভেতরে এত রাগ, তার মুখে আবার দেঁতো হাসি!
- 'দোহাই মানা' বাগধারাটির অর্থ হলো নজির দেখানো বা প্রমাণ হিসেবে কারো নাম বা কোনো দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করা। - কোনো বিষয়ে নিজের অবস্থান শক্ত করতে বা পরিস্থিতি নিজের অনুকূলে আনতে যখন অন্য কোনো ঘটনার বা ব্যক্তির দোহাই বা নজির দেওয়া হয়, তখন তা বোঝাতে এটি ব্যবহৃত হয়। • উদাহরণ: - বারবার আইনের দোহাই মেনে সে নিজের অপরাধ ঢাকতে চাইছে।
- 'দাঁতে আঙুল কাটা' বাগধারাটির অর্থ হলো লজ্জা পাওয়া বা অপ্রস্তুত হওয়া। - নিজের কোনো ভুল বা বোকামি বুঝতে পেরে লজ্জাবোধ করার মানসিক অবস্থাকে প্রকাশ করতে গ্রামীণ বা সামাজিক প্রেক্ষাপটে এই বাগধারাটি ব্যবহৃত হয়। • উদাহরণ: - নিজের ভুল বুঝতে পেরে সে লজ্জায় দাঁতে আঙুল কাটল।
- 'তয়নাত করা' বাগধারাটির অর্থ হলো 'স্থির করা' বা নিযুক্ত করা। ফারসি শব্দ 'তৈনাত' থেকে এর উৎপত্তি, যার অর্থ কোনো কাজে বা স্থানে কাউকে নিযুক্ত করা বা বহাল করা। • উদাহরণ: পাহারাদার হিসেবে তাকে সদর দরজায় তয়নাত করা হয়েছে।
বাগধারা বাংলা ব্যাকরণের অর্থতত্ত্ব অংশে আলোচনা করা হয়। কিছু গুরুত্তপুর্ণ বাগধারাঃ - 'বিড়াল তপস্বী', 'বক ধার্মিক' বাগধারার অর্থ ভণ্ড সাধু, - 'তুলসী বনের বাঘ' বাগধারার অর্থ ভণ্ড। - ভূষন্ডির কাক বাগধারার অর্থ দীর্ঘকালের অভিজ্ঞ ব্যক্তি - 'মুণ্ডুপাত করা' বাগধারার অর্থ গালমন্দ করা, - 'ভক্তবিটেল' বাগধারার অর্থ ভণ্ড। - অদৃষ্টের পরিহাস বাগধারার অর্থ ভাগ্যের নিষ্ঠুরতা। - ছা-পােষা বাগধারার অর্থ পোষ্য- ভারাক্রান্ত - উড়নচণ্ডী বাগধারার অর্থ অমিতব্যয়ী - 'ভুসিমাল' বাগধারার অর্থ বাজে জিনিস, - 'তালপাতার সেপাই' বাগধারার অর্থ অতিশয় দুর্বল।
- 'তাল কানা' বাগধারাটির সঠিক অর্থ হলো 'বেতাল হওয়া' বা কাণ্ডজ্ঞানহীন হওয়া। যে ব্যক্তি স্থান, কাল বা পরিস্থিতি বুঝতে পারে না বা কাজের ধারাবাহিকতা হারিয়ে ফেলে, তাকে তাল কানা বলা হয়। • উদাহরণ: লোকটা এমন তাল কানা, শোকের বাড়িতে গিয়ে হাসাহাসি করছে।
- 'তাল ঠোকা' বাগধারাটির সঠিক অর্থ হলো 'সগর্ব উক্তি', আস্ফালন করা বা লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত হওয়া। কুস্তিগিররা লড়াইয়ের আগে নিজের বাহুতে বা ঊরুতে চাপড় মেরে যে আস্ফালন করে, সেখান থেকে এই বাগধারার উৎপত্তি। • উদাহরণ: প্রতিপক্ষের সামনে শুধু তাল ঠুকলে হবে না, ময়দানে কাজেও প্রমাণ করতে হবে।
- 'টানাপোড়েন' শব্দটির আক্ষরিক অর্থ হলো তাঁত বোনার সময় লম্বালম্বি ও আড়াআড়ি সুতোর বুনন (warp and weft)। - বাগধারা হিসেবে এর অর্থ হলো আর্থিক অভাব-অনটন, মানসিক অন্তর্দ্বন্দ্ব বা টানাটানি। তবে আক্ষরিক উৎস হিসেবে এখানে 'তাঁত'-কে সঠিক উত্তর হিসেবে ধরা হয়েছে। • উদাহরণ: সংসারের অভাবের টানাপোড়েনে তার পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার উপক্রম।
- 'ঝড়ো কাক' বাগধারাটির অর্থ হলো দুর্দশাগ্রস্ত ব্যক্তি। ঝড়-বৃষ্টিতে ভিজে কাকের যেমন বিপর্যস্ত ও করুণ দশা হয়, তেমনি কোনো মানুষের চরম দুর্দশাগ্রস্ত অবস্থাকে বোঝাতে এই বাগধারা ব্যবহৃত হয়।
- 'জাতে মাতাল তালে ঠিক' বাগধারাটির অর্থ হলো স্বার্থ সচেতনতা। - যে ব্যক্তি বাহিরে ভারসাম্যহীন, বোকা বা পাগলের মতো আচরণ করলেও নিজের স্বার্থ বা হিসেবের বিষয়ে সম্পূর্ণ সজাগ থাকে, তাকে বোঝাতে এই বাগধারা ব্যবহৃত হয়।
- জড়-ভারত বাগধারাটির অর্থ হলো অকর্মণ্য ব্যক্তি বা স্থবির লোক, যার কোনো কাজের ক্ষমতা বা ইচ্ছা নেই। - অনুরূপ অর্থবোধক আরও একটি বাগধারা হলো ধর্মের ষাঁড়, যার অর্থও অকর্মণ্য।
প্যাকেজ প্রয়োজন
প্রিমিয়াম প্যাকেজ প্রয়োজন
সকল বিষয়ের প্রশ্ন সার্চ, অধ্যায়ভিত্তিক ফিল্টার এবং পরবর্তী পৃষ্ঠাসমূহের প্রশ্ন আনলক করতে একটি প্যাকেজ সাবস্ক্রাইব করুন।
৮০,০০০+ বিগত সালের ও অধ্যায়ভিত্তিক প্রশ্নের সমাধান
স্মার্ট বিষয়, অধ্যায় ও ট্যাগ ভিত্তিক দ্রুত ফিল্টারিং