- বাগধারায় শব্দগুলো তাদের আক্ষরিক অর্থের বাইরে গিয়ে প্রতীকী বা বিশেষ অর্থ প্রকাশ করে থাকে। - 'শিকায় তোলা' বাগধারাটির আক্ষরিক অর্থ কোনো কিছু শিকাতে তুলে রাখা হলেও, এর প্রকৃত ও আলংকারিক অর্থ হলো কোনো কাজ মুলতবি রাখা বা স্থগিত করে রাখা।
• উদাহরণ: ছুটির কারণে অফিসের সব কাজ এখন শিকায় তোলা আছে।
• ভুল অপশনগুলোর ব্যাখ্যা: - সর্বনাশ করা: এর অর্থ সবকিছু ধ্বংস করা বা ক্ষতিসাধন করা (যেমন: ভরাডুবি)। - বিগড়ে দেওয়া: এর অর্থ নষ্ট করা বা স্বভাব খারাপ করা। - গোপন করা: এর অর্থ লুকিয়ে রাখা বা চেপে যাওয়া (যেমন: ধামাচাপা দেওয়া)।
- 'জলপানি' শব্দটির আক্ষরিক অর্থ খাবার জল ও নাস্তা হলেও, বাগধারা হিসেবে এটি ছাত্রবৃত্তি বা মেধাবী ছাত্রদের দেওয়া মাসিক আর্থিক সাহায্য অর্থে ব্যবহৃত হয়। - আগের দিনে ভালো ফল করা শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে যে বৃত্তি দেওয়া হতো, তাকেই জলপানি বলা হতো।
• উদাহরণ: সেবার পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করে ছেলেটি সরকারি জলপানি পেয়েছিল।
• ভুল অপশনগুলোর ব্যাখ্যা: - জলযোগ: এর অর্থ হালকা খাবার বা নাস্তা গ্রহণ করা। - দানাপানি: এর অর্থ আহার বা অন্নজল। - অনুদান: এর অর্থ সাহায্য বা চাঁদা।
- 'কথার তুবড়ি' বাগধারাটির অর্থ হলো অনর্গল কথা বলা বা অবিরাম কথা বলে যাওয়া। - তুবড়ি বাজি যেমন একটানা ফুলকি ছড়াতে থাকে, তেমনি যে ব্যক্তি বিরতিহীনভাবে বকবক করে তাকে 'কথার তুবড়ি' বলা হয়।
• উদাহরণ: মেয়েটি একবার কথা শুরু করলে যেন কথার তুবড়ি ছোটায়, তাকে থামানোই মুশকিল।
• ভুল অপশনগুলোর ব্যাখ্যা: - অকাট্য যুক্তি: এর অর্থ যে যুক্তি খণ্ডন করা বা কাটানো যায় না। - মিথ্যা কথা: এর অর্থ অসত্য বা বানানো কথা। - অন্তরে জটিলতা: এর অর্থ মনে প্যাঁচ বা কুটিলতা (যেমন: জিলাপির প্যাঁচ)।
- 'গৌরচন্দ্রিকা' বাগধারাটির অর্থ হলো ভূমিকা বা উপক্রমণিকা। - বৈষ্ণব পদাবলিতে শ্রীকৃষ্ণলীলা গাওয়ার আগে শ্রীচৈতন্যদেবের (গৌরাঙ্গের) বন্দনাগান করার রীতি ছিল, যাকে গৌরচন্দ্রিকা বলা হতো। কালক্রমে যেকোনো কাজের বা কথার শুরুতে দীর্ঘ ভূমিকা বোঝাতে এই বাগধারাটির প্রয়োগ শুরু হয়।
• উদাহরণ: আসল কথা বল, খামোখা এতো গৌরচন্দ্রিকা করছ কেন?
• ভুল অপশনগুলোর ব্যাখ্যা: - বেহিসাবি: এর অর্থ যে হিসাব করে চলে না বা অমিতব্যয়ী (যেমন: ভূতের বাপের শ্রাদ্ধ)। - অলস: এর অর্থ কর্মবিমুখ বা কুঁড়ে (যেমন: গোঁফ-খেজুরে)। - অপদার্থ: এর অর্থ অযোগ্য বা অকেজো (যেমন: আমড়া কাঠের ঢেঁকি)।
'নিরানব্বইয়ের ধাক্কা' বাগধারাটির অর্থ হলো সঞ্চয়ের প্রবৃত্তি বা টাকা জমানোর প্রবল ঝোঁক। একশ টাকা পূর্ণ করতে গিয়ে যখন নিরানব্বই টাকায় পৌঁছায়, তখন মানুষের মধ্যে আরও সঞ্চয় করার যে প্রবল আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়, তাকেই রূপকার্থে এটি বোঝানো হয়।
• উদাহরণ: তার এখন নিরানব্বইয়ের ধাক্কা, তাই খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে কেবল টাকা জমাচ্ছে।
• ভুল অপশনগুলোর ব্যাখ্যা: - শেষ অবস্থা: বাগধারা হিসেবে 'মুমূর্ষু অবস্থা' বা 'যখন-তখন অবস্থা' বোঝায়। - শেষ থেকে সামান্য দূরে: এটি আক্ষরিক অর্থ, কিন্তু বাগধারার প্রকৃত অর্থ নয়। - দুর্বলতা: শারীরিক বা মানসিক অক্ষমতা বোঝায়।
'রাশভারী' বাগধারাটির অর্থ হলো গম্ভীর প্রকৃতির বা গম্ভীর মেজাজের মানুষ। যে ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব অনেক দৃঢ় এবং যিনি সহজে উচ্ছ্বাস বা চপলতা প্রকাশ করেন না, তাঁকে রাশভারী বলা হয়। শব্দতাত্ত্বিক অর্থে 'রাশ' (ঘোড়ার লাগাম বা নিয়ন্ত্রণ) এবং 'ভারী' (ওজনদার) মিলে এমন এক ব্যক্তিত্বকে বোঝায় যাকে সহজে টলানো বা প্রভাবিত করা যায় না।
• উদাহরণ: আমাদের নতুন প্রধান শিক্ষক বেশ রাশভারী মানুষ, সবাই তাঁকে সমীহ করে চলে।
• একই শব্দকে বিভিন্ন বাক্যে বিভিন্ন অর্থে ব্যবহার করা যায়। • উপরিউক্ত বাক্যে ‘মাথা’ শব্দটি ‘ফাঁকি দেয়া’ অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে। • ‘মাথা’ শব্দটির আরো কিছু ব্যবহার হলো- অঙ্গবিশেষ-তার মাথার চুল কাল। • জ্ঞান- ছাত্রটির অংকে ভালো মাথা আছে। • মনের অবস্থা- রাগের মাথায় কোনো কাজ করা ঠিক নয়। • দিব্যি দেয়া- মাথা খাও, চিঠি দিতে ভুল করো না। • আস্কারা পাওয়া- ছেলেটি আদর পেয়ে একেবারে মাথায় উঠেছে।
- 'দস্ত-ব-দস্ত' একটি ফারসি ভাষার শব্দগুচ্ছ, যা বাংলা ভাষায় প্রবেশ করেছে। - এর আক্ষরিক বা প্রচলিত অর্থ হলো 'হাতে-হাতে' বা তাৎক্ষণিকভাবে (Cash or hand-to-hand)।
• ভুল অপশনগুলোর ব্যাখ্যাঃ - বন্ধু বনাম বন্ধু: ফারসি 'দোস্ত' মানে বন্ধু, তবে 'দস্ত' মানে হাত। তাই এটি ভুল। - খেতে খেতে, আস্তে আস্তে: এগুলো সম্পূর্ণ অর্থহীন ও অপ্রাসঙ্গিক অপশন।
- 'কেঁচে গণ্ডুষ' বাগধারাটির অর্থ প্রথম থেকে বা পুনরায় শুরু করা। - গণ্ডুষ অর্থ চূলক বা এক কোষ জল। হিন্দু রীতি অনুযায়ী পূজার শুরুতে জল নিয়ে গণ্ডুষ করতে হয়। পূজায় ভুল হলে আগের সবকিছু বাতিল (কেঁচে) করে আবার নতুন করে গণ্ডুষ করতে হয়। সেখান থেকেই পুনরায় শুরু করার অর্থটি এসেছে।
• ভুল অপশনগুলোর ব্যাখ্যাঃ - অভিষেক: মস্তকে জল সিঞ্চন বা পদে আসীন হওয়া। - সমাপ্তি: কোনো কাজের শেষ। - ভূমিকা করা: কোনো কিছুর প্রারম্ভিক কথা বলা।
- 'পোয়া বারো' বাগধারাটির অর্থ অতিরিক্ত সৌভাগ্য, সুসময় বা লাভবান অবস্থা। - পাশা খেলায় সবচেয়ে বড় বা ফলপ্রসূ দানের নাম 'পোয়া বারো'। সেখান থেকে বাগধারাটি বাংলায় সুসময় অর্থে ব্যবহৃত হয়। - সমার্থক বাগধারা: একাদশে বৃহস্পতি, কপাল ফেরা।
• ভুল অপশনগুলোর ব্যাখ্যাঃ - দুর্ভাগ্য: এর বিপরীত অর্থ (যেমন: আট কপালে, কাজী ভক্ষণ)। - প্রশংসা ও নিন্দা: এগুলো সৌভাগ্যের সাথে সম্পর্কিত নয়।
বর্তমানে পৃথিবীর সবচেয়ে প্রিয় গৃহপালিত প্রাণী বিড়াল একটি শ্বাপদ বর্গের অন্তর্গত স্তন্যপায়ী প্রাণী। এর বৈজ্ঞানিক নাম Felis silvestris catus বা Felis catus)। এরা খুবই আরামপ্রিয়। বাংলাদেশের প্রচলিতলোককথায় বিড়ালকে বাঘের মাসি বলে ডাকা হয়।
- বাংলা একটি সমৃদ্ধ ভাষা হওয়ায় এ ভাষায় একই শব্দ বাক্যের মধ্যে বিভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে থাকে। - 'যত বড় মুখ নয় তত বড় কথা' প্রবচনটিতে 'মুখ' শব্দটি আক্ষরিক অর্থ (প্রত্যঙ্গ) না বুঝিয়ে শক্তি বা স্পর্ধা অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। - অর্থাৎ, নিজের শক্তি বা যোগ্যতার চেয়ে বড় বা অহংকারী কথা বলাকে এখানে বোঝানো হয়েছে।
• ভুল অপশনগুলোর ব্যাখ্যাঃ - অনুভূতি: এখানে 'মুখ' দিয়ে অনুভূতি প্রকাশ পাচ্ছে না। - গালি: এখানে গালি দেওয়া অর্থে শব্দটি ব্যবহৃত হয়নি। - প্রত্যঙ্গ: আক্ষরিক অর্থে 'মুখ' মানবদেহের প্রত্যঙ্গ হলেও, এই বাক্যে তা লাক্ষণিক অর্থে (শক্তি/স্পর্ধা) ব্যবহৃত হয়েছে।
- 'হাত গুটানো' একটি বিশিষ্টার্থক শব্দ বা বাগধারা যার অর্থ কাজ থেকে বিরত থাকা বা কার্যে বিরতি। - বাংলা ভাষায় শব্দের প্রয়োগভেদে অর্থের পরিবর্তন ঘটে। এখানে 'হাত' শব্দটি অঙ্গ অর্থে ব্যবহৃত না হয়ে কর্ম বা কাজ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
• উদাহরণ: দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে হাত গুটিয়ে বসে থাকলে চলবে না।
• ভুল অপশনগুলোর ব্যাখ্যাঃ - দক্ষতা: দক্ষতা বোঝাতে 'হাত থাকা' বা 'হাত আসা' ব্যবহৃত হয় (যেমন: তার লেখার হাত ভালো)। - আয়ত্তে আনা: এর অর্থ 'হাত করা'। - হস্তচ্যুত হওয়া: এর অর্থ 'হাতছাড়া হওয়া' বা নিয়ন্ত্রণ হারানো।
Dog Days হলো একটি বহুল ব্যবহৃত ইংরেজি Idiom বা বাগধারা। ⇒ এর অর্থ হলো বছরের সবচেয়ে উষ্ণ বা তীব্র গরমের সময়কাল। ⇒ প্রাচীন রোমানদের বিশ্বাস অনুযায়ী 'Dog Star' (Sirius)-এর উদয়ের সাথে গ্রীষ্মের এই প্রচণ্ড গরমের সম্পর্ক ছিল। ⇒ সুতরাং, অপশনগুলোর মধ্যে Hot weather হলো এর সঠিক অর্থ।
- 'ঢাকের বাঁয়া' বাগধারাটির অর্থ হলো অপ্রয়োজনীয় বস্তু বা যার কোন মূল্য নেই। - ঢাক বাজানোর সময় বাঁয়া বা ছোট ঢাকটির খুব একটা প্রয়োজন পড়ে না, সেখান থেকেই এই বাগধারাটির উৎপত্তি।
• উদাহরণ: সংসারে তার মত ঢাকের বাঁয়া দিয়ে কোনো কাজ হবে না।
• ভুল অপশনগুলোর ব্যাখ্যাঃ - ডাকাবুকা: অত্যন্ত সাহসী বা দুরন্ত স্বভাবের। - তুলসি বনের বাঘ: ভণ্ড সাধু বা সাধু হিসেবে পরিচিত প্রকৃত দুর্জন। - তামার বিষ: অর্থের কুপ্রভাব বা অহংকার।
- 'কাক ভূষণ্ডি' বাগধারাটির অর্থ হলো দীর্ঘায়ু ব্যক্তি। - পুরাণ অনুসারে, ভূষণ্ডি কাক বহু যুগ ধরে জীবিত ছিল এবং সে যুগের পর যুগ ধরে রামায়ণ পাঠ করত। সেখান থেকেই দীর্ঘজীবী অর্থে এই বাগধারাটি বাংলায় প্রচলিত।
• ভুল অপশনগুলোর ব্যাখ্যাঃ - ষড়যন্ত্রকারী: ষড়যন্ত্রকারী বোঝাতে সাধারণত 'শকুনি মামা' বাগধারাটি ব্যবহৃত হয়। - বাকসর্বস্ব: যে শুধু কথাই বলে, কাজ করে না (যেমন: কথার কথা)। - দীর্ঘ প্রত্যক্ষমান: এটি সঠিক বা প্রচলিত কোনো অর্থ বহন করে না।
প্যাকেজ প্রয়োজন
প্রিমিয়াম প্যাকেজ প্রয়োজন
সকল বিষয়ের প্রশ্ন সার্চ, অধ্যায়ভিত্তিক ফিল্টার এবং পরবর্তী পৃষ্ঠাসমূহের প্রশ্ন আনলক করতে একটি প্যাকেজ সাবস্ক্রাইব করুন।
৮০,০০০+ বিগত সালের ও অধ্যায়ভিত্তিক প্রশ্নের সমাধান
স্মার্ট বিষয়, অধ্যায় ও ট্যাগ ভিত্তিক দ্রুত ফিল্টারিং